সুচির কম্পিত কণ্ঠ, দর্শক শূন্য আসন মিয়ানমারের ‘মানবাধিকার’কে তুলে ধরেছে

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

চার লাখ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু অমানবিক সহিংসতার কারণে মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেলেও পূর্বঘোষিত ও বিশ্বের অতিকাঙ্খিত ‘লিখিত ভাষণ’ প্রদানকালে শান্তিতে নোবেল জয়ী ও গণতন্ত্রের প্রতিভূ অং সান সুচির কণ্ঠ ছিল জড়তায় কম্পিত এবং অসংলগ্ন ‘কেন’ জাতীয় প্রশ্নে ভরা।

তদুপরি ইউটিউবে সাউথ এশিয়ান মনিটরের ২৯ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপে দর্শকশ্রোতার অর্ধেক আসন ছিল জনশূন্য! এর সম্ভাব্য কারণটি তিনি নিজেই তথাকথিত ‘জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে’ বলেছেন, ‘ইট ইজ মোর দ্যান ডিপ্লোমেটিক ব্রিফিং’ অর্থাৎ ‘কূটনৈতিক ভাষণের চেয়েও সুদূরপ্রসারী’।

তাহলে কেন তিনি বিশ্বের অতীব কূটনৈতিক মঞ্চ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদান থেকে নিজেকে আগেভাগেই গুটিয়ে নিলেন? কেন সেখানে যাওয়া বাতিল করলেন? তবে কি বুঝে নিতে হবে, ওই চার লাখ পালিয়ে যাওয়া মানুষের আর্তির চেয়ে তার স্ববিরোধিতাপূর্ণ ‘মিয়ানমারে মানবাধিকার অটুট’ এবং গণরায়ে দেশের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জপূর্ণ ‘শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন’ ত্বরান্বিত করতে তার সরকার নৈতিকভাবেই সর্বোত বিশ্বাসযোগ্য? অথচ তিনি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর হওয়া সত্ত্বেও জানেন না, কেন তারা রাখাইন  রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেছে!

জানেন না, কেন অর্ধেক মুসলিম কমিউনিটি শান্তিপূর্ণভাবে সমৃদ্ধশীল সত্ত্বেও অন্যরা পারেনি! তারপরও তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলার পর বাস্তুচ্যুত ও ভস্মীভূত এলাকায় জাতিগত সম্প্রীতি গড়ায় তার সরকার ‘অক্লান্ত পরিশ্রম’ করছে। এমনকী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন চূড়ান্ত থাকলেও প্রতিপক্ষমন্ত্রী অন্যত্র ব্যস্ত থাকায়, তা সম্ভবপর হয়নি। এখন আবারও স্বাগত! এতে নিজস্ব ‘এনালজি’ থেকে অর্থাৎ সাদৃশ্য বর্ণনায় বলেছেন, দেহের সুস্থতা বলতে পুরো দেহকেই বোঝায়, একাংশের সুস্থতা নয়।

তথাপি আশার কথা, তিনি অন্তত বলেছেন, ১৯৩৩ সালের নাগরিকত্বের আইনগত ‘ভেরিফিকেশন’ করেই তার সরকার যে কোনো সময় শরণার্থীদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অন্যদের উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে তার সরকার ভীত নয়। তবে কি সুচির ওই কম্পিত কণ্ঠ, অসংলগ্ন ‘কেন’ ও দর্শকের অর্ধেক আসন জনশূন্য হওয়াটা মিয়ানমারে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবাধিকার সমুন্নত থাকার প্রতিচ্ছবি?

কমেন্টস