Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৯ বুধবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

‘স্বপ্নবাজরা কখনো মরে না, তাঁরা আগামীকেও স্বপ্ন দেখায়’

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:৫০ PM আপডেট: ০৬ জানুয়ারী ২০১৮, ১০:৫৬ PM

bdmorning Image Preview


তামজিদ  হোসেন।।

যুগেযুগে পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেয় যে তাদের জন্য আমরা পৃথিবীকে এত সুন্দর দেখি। এই পৃথিবীকে আরো সুন্দর করার জন্য আমরাও নতুন  করে স্বপ্ন দেখি। তেমনি এক স্বপ্নবাজ হলেন “অলিম্পে দে-গোজ”। যিনি ছিলেন নারী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার একজন নিবেদিত প্রাণ।

“অলিম্পে দে-গোজ” জন্মগ্রহণ করেন ১৭৪৮ সালে ফ্রান্সের মন্টাওবান (বর্তমান ডিপার্টমেন্টঃটার্ন এট-গারন)শহরে। লেখক দার্শনিক সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রামী এই নারী ১৭৯১ সালে রচনা করেন “ নারী অধিকার ও সম-অধিকার সংক্রান্ত ঘোষনা”। বিদ্যালয়ে শিক্ষার কোনো সুযোগ না পাওয়ায় তাঁর রচনায় খানিকটা দূর্বল ছিল। কিন্তু দৃঢ়তা এবং একাগ্র চেষ্টার ফলে তিনি লেখক, দার্শনিক এবং মানবাধিকার আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে সমাজে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

সমাজের কাঠামোর মধ্যে অন্তর্নিহিত যে কোন অন্যায়ের বিরুধ্যে তাঁর লেখনি ছিল সেই যুগের বিদ্রোহী রচনা। দাস প্রথার বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গত্নক নাটিকা, বিবাহের ক্ষেত্রে নারী পুরুষের সমানাধিকার বিষয়ক প্রবন্ধ সহ নানা বিষয়ে তাঁর রচনা ছিল অবিরাম। লেখনী জীবনের শুরুর তিনি সাহিত্য রচনায় সচেষ্ট হন স্বশিক্ষিত এই বিদ্রোহী নারী।

ফরাশি বিপ্লবের অন্যতম অংশীদার “অলিম্পে দে- গোজ” বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে ঘোষিত “ নাগরিক অধিকার সনদে” মহিলাদের অধিকার নিশ্চিত না থাকায় তিনি রচনা করেন “নারী অধিকার সনদ”।

অলিম্পে দে- গোজ এর জীবন শৈশব কাল থেকেই অতিবাহিত হয় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। জীবন ব্যাপী এই প্রতিকূলতার মধ্যে বাস করার কারনে তিনি সমাজের সকল অসামান্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন প্রতিনিয়ত। তাঁর এই সোচ্চার কন্ঠস্বর সমাজের প্রতিনিধিদের ঈর্শ্বার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সমাজের প্রচলিত ধারার বিরুদ্ধে কার্য্যকলাপের জন্য তাঁকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয়।

তাঁর রচিত “নারীর সমানাধিকার” ঘোষনাটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন রানী ম্যারী এ্যানেটকে। “অলিম্পে দে- গোজ” এর  আশা ছিল রানীর নামে উৎসর্গ করার মাধ্যমে রাজপরিবারের সমর্থন পাবেন। সতেরোটি অনুষদ সম্পন্ন এই ঘোষণার ভূমিকায় তিনি আহ্বান জানান “ নারী সমাজ জাগ্রত হও। বিশ্বব্যাপী সত্যের আহ্বান আজ জাগ্রত এই লগ্নে অধিকার বিষয়ে জাগ্রত হও। অসত্য আর কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজকে আজ আলোকিত করতে ব্যার্থ হচ্ছে। আশার প্রতীক সত্যের শিখা উদ্ভাসিত হচ্ছে। তোমার শক্তি বিকশিত করে মুক্ত মানব হিসেবে নিজেকে প্রকাশ কর। হে নারী সমাজ নিজেকে অন্ধ না রেখে বিপ্লবের সুফল নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে শক্তি সঞ্চয় কর । কারণ এই বিপ্লবের তুমিও অংশীদার”।

শক্তিশালী শাসক গোষ্ঠি ‘অলিম্পে দে- গোজ’ এর মানবাধিকারের ঘোষনা এবং সমাজের অবিচার, অসাম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহীতা হিসেবে চিহ্নিত করে। ১৭৯৩ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় । তাঁর ফরাসী বিপ্লবের মূল বাণী, স্বাধীনতা এ ভ্রাতৃত্বে’র বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষনা করে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। ১৭৯৩ সালের ০৩’রা নভেম্বর মাত্র ৩৮ বছর বয়সে অলিম্পে দে- গোজ এর জীবনাবসান ঘটে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে।

কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন যে সত্য একদিন জয়ী হবেই।  বিশ্বজুড়ে মানবতার জয়গানে অসাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হবে। গোটা বিশ্ব সেই অসাম্প্রদায়িকতার মধ্যে লালন করবে মানবতাবোধ। 'নারী' হয়ে উঠবে মানুষ। নারীর উন্নয়নে আসবে অগ্রসরতা যখন সে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। যুগে যুগে তাঁর সেই বাণীকে ধারণ করেই নারীর অগ্রসরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সামনে জয়ের দর্পণ নিয়ে আসবে।

Bootstrap Image Preview