রাজপরিবারের গোপন আতাত প্রকাশ করলেন সৌদির যুবরাজ

প্রকাশঃ জুন ২৫, ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

২০১৫ সালের এপ্রিলে বাদশাহ সালমান পুত্রকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স বানান এবং কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান এবং দ্বিতীয় উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। তখন থেকে তিনি সৌদি আরবে ব্যাপক আর্থসামাজিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা (ভিশন ২০৩০) বাস্তবায়নের প্রকল্প হাতে নেন। বাদশাহর প্রতিনিধি বেইজিং, মস্কো এবং ওয়াশিংটন সফর করেছেন । সর্বশেষ মার্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি । ওই বৈঠকে ইরানকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্নেজা এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক ফ্রেডরিক ওয়েহরি বলেন, বাবা সালমান বাদশাহ’র দায়িত্ব নেয়ার পরপরই দ্রুতই নিজের প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন যুবরাজ। পাশাপাশি ক্ষমতার অস্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেন।

এদিকে, সৌদি রাজপরিবার থেকে নিজকে প্রত্যাহার করে নেয়া সৌদি প্রিন্স খালিদ বিন ফারহান আল-সৌদ দাবি করেন, সৌদি বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে রাজা হিসেবে দেখতে চাইছে।

বর্তমানে জার্মানিতে বসবাসরত ফারহান ২০১৩ সালে সৌদি রাজপরিবার ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশে আল্লাহর আইন বা শাসন নেই। আমি গর্বের সঙ্গে রাজপরিবার ছাড়ার কথা ঘোষণা করছি। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনের শাসন ও ধর্মের প্রতি সৌদি সরকারের সম্মানের যে কথা বলা হয় তা নিতান্তই মিথ্যা এবং দূরভিসন্ধিমূলক যাতে তারা দেখাতে পারেন যে, তারা ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগত রয়েছেন।

শনিবার টুইটার বার্তায় ফারহান বলেন, বাদশাহর মৃত্যুর পর বিন সালমানকে শর্তসাপেক্ষে রাজা হওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করবে ইসরায়েল ও সৌদি আরব। সৌদি রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্য থেকে একজন তাকে এই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

প্রথমত, বিন সালমানকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, গাজার অধিবাসীদের বিকল্প বসতি হিসেবে সিনাই উপত্যকা প্রস্তুত করতে হবে এবং এর অর্থ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত গ্রহণ করবে। তৃতীয়ত, হামাস এবং যারা একে সমর্থন করে তাদের পরিত্রাণ করতে হবে এবং মিশরের সানাফি দ্বীপের কর্তৃত্ব নিতে হবে। ফারহান বলেন শেষশর্তের মাধ্যমে আকাবা উপসাগরকে মিশরের আঞ্চলিক জলের উৎস থেকে আন্তর্জাতিক পানির উৎস হিসেবে পরিণত করা হবে। যা ইসরায়েলের প্রকল্পে পানি সরবরাহ করবে।

ফারহান আরো বলেন, এই বিষয়গুলো কেন্দ্র করে সাবেক সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মারা যাওয়ার আগ থেকেই সৌদি রাজপরিবারে অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন ক্রাউন প্রিন্স সালমান দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১৫ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর বাদশাহ সালমান ৭৯ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তিনি তাৎক্ষণিক ছেলে বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে বিন সালমানের প্রথম কাজ ছিল ২০১৫ সালের মার্চে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানের সূচনা।

অপরদিকে, ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ভাতিজা মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে নতুন যুবরাজ হিসেবে ছেলে বিন সালমানের নিয়োগ বাদশাহ সালমানের বিরুদ্ধে ‘মৃদু অভ্যুত্থান’র কারণে হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

Advertisement

কমেন্টস