Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার বাহারি পাখি

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০:২০ PM আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১০:২৭ PM

bdmorning Image Preview


মোঃ আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধিঃ

একটা সময় ছিল যেখানে পাখির মিষ্টি সুমধুর ডাকে এদেশের গ্রামবাংলার মানুষের ঘুম ভাঙ্গতো। এখন আর সে আগের মতো গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে পাখির ডাক শোনা যায় না। কালের বিবর্তনের সাথে সাথে গ্রাম-বাংলার প্রকৃতি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

নির্বিঘ্নে বৃক্ষ নিধনে পাখির আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগের প্রভাবে অনেক পাখি আজ বিলুপ্ত প্রায়। জাতীয় পাখি দোয়েল, ঘুঘু, শালিক, টুনটুনি, কাঠঠোকরা, কোকিল, ডাহুক, বাবুই, মাছরাঙা, প্যাঁচাসহ আরো অনেক পাখিকে এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। শোনা যায়না এসব পাখির মিষ্টি মধুর কূজন।

আগে ভোরবেলায় পাখির কলতানে ঘুম ভাঙ্গতো, কিন্তু আজকাল আধুনিক যুগে ঘুম ভাঙ্গে যানবাহন ও মাইকের বিকট শব্দে। এক সময় রাতের প্রতিটি প্রহরে প্রহরে ডাকতো ডাহুক পাখি। পাখিদের নিয়ে কবিরা লিখেতেন কবিতা। কিন্তু এখন প্রহর শেষ হয়ে যায় কিন্তু পাখির ডাক আগের মতো আর শোনা যায় না। পরিতাপের বিষয় যে, বর্তমান প্রজন্ম এসব পাখি চিনেই না, এসব পাখির ডাক শোনেনি কোন দিন। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে এসব পাখি হয়ে যাচ্ছে গল্প আর ইতিহাস।

আমাদের দেশের জাতীয় পাখি হচ্ছে দোয়েল সেটিও আজকাল বই অথবা ছবিতে দেখিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে হয়। তারা কখনো দেখেনি মুক্ত আকাশে উড়ন্ত এসব নামকরা পাখি, শোনেনি পাখির ডাক বাংলার এসব ঐতিহ্যবাহী পাখিগুলো এভাবেই মানুষের অজান্তেই হারিয়ে যাচ্ছে দিনকে দিন।

বাংলাদেশে স্থানীয় পাখি ছাড়াও শীতমৌসুমে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে এদেশে শুধুমাত্র আশ্রয়ের জন্য আসে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি। যারা আমাদের দেশে অতিথি পাখি নামে পরিচিতি। এসব পাখিদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। সাধারণত এরা আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নেয় জলাভূমি, বিল, পুকুর, হাওর, নদীর তীরবর্তী এলাকায় । এসব অতিথিদের উপস্থিতিতে এসব জায়গার সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। কৌতূহলীদের ভিড় বেড়ে যায় তাদের দেখতে।

সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে অতিথি পাখির আনাগোনা আর দুঃখের বিষয় হল, অতিথি পাখিগুলো অসহায় হয়ে পড়ে কিছু অসাধু চক্রের কাছে। এরা পাখিগুলোকে বিক্রির উদ্দ্যেশে অবৈধভাবে শিকার করে। এছাড়াও বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় বিক্রি করে দেয়া হয় অতিথি পাখিগুলোকে। সামান্য লাভের জন্য আমাদের জীববৈচিত্র্যের যে কত বড় ক্ষতি হচ্ছে সামান্য বোধটুকু এসব অসাধু মানুষের ভেতর নেই। এদের হাত থেকে পাখিগুলোকে রক্ষাকরার জন্য সব ধরনের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। পাখি শিকার রোধে আইনের প্রয়োগ এবং শাস্তিপ্রদান দৃষ্টান্তমূলক হলে অপরাধীরা পাখি শিকারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

জীববৈচিত্র্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলার আগেই পাখিদের অবাধে বিচরণের জন্য আমাদেরকে তাদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে হবে। এসব অতিথিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে ধীরে ধীরে একসময় আমাদের সুপরিচিত পাখিগুলো বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।

Bootstrap Image Preview