Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'কথায় নয় কর্মে নারী-পুরুষ পাশাপাশি থাকবে'

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০১৮, ১১:০২ AM আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৮, ১১:০২ AM

bdmorning Image Preview


শাকিল নিয়াজ, খুবি প্রতিনিধিঃ

৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আর দিবসটি অনেকটা ঘটা করে পালন করা হয়। আর এ নারী দিবসকে কেন্দ্র করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবংপরিবারের কাছে কোনো ধরণের বৈষম্যের শিকার হতে হয় কিনা। সহপাঠীদের কাছ থেকে কি রকম সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থেকেন। যাতায়াতে কি ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়-

নুসরাত সৃষ্টি (স্থাপত্য বিভাগ)

নির্যাতন বলতে এখানে ঠিক কি বুঝানো হয়েছে তা আমি বুঝি নেই। তবে আমার মতে যে কোন মেয়ে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ তার সহপাঠীর কাছে, এমনকি সে তার প্রেমিকের কাছেও অতটা নিরাপদ না। কোন একবার গ্রুপ প্রজেক্ট এর সময় যে শিক্ষক কাজ দেখছিলেন তিনি সবসময় গ্রুপ এ যে ছেলে ছিল তাকে সবসময় জিগ্যেস করতেন। যেন মেয়েগুলো তার চোখ এ পড়তিসে না নয়ত মেয়েরা কোন কাজ ই পারে না। নতুন নতুন ভাইয়ারা যখন টিচার হয় তাদের অন্যতম প্রধান কাজ মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকা। একবার কলেজের ঈন্দ্রজিৎ স্যার এক আপুর গল্প বলতিসিলেন, ওই গল্পটাই বলি না হয়।

"এক আপু সবসময় গাড়ীতে করে যাতায়াত করত। একদিন কোন কারণে তার গাড়ী আসে নেই। তো সে বাস এ করে রওনা হল। কোন সিট না থাকায় তাকে দাড়িয়ে যেতে হয় তখন বাবার বয়সি একজন তার সাথে এমন এক ব্যবহার করল যার ফলে রাগ এ আপু ব্যাগ থেকে কম্পাস বের করে তার হাতে ডুকিয়ে দেয়, এরপর রক্তসহ কম্পাসটা জানালা দিয়া ফালায়া দেয়। আর সে আঙ্কেল আর লজ্জায় কিছু বলে নাই।

আর বাসা থেকে অনেক স্বাধীনতা পেয়েছি। এতদূরে খুলনা পাঠিয়েছে পড়তে যেখানে কাউকে চিনতাম না। কিন্তু সব মেয়ে এমন সুযোগ পায় না।  অনেকে চান্স পাওয়ার পরও বাসা থেকে দূরে যেতে দেয়া হয় না। এই চিন্তাটা মনে হয় একটু বদলানো দরকার। সমাজ এমন হওয়া উচিৎ যেখানে কথায় নয়, কর্মে নারী-পুরুষ পাশাপাশি থাকবে।

অনেকটা লেখক সুফিয়া কামালের লেখার মতো-

"যদি তুমি একা একা বিশ্ব জয় করো, তাহলে তো বিশ্ব জয়ের পর তুমি দেখবে তোমার পাশে তোমার অর্ধাঙ্গী নেই, তুমি একা। তোমাকে আবার পেছনে তাকাতে হবে, থেমে থাক।

আজরিন আসফার দ্রুতি (পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ) 

আমি কখনও কোনো সহপাঠীর কাছ থেকে নির্যাতনের শিকার হয়নি। বরং যেকোনো ছোট থেকে বড় ব্যাপারে সহপাঠীরা আমার সাথে সহযোগীতামূলক মনোভাব প্রকাশ করেছে।  বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসে "অন্যকে ছোটো করে বড় হওয়ার" মানসিকতাটা আসলে থাকে না সেরকম। কারণ, প্রত্যেকেরই ভালো এবং খারাপ বৈশিষ্ট্য থাকে। দুই-তিন মাস একসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পড়তে সবার মাঝে নিজের চিন্তার বাইরে যেয়ে আরেকজনের ভালো-মন্দ বিশ্লেষণ করার পরিপক্কতা চলে আসে।

মেয়ে ''শিক্ষার্থী'' হিসেবে কোনো বৈষম্যের মুখে পড়া না লাগলেও ডিসিপ্লিন থেকে যেকোন আয়োজিত কোন অনুষ্ঠান বা অতিরিক্ত পাঠক্রম সংক্রান্ত যেকোনো কাজকর্মে মেয়েদের কিছুটা কাজ করার সুযোগ কম দেয়া হয়। এবং এর অন্তরায় মূলত শিক্ষকরাই থাকেন।

আর যাতায়াতে সমস্যা বলতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেয়েদের অটোতে যাতায়াতকালে হয়রানির শিকার হওয়া লাগে। এসব পরিস্থিতিতে মেয়েরাও যেমন প্রতিবাদ করার নিদর্শন রাখছে, তেমন বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে আমরা এখনো এসকল পরিস্থিতিতে আশপাশের মানুষের কাছ থেকে যথেষ্ট সাহায্য পাচ্ছি।

পরিবারে মেয়েদের কতটুকু মূল্যায়ন করা হয়, সেটা পরিবারের মূল্যবোধের উপর নির্ভর করে। কিছু পরিবার থাকে, যারা মেয়েদের পড়ালেখা করায় একটা ভালো বিয়ে দেয়ার জন্য। আবার কোনো কোনো মা-বাবার স্বপ্ন থাকে তাদের কন্যাসন্তান বড় হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। তবে সামগ্রিক সমাজের চিন্তা করলে দ্বিতীয় চিন্তাধারার অবস্থান দিনে দিনে শক্ত হচ্ছে। নারীদের জন্য আলাদা কোনো সমাজের দরকার নাই। সমাজের সব পরিবার তো এক নীতিতে চলে না। প্রত্যেকটা পরিবারে একজন ছেলে আর মেয়েকে একই পরিমান সুযোগ-সুবিধা, মুল্যবোধ, দায়িত্ববোধ দিয়ে বড় করাটাই যথেষ্ট।

ফারজানা ইসলাম নাফিলা (আগ্রোটেকনলজি বিভাগ)

ছেলে সহপাঠীরা নিজেদেরকে সব কিছুর যোগ্য মনে করে, আর তারা মেয়েদেরকে দু্র্বল ভাবে। কিন্তু শিক্ষকরা খুব ভালো আচরণ করে আমাদের সাথে। তবে কিছু শিক্ষকের রক্ষণশীল মনোভাব পরিহার করা উচিত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছেলেরা বসে থাকে। মেয়েদেরকে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। ইদানীং ইজিবাইকের সামনের দিকের আয়নাগুলো এমনভাবে যাএীদের দিকে মুখ করে রাখা হয় যা মেয়েদের জন্য বিব্রতকর। পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়। নারী পুরুষের বৈষম্যহীন সমাজ এবং সেই সমাজ যেখানে নারীরা নারীদেরকে সম্মান দিতে জানবে।

ইশরাত ঈশিতা (ই.এস.)

শিক্ষার্থী হিসেবেই এখানে ছেলে মেয়ে সমান। আর শিক্ষকদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে থেকে পড়া শোনার ক্ষেত্রে। তাদের চোখে আমরা সব্ শিক্ষার্থী সমান। আর যাতায়াতের সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন   অনেক বয়স্ক লোক ও অনেক বাজে ইঙ্গিত করে। এবং এটা এখন খুব বেশি হয়।

আর পরিবারের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। নারীদের জন্য এমন একটা সমাজ দরকার যেখানে অন্তত তারা নিরাপদে চলাচল করার সাহস টুকু পাবে। এই ভয় নিয়ে তারা যেন বাড়ি থেকে বের না হয় যে, বাইরে কোন হয়রানির শিকার না হতে হয়।

নিশানা আক্তার (সমাজবিজ্ঞান)

মেয়ে শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের কাছ থেকে মাঝে মাঝে নীরব নির্যাতনের (বেঞ্চে বসতে যেয়ে,ধাক্কা লেগে কিংবা কোন হেল্প করতে যেয়ে ) শিকার হয়। সুন্দরীদের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরও তীব্রতর হয়। আর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে  কিছু কিছু শিক্ষক সামাজিক মাধ্যম কিংবা ক্লাসে মেয়েদের সাথে কথা বলতে পছন্দ করেন এক্ষেত্রে  শিক্ষকদের কাছ থেকে শারীরিক নির্যাতনের সুযোগ নেই তবে মানসিক ভাবে হ্যারাস হয় (যেমন-প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে না দিতে পারলে)। আর যাতায়াত কালে একজন নারী সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন-আটোর সিটে বসতে যেয়ে,ভাড়া দেওয়ার সময় হাতের স্পর্শ নিয়ে। লোকালয়হীন জায়গায় টিজ করার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে পরিবারে কথার মূল্যায়ন আছে। তবে সন্ধ্যার পরে বাইরে যাইতে দিবে না, বেশী ঘোরাঘুরি করা যাবে না এমন সীমাবদ্ধতা নিয়ে আসা হয়। তবে জরুরী প্রয়োজনে যেতে দেওয়া হয়। আমি চাই বৈষম্যহীন সমাজ চাই। নিম্নপদস্থ নারীরা বেশী শিকার হয়। তাদের সম্মান ও মর্যাদা বাড়াতে হবে।

অনিন্দিতা দত্ত (অর্থনীতি বিভাগ)

সহপাঠীদেদের কাছ থেকে কোন রকম নির্যাতনের হওয়ার সুযোগ নেই। তবে অনেকে ক্যাম্পাস লাইফে আড্ডাবাজি অন্য নিতে পারে অবশ্যই। অন্যদিকে শিক্ষকরা সন্তান সমতুল্য ভাবে আমদের গ্রহন করেন। আর যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভার্সিটি বাসে সমস্যা না হলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অনেক মেয়েই যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়। এর প্রধান কারণ পরিবহন সংকট।

আর পিতৃতন্ত্রের আধিপত্যবাদী মানসিকতা এখনো একটা আছে। শিক্ষিত সমাজে এখন অনেক কম। যে সমাজে নারীদের সুদৃঢ় অবস্থান ও আত্মমর্যাদায় বলীয়ান এমন সমাজ চাই।

Bootstrap Image Preview