নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি কেবল স্লোগান

প্রকাশঃ মার্চ ৮, ২০১৮

শফিক আজম, রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি-

পৃথিবীতে যা কিছু মহান চির কল্যানকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর…কবির ভাষায় স্পষ্টতই বোঝা যায় নারী-পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত এই সমাজ। তবু আজ সমাজে নারীরা রয়েছে অনেক পিছিয়ে। নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি এখনোও পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেবল স্লোগান। আর নারীর স্বাধীনতার বিষয়টি যেন বেমানান। আজ আন্তর্জাাতিক নারী দিবস। সমাজে নারীদের অবস্থান আর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে।

দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহানা মুক্তি প্রতিদিন কলেজ বাসে যাওয়া আসা করে। তিনি বলেন, আমাদের মতামতের প্রাধাণ্য আছে, কিন্তু চলাফেরায় নিরাপত্তা নেই। কলেজ বাসে করে প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত হতে হয়। অত্যাধিক পরিমান শিক্ষার্থী থাকায় অনেক মেয়েকেই দাড়িয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। কিন্ত হঠাৎ করে ড্রাইভার কষে ব্রেক করলে অনাকাঙ্খিতভাবে ছেলেদের সাথে ধাক্কা লাগে। সে সময় যেসব বাজে মন্তব্য উঠে আসে তাতে বাসে,কলেজে বা বাসায় টিকে থাকা দায় হয়ে যায়। ঘটনার পর ছেলেদের হাসাহাসি আর কটুক্তিগুলো সব সময় কানে বাজতে থাকে।

“আমি চাই নিরাপদ থাকতে। বাসের ছেলেদের থেকে, অফিসের কলিগের থেকে, ডাক্তারের লোলুপ দৃষ্টি থেকে”

এদিকে সাদিয়া ফেরদৌস বলেন, আমাদের ক্লাসের সহপাঠীরা সবাই অনেক ভাল। শিক্ষকেরাও সব শিক্ষার্থীদের ছেলে মেয়ের মতোই ভাবেন। কখনও কারো দ্বারা কটু মন্তব্যের শিকার হইনি। তবে যাতায়াতে অনেক সময় সমস্যার সম্মুক্ষীন হতে হয়েছে। অনেক সময় বাসে কিংবা অটোরিকশাতে ছেলেদের পাশে সিট পড়লে তাদের কারণে ইতস্তত হতে হয়েছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হয়।

“আমরা মেয়েরা এমন কিছু না যে আমাদের আলাদা করে দেখতে হবে। আমরা সাধারণভাবে চলাফেরা করতে চাই। একটু স্বাধীনতা চাই”

একই কথা বলেছিলেন ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা রহমান। তার মতে বাসে বা অন্য যানবাহনে উঠেছ কোন পুরুষ বা ছেলেদের পাশে সিট পড়লে তারা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেক সময়েই বিবাদ এড়াতে গন্তব্যের আগে নেমে যাই।

‘কখনও ওড়না ধরে বা কখনও পাশে চেপে বসে। যানবাহনে বসলেও ইতস্তত লাগে। চলাফেরায় যেন কোন স্বাধীনতা নেই। আমরা বাইরের নই, মানুষের মধ্যে সাধারণ বোধটুকু উদয় হোক সেটাই আমি চাই’

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সম্পা খাতুন জানালেন, সাহিত্য নিয়ে পড়ার কারণে সব শিক্ষকদের আইকন্ট্রোল এক থাকে না। কেউ বচনে আঘাত করে, কেউ লোচনে। তবে শিক্ষকদের এতে দোষ নেই। আমরা অনেক সময় নিজেদের পোষাক পরিচ্ছদ আর ব্যবহার এমন করি যাতে এমন নজর সবার উপর পড়ে। আমাদের পরিবারের সাপোর্ট পর্যাপ্ত থাকলেও গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়। ইচ্ছে পূরণের কোন স্বাধীনতা পরিবার থেকে নেই। কারণ আমি মেয়ে, সমাজ আমার স্বাধীনতা মেনে নিবে না।

“আমরা মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে কোন অংশে কম নই। শুধু সমাজের ভ্রান্তধারণা মেয়েদের পিছিয়ে রেখেছে। আমরা গন্ডির মধ্যে থাকতে চাইনা। চাই একটু সুযোগ”

উম্মে সাওদা বলেছিলেন, আমাদের পড়াশোনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কম বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আমরা পারিনা নিজেদের লক্ষ্যে পৌছাতে। আমরা কর্মক্ষেত্রে যাওয়া আগেই যদি সংসার সামলাতে হয় তবে আমাদের ইচ্ছের স্বাধীনতা কোথায়?

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রাবনী জানালেন, মেয়েদের চিন্তা চেতনা ছেলেদের চেয়ে অনেক উন্নত। আমরা কেন অন্যের কাছে নিজেদের নিরাপত্তা চাইবো। অন্যদের কাছে কেন আমরা নিরাপদ হতে পারবো না। আমাদের কথা বলার মতো স্বাধীনতা থাকলেও পরক্ষনেই আমরা নিরাপদ না।

আদর্শ সমাজ গঠনে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য, তাই নারীর স্বাধীনতা অনিবার্য এবং সত্য। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরা থাকুক নিরাপদ। নারী দিবসে এই হোক কাম্য।

কমেন্টস