Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

'নারীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি সমাজ চাই' 

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০১৮, ১২:২৬ PM আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৮, ১২:২৬ PM

bdmorning Image Preview


জয় জেমস কস্তা, কুয়েট প্রতিনিধিঃ

হোক সেটা মায়ের আদর কিংবা শাসন, হোক সেটা বোনের স্নেহ অথবা প্রেমিকার চোখের মায়া, সব কিছুর পেছনে একটা শব্দই কাজ করে তা হলও ‘নারী’। এই মূল্যবান শব্দটি কেমন আছে আমাদের সমাজে সেটা জানতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন নারী ইঞ্জিনিয়ারের সাথে কথা হয়। তাদের সকলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কিছু প্রশ্নের উত্তর। ক্লাসে সহপাঠী অথবা শিক্ষক দ্বারা কোনা প্রকার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন কিনা, যাতায়াতের সময় কোন ধরণের সমস্যা হয় কিনা, পরিবারে তাদের মূল্যায়ন কিভাবে করা হয়, তারা কি ধরণের সমাজ চায় ইত্যাদি-

সান্তা ইয়াসমিন (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) 

আমি কখনও কোনো সহপাঠীর কাছ থেকে কোনা প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়নি বরং অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। আর শিক্ষকেরা যথেষ্ট ভাল আচরন করেন, নিজের মেয়ের মত মনে করেন।

আর যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতায়াতের প্রসঙ্গে বলা হয় কুয়েটে বাসে কোন প্রকার সমস্যা হয় না। সবাই বন্ধু অথবা জুনিয়র সাথে সিনিয়র ভাইরা থাকেন। বরং সিট ছেড়ে দিয়ে নারীদের অগ্রাধীকার দেওয়া হয়।  অন্যদিকে পরিবার আমাকে সবসময় গুরুত্ব দিয়ে  আসচ্ছে। তা না হলে  শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এত বড় একটা ইঞ্জিয়ারিং প্রতিষ্ঠানে নারীদের ভূমিকা না হলে এখানে মেয়েরা পড়তে আসত না। তবে এক্ষেত্রে পরিবারের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি।

অরপা জাহান ( বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং)

আমি কখনও কোনো সহপাঠীর কাছ থেকে কোনা প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়নি। তবে আমার মতে যে কোন মেয়ে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ তার সহপাঠীর কাছে, এমনকি সে তার প্রেমিকের কাছেও অতটা নিরাপদ না। আর শিক্ষকরা খুব ভালো আচরণ করে আমাদের সাথে। আর যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভার্সিটি বাসে সমস্যা না হলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে অনেক মেয়েই যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়। এর প্রধান কারণ পরিবহন সংকট।

আর পরিবারের সবচেয়ে বড় সহযোগিতা হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে।

নিসাদ জামান (টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং)

আমি কখনও কোনো সহপাঠীর কাছ থেকে কোনা প্রকার নির্যাতনের শিকার হয়নি। শিক্ষার্থী হিসেবেই এখানে ছেলে মেয়ে সমান। আর শিক্ষকদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে থেকে পড়া শোনার ক্ষেত্রে। তাদের চোখে আমরা সব শিক্ষার্থী সমান। আর যাতায়াতের সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যেমন  অনেক বয়স্ক লোক ও অনেক বাজে ইঙ্গিত করে। এবং এটা এখন খুব বেশি হয়।

আর পরিবারের কাছ থেকে অনেক সাহায্য পেয়েছি। বাংলাদেশ এখন কিছুটা  হলেও বাল্যবিবাহ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক, নারী বৈষম্য থেকে দূরে এসেছে। আমরা পিছনে ফিরে তাকাতে চাই না, সামনে এগোতে চাই যেখানে নারী পুরুষ তাল মিলিয়ে ঘর বাহির দু’টোই সামলাবে। এগিয়ে যাবে দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ।

রমা হক (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং)

ছেলে সহপাঠীরা নিজেদেরকে সব কিছুর যোগ্য মনে করে, আর তারা মেয়েদেরকে দু্র্বল ভাবে। কিন্তু শিক্ষকরা খুব ভালো আচরণ করে আমাদের সাথে। আর যাতায়াত কালে একজন নারী সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়। যেমন-আটোর সিটে বসতে যেয়ে, ভাড়া দেওয়ার সময় হাতের স্পর্শ নিয়ে। লোকালয়হীন জায়গায় টিজ করার সম্ভাবনা থাকে।

অন্যদিকে পরিবারে কথার মূল্যায়ন আছে। তবে সন্ধ্যার পরে বাইরে যাইতে দিবে না, বেশী ঘোরাঘুরি করা যাবে না এমন সীমাবদ্ধতা নিয়ে আসা হয়। তবে জরুরী প্রয়োজনে যেতে দেওয়া হয়।

রোমানা করিম (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট)

এক কথায় বলা চলে না। আর  ক্লাসে শিক্ষকেরা যথেষ্ট ভাল আচরন করেন, নিজের মেয়ের মত মনে করেন। সব সহপাঠী তো একরকম হয় না তাই সবকিছু বিবেচনায় কুয়েট ক্যাম্পাসে মেয়েদের দাপট ভালই বলা চলে। একজন সাথে যোগ করেন এখানে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে কোন বৈষম্য নেই। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা সব কিছুতে তালে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

যাতায়াতের প্রসঙ্গে বলা হয় কুয়েটে বাসে কোন প্রকার সমস্যা হয় না। সবাই বন্ধু অথবা জুনিয়র সাথে সিনিয়র ভাইরা থাকেন। বরং সিট ছেড়ে দিয়ে নারীদের অগ্রাধীকার দেওয়া হয়। এ বিষয়ে অবশ্য একজনের একটি বক্তব্য মনে ধরার মত। তিনি বাসে সিট না পেলে দাঁড়িয়ে যেতেই আগ্রহী। ওনার মতে ছেলেরা যদি দাঁড়িয়ে যেতে পারে  তাহলে মেয়েরা  কেন পারবেনা। যেখানে নারীরাই ছেলে মেয়ের সমান অধিকার চায় সেখানে আমরা কেন বেশি অধিকার নিতে আসব।

আর পরিবারে তাদের সব সময় গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তবে সমাজটা যাতে নিরাপদ হয়, স্বাধীনতা যেন প্রতিটা কোণায় থাকে। তখন নারী হবে পরিপূর্ণ।

Bootstrap Image Preview