বিশ্ববিদ্যালয় একটি কারখানা!

প্রকাশঃ নভেম্বর ১৮, ২০১৭

ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। ২০১৫ সালের বেসরকারি উচ্চ শিক্ষার উপর অর্পিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে ‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ আন্দোলনের উদ্যোক্তা ও একজন অন্যতম সংগঠক তিনি।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে জড়িত আছেন প্রায় ১৮টি সংগঠনের সাথে। জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এই তরুণ উদ্যোক্তা নিজ গ্রামে স্কুল, পাঠাগার ও সামাজিক সংগঠন গড়ার পাশাপাশি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়েছেন ‘স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি সাহিত্য ফোরাম’। যা বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম কোন সাহিত্য সংগঠন।

গত বছরের ৭ নভেম্বর ক্লেমন কালারস এফএম ১০১.৬- ২০১৬ ‘কে হতে চাও ক্যাম্পাস স্টার’ প্রতিযোগিতায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ‘বেস্ট পাবলিক স্পিকার’ বা শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ২০১৬ সালে কালারস এফএম ১০১.৬ প্রতিযোগিতায় দেওয়া তার সেই বক্তব্যের সংক্ষেপিত ও সংযোজিত অংশ বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে পাঠকদের জন্যে তুলে ধরা হলো।

বিসমিল্লাহির রাহমানের রাহিম। বিচারকমণ্ডলী ও যারা এই মূহুর্তে আমাকে শুনছেন সবাইকে আমার ভালোবাসা। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যদি বলতে গিয়ে কোথাও ভুল করে ফেলি। আমি বক্তা নই, তবে বলতে পছন্দ করি। ভালোবাসি স্বপ্ন দেখতে। আমি বিশ্বাস করি স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু না। তাই সবাইকে স্বপ্ন দেখতে বলবো। স্বপ্ন সত্যি হোক বা অপূর্ণ থাকুক তবুও বাঁচতে হলে স্বপ্ন দেখুন। এই যেমন সকাল থেকে ভাবলাম সরাদিন বৃষ্টি হবে, শান্তির ঘুমে স্বপ্ন দেখবো, কিন্তু পত্রিকায় দেখেছি আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করলো। আমার বিশ্বাস মানুষ বড় হবার সাথে সাথে মানুষের স্বপ্নগুলোও বড় হতে থাকে। আপনাদের সামনে আজ যে আমি দাঁড়িয়ে আছি, সেটিও স্বপ্নের মতো।

এই মঞ্চে আমি এই প্রথম নই। কিন্তু এই প্রথম আমি এই মঞ্চে প্রতিযোগিতায় দাঁড়িয়েছি। আমি কাউকে প্রতিযোগী নয়, সবসময় সহযোগী ও বন্ধু মনে করি। প্রতিযোগিতার মঞ্চকে আমি ভয় পাই। কারণ মঞ্চ সবাইকে গ্রহণ করে না। যাদের করে তারা মঞ্চের অভিনেতা আমাদের চোখে। অডিয়েন্স যাকে সাপোর্ট দেয়, সে জীবনে অনেক দূরে এগিয়ে যায়। আমিও এগিয়ে যেতে চাই। সেটা কত দূরে তা কেবল মঞ্চই জানে? তবে সামনে যেতে চাই। এটাই বাস্তব সত্য। এই মুহুর্তে মঞ্চে যারা আমাকে শুনছেন, আমি তাদের ক্ষণিক সময় নষ্ট করে আমার স্বপ্নের কথা শুনাতে চাই।

আমি যে গ্রামে জন্মেছি, সেটি মেঠোপথের গ্রাম। এটি লক্ষ্মীপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ফরাশগঞ্জ। আমার পাশের গ্রামের নাম আন্দারমানিক। ঠিক অন্দকারের মতো গ্রামটি। মেঠোপথ আর সবুজ ছাড়া কংক্রিট আমার গ্রামে কিছুদিন আগেও দেখা যেত না। স্কুলগামী ছেলে মেয়েদের পায়ের দুলোয় দূসর হতো রাস্তার কিনারের সবুজ বৃক্ষ। আন্দারমানিকের পাশের গ্রামের ছোট্ট একটি ছেলে শিশির মাড়িয়ে, দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করে আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে। এটি কি স্বপ্ন নয়?

কদিন আগেও আমিই গ্রামের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলাম। এখন হাপ ডজনের মতো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর দেখা পাবেন সেখানে। আমি আমার গ্রামের একমাত্র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ছিলাম। এখন অর্ধশতাধিক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। আমিই প্রথম আমার গ্রাম থেকে মেঠোপথে ছোট্ট একটি সাইকেল চালিয়ে ১৬ মাইল দূরের স্কুলে আসা যাওয়া করতাম। সেই।

সাইকেলের প্যাডেলের শব্দ এখনো নিস্তব্দে অনুভব করি। একঝাঁক শিক্ষার্থী এখন স্কুলে যাচ্ছে পিচঢালা পথ পেছনে ফেলে। জীবনে প্রথম হওয়ার অনেক ইতিহাস আছে আমার, কিন্তু জীবনকে আমি প্রথম দিয়ে সব সময় মূল্যায়ন করি না।

আমার কাছে জীবন ভোরের শিশিরের মতো যেমনি সুন্দর, তেমনি উত্তাল সাগরে ভাসমান তরীর মতো চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত বাস্তবে চ্যালেঞ্জ ছাড়া কিছুই পাইনি। জন্ম থেকে দেখেছি শুধু অভাব অনটনের সংসার আর দিন শেষে আমাদের নিয়ে বাবা মায়ের জীবন চাকার অংক কষাকষি। সাত-ভাইবোনের সংসারে আন্দোলনই হয়ে উঠে আমাদের জীবন। তবুও আমরা পড়াশুনা ছাড়িনি। শত অভাবের মাঝেও নিজেকে বিরত রাখতে পারিনি বই পড়া থেকে। বই পড়তে হলে সাইকেল চালিয়ে যেতে হতো ১৬ মাইল দূরে জেলা শহরের গ্রন্থাগারে। এখন ঢাকায় থাকি বলে সেই গ্রন্থাগার থেকে আমার দূরত্ব বেড়েছে সত্য, কিন্তু বইয়ের সাথে দূরত্বহীন বাস করছি এখনো।

বইই জীবনের বড় বন্ধু। সবার কাছে যখন অবহেলা পেয়েছি, তখন বই আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে ভালোবাসতে হয় নিজেকে, প্রকৃতিকে, মানুষ এবং মানুষের সৃষ্টিকে। ৩২ মাইল দূরত্ব থেকে বই এনে পড়তাম। আমার ছোট্ট সাইকিলটি আমাকে বন্ধুর মতো বহন করতো। একদিন স্বপ্ন দেখি নিজ গ্রামেই প্রতিষ্ঠা করবো একটি পাঠাগার। তাহলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা কষ্টহীন বই পড়তে পারবে।

২০১৫ সালে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আলোকিত পাঠাগার থেকে গ্রামের শিক্ষার্থীরা এখন বই পড়ছে মনের আনন্দে। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরে ফরাশগঞ্জ গ্রামের প্রথম যে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার নাম ‘আলোকিত পাঠাগার’। পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করতে মঞ্চের এই ছোট্ট ছেলেটিকে অনেক কাঠখড়ি পোহাতে হয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই একদিন পাঠাগারে ভেতরে আমাকে তালাবদ্ধ করে রেখেছে দুষ্টচক্রের দল। আমি তাদের দুষ্ট বলছি কারণ তারা বইকে বুঝতে অক্ষম। তারাই ভেঙ্গে দিয়েছে পাঠাগারের সেলফের কাঁচ, সাইনবোর্ড। ভাড়া জায়গা থেকে বের করে দিয়েছে পাঠাগার। কিন্তু আমি হেরে যাইনি। আজ পাঠাগারে শতশত বই ও পাঠক। এর চেয়ে আনন্দ আর কি হতে পারে?

আমি যেই শহরে বাস করি সেটি ঢাকা শহর। এই শহর কারো আপন কারো পর। এই রকমারি শহর আমার গ্রামের প্রতি ভালোবাসা কমাতে পারেনি। শহরে ঘুমালেও রাতে স্বপ্ন দেখি আমার গ্রামের সবুজ বৃক্ষ, মেঠোপথের মানুষ, আলোকিত পাঠাগার আর আমার স্কুলের নিষ্পাপ শিশুদের মুখ।শিশুদের মুখগুলো সত্যি ফুলের মতো সুন্দর। এই হাসি দেখতে ছুটে যাই গ্রামে। এভাবে বুঝতে শিখি জীবন আর অর্থ এই দুইয়ের পিছনে ছুটতে গিয়ে গ্রামের অনেক পরিবার ভুলে যান তার সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাতে। বিদ্যালয় নামক আনন্দের স্থানটি বহু শিশুর জীবনে অজানাই থেকে যায়।ছক বা খয়ামাটির পরিবর্তে তারা হাতে তুলে নেয় ইটভাটার পোড়া মাটি। মানুষ গড়ার কারিগর থেকে তারা হয়ে উঠে ইট বানানোর কারিগর।

স্কুলের ঘা ঘেষে দাঁড়িয়ে আছে ব্রিকফিল্ডের লম্বা লম্বা থাম্বা। আমার স্কুলের শিশুরা বইতে আইফেল টাওয়ারের ছবি দেখে আর বাস্তবে সেটি মনে করে ইটভাটার চুঙ্গি আইফেল টাওয়ার। আমি হাসি, কিন্তু ভেতরটা জ্বলে উঠে। প্রাথমিকে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষা চালু আছে সত্যি, কিন্তু ব্রিকফিল্ডে একটি শিশুর এক মাসের আয় প্রাথমিকে সরকারের দেওয়া সরাবছরে অর্থের সমান নয়। বেশি টাকা পাওয়ার লোভে বিদ্যালয়ের চেয়ে ব্রিকফিল্ডকে যেই পিতা-মাতারা দামী ভাবেন, তাদের সন্তানরাই এক সময়

হয়ে উঠেন দক্ষ ইটের কারিগর। আমাদের শিশু শ্রমের বিরুদ্ধেও এক হতে হবে। কুয়াশায় থুরথুর কাঁপা আর গরমের ঘামাক্ত একটা ৭-৮ বছরের শিশুর ইট টানা দেখলে আপনার কঠিন হুদয়ও ফেটে চৌচির হবে। সত্যি এটা দেখা জন্যে আমি কখনোই প্রস্তুত ছিলাম না।

এভাবে গ্রামের ঝরেপড়া শিশুর সংখ্যা দিনদিনই বাড়ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকরা আগের মতো আন্তরিক ও যত্নশীল হলে ঝরেপড়া শিশুর সংখ্যা কমতো। আমিও আজ ঝরেপড়া শিশু হতাম যদি আমার পরিবার ও শিক্ষকরা আমার প্রতি আন্তরিক না হতেন। তাদের চেষ্টায় আমি হয়েছি কুমিল্লা অঞ্চলে প্রাথমিক বৃত্তিতে প্রথম। ঝরেপড়া শিশু যেন সমাজে না থাকে সেজন্যে গরিব, অসচেতন ও অবহেলিত শিশুদের জন্যে আমরা দুভাই ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করি আলোকিত স্কুল। বর্তমানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী সেই স্কুলে বিনা পয়সায় পড়াশুনা করছেন। আমার বিশ্বাস, সুযোগ পেলে আমার স্কুলের শিক্ষার্থীরাও একদিন এই মঞ্চে দাঁড়াতে পারবে।

আমি শুরুতেই আপনাদের বলেছিলাম আমি স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। একটা স্বপ্নের কথা আপনাদের আজ বলেই দিচ্ছি। আমি একটা কারখানা দিতে চাই। আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এটিও একটি কারখানা। বিশ্ববিদ্যালয় একটি কারখানা। এই মঞ্চটি হলো এই কারখানার শ্রেষ্ঠ মঞ্চ। যে মঞ্চের সামনে আপনারা বসে আছেন, সেটি হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কারখানার শ্রেষ্ঠ মঞ্চ। এই কারখানায় কোন পণ্য উৎপন্ন হয় না। এটি হলো মানুষ গড়ার কারখানা। যিনি এই কারখানাটি দিয়েছেন, আমি তাঁকে সেলুট জানাই।

আমার স্বপ্নের কারখানাটিও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কারখানা হবে বিশ্বাস করি। আমার মতো যারা বাবা মায়ের রক্তবেচা দামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবার স্বপ্ন দেখে, তাদের সেই কারখানায় অগ্রিম আমন্ত্রণ। মঞ্চের সামনে এমন কেউ থাকলে এই কারখানা গড়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসতে পারেন।

আমার কারখানার কোন শিক্ষার্থীকে মাত্র ৫ হাজার টাকা টিউশান ফি মওকুফের জন্যে মাসের পর মাস প্রেসিডেন্ট, উপাচার্য অফিসে ঘুরে ঘুরে ব্যর্থ হয়ে খালি হাতে ফিরতে হবে না। চার বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে অন্তত এতটুকু সহানুভূতি আমি পাইনি। আমি সবার চোখে তাকিয়েছি। কারো চোখে আমাদের জন্যে মায়া নেই। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমি রক্তে ধারণ করেছি। দিন-রাত বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে কাজ করেছি। সবই করেছি ভালোবেসে। সকালে একটি রুটি ও দিনে একবেলা খাবার খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করেছি। অথচ সার্টিফিকেট তুলতে মাত্র ৫ হাজার টাকা কম ছিল এবং মওকুফ চেয়েছি। মাত্র ২৩ হাজার টাকার জন্যে পাকা ধানের জমি বন্ধক দিয়েছি।

মায়ের গয়না বন্ধক দিয়ে গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট তুলেছি একটি চাকুরির আশায়। চাকুরির জন্যে ঘুরতে ঘুরতে জুতা ক্ষয় করেছি ভিসি, চেয়ারম্যান, ট্র্যাস্টি বোর্ডের ধারে ধারে। সবাই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমি এমন কারখানা দিতে চাই যেখানকার শিক্ষার্থীরা আমার মতো বাবা মায়ের দুচিন্তার কারণ না হয়ে তাঁদের চোখের স্বপ্ন হবে। আমার কারখানা থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের জমিতে পাকা ধান ঢেউ খেলবে। তাদের মনে থাকবে দেশগড়ার সুবর্ণ স্বপ্ন। আমার বিশ্বাস একজন

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর গর্জনে মাটি কেঁপে উঠবে। যেখানে অন্যায় সেখানে সে প্রতিবাদী হবে। অন্যায় জর্জরিত হবে তাদের কম্পনে। যেমনটি হয়েছিল ২০১৫ সালে ভ্যাট আন্দোলনের সময়।

আজ যে কথা বলার জন্যে এই মঞ্চে এতক্ষণ, সেটি হলো আমরা যারা মেঠোপথ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েছি, সেই মেঠোপথকে যেন কোনদিন ভুলে না যাই। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, মেঠোপথ না থাকলে এই পিচঢালা পথে আমরা আসতে পারতাম না। তাই যত বড় অফিসারই হই না কেন, অন্তত মেঠেপথের মানুষের জন্যে গ্রামে ফিরে যোতে হবে আমাদের। দেখবেন মানুষের আকুতি কখনো হাসবে, কখনো কাঁদবেন আবার কখনো ভাবাবে আপনাকে। আপনি তাদের সবার আবদার পূরণ নাও করতে পারেন, কিন্তু আমার মতো বিনেপয়সায় স্বপ্ন দেখানোর কাজটাতো করতে পারেন আনন্দের সাথে।

পুরো বক্তব্য থেকে সংক্ষেপিত…

কমেন্টস