আমরণ অনশনে তৃতীয় দিনেও অনড় অবস্থানে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশঃ জুলাই ১৭, ২০১৭

আল আমিন, জাবি প্রতিনিধি-

মহাসড়ক ও উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ এবং ভাঙচুরের অভিযোগে ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশনের তৃতীয় দিন চলছে। শনিবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়া ৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় পাল্টা এক মৌন মিছিল পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক শিক্ষক।

রবিবার রাতে অনশনরত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪০ তম আবর্তনের পূজা বিশ্বাস, ইংরেজি বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের সর্দার জাহিদ ও একই বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের তাহমিনা জাহান তুলি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাদেরকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৌহিদ হাসান শাহ চৌধুরী বলেন, ‘তাঁদের পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে এবং রক্তচাপ কমে গেছে। গত দুই দিন যাবৎ না খাওয়ার কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।’

কর্তব্যরত আরেক চিকিৎসক ডা. বীরেন্দ্র কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘অনশনকারী সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে পূজা এবং জাহিদের শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে। তাদেরকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।’

জানা যায়, শনিবার বেলা ২টার দিকে সর্দার জাহিদ একাই অনশনে বসেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের পূজা বিশ্বাস (৪০ তম আবর্তন) তার সঙ্গে যোগ দেন। রাত ১২ টায় যোগ দেন ইংরেজি বিভাগের তাহমিনা জাহান তুলি (৪২ তম আবর্তন)। রবিবার সকাল ৮টার দিকে যোগ দেন আইন ও বিচার বিভাগের খান মুনতাসির আরমান (৪৩ তম আবর্তন) এরপর সকাল ১১ টার দিকে যোগ দেন খান মুনতাসির আরমান এবং সর্বশেষ যোগ দেন ফয়সাল আহমেদ রুদ্র। জাহিদ ও পূজা মামলার আসামি হলেও তুলি, আরমান ও রুদ্র মামলার আসামি নন।

অপরদিকে, রবিবার বিকালে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের এই আহ্বানকে প্রত্যাখান করেছে অনশনকারীরা।

সিন্ডিকেট সভা শেষে নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদেরকে অনশন তুলে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মামলা আদালতের অধীনে চলে যাওয়ায় এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে তুলে নেয়া সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে।”

প্রসঙ্গত, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৭ মে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকালে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমেন্টস