চাখারের জাদুঘরে যেন জীবন্ত শের-ই-বাংলা

প্রকাশঃ অক্টোবর ৮, ২০১৭

মশিউর দিপু, বরিশাল প্রতিনিধি-

শের-ই-বাংলা স্মৃতি জাদুঘর উপমহাদেশের অবিসংবাদিত মহান নেতা শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক-এর স্মৃতি রক্ষার জন্য ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাদুঘরটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামে এই স্মৃতি জাদুঘরটি অবস্থিত। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাথে যুক্ত স্বরূপকাঠিগামী পাকা সড়ক ধরে প্রায় ২২ কি.মি. পশ্চিম দিকে এগিয়ে গেলে গুয়াচিত্রা নামক বাসস্ট্যান্ড। এই বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩ কি.মি. উত্তর দিকে পাকা সড়কের মাথায় চাখার গ্রাম। ওই গ্রামের বাজার সংলগ্ন পূর্ব-পশ্চিমগামী পাকা সড়কের পাশে একতলাবিশিষ্ট দক্ষিণমুখী এ জাদুঘরটির অবস্থান।

পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট এ জাদুঘরে রয়েছে ৩টি প্রদর্শনী কক্ষ, ১টি দাপ্তরিক কক্ষ ও ১টি বিশ্রাম কক্ষ। এ জাদুঘর ভবনের পশ্চিমাংশে দর্শণার্থীদের জন্য শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া জাদুঘরের সামনে রয়েছে একটি সুন্দর ফুলের বাগান।

জাদুঘরের বাম দিকের প্রথম প্রদর্শনী গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে শের-ই- বাংলার ১টি বিশাল প্রতিকৃতি; তাঁর জীবন কর্মের বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, বংশ তালিকা; তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক দুর্লভ আলোকচিত্র এবং তাঁর নিজের হাতে লেখা চিঠিপত্র।

মাঝের গ্যালারিতে রয়েছে শের-ই-বাংলার ব্যবহার্য চেয়ার-টেবিল, হাতের লাঠি, পানি পানের গ্লাস, বিভিন্ন সময়ে শের-ই-বাংলার স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত মানপত্র, তাঁর সময়ে চাখারে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আলোকচিত্র এবং তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে দেয়া ১টি কুমিরের খোলস।

এছাড়া ডান দিকের শেষ গ্যালারিতে রয়েছে শের-ই-বাংলার ব্যবহার্য আরাম কেদারা, কাঠের খাট, তোষক, আলনা, ড্রেসিং টেবিল ও টুল।

জাদুঘরের প্রধান গেটের পাশেই রয়েছে টিকেট কাউন্টার। জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ১০ টাকা, তবে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য টিকেট ফ্রি। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫ টাকা। সার্কভুক্ত দেশের দর্শণার্থীর জন্য প্রবেশ মূল্য ২৫ টাকা এবং অন্যান্য বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রীস্মকালে (১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। তবে দুপুর ১টা থেকে ১.৩০টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টার জন্য বিরতি রয়েছে। আর শীতকালে (১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালেও দুপুর ১টা থেকে ১.৩০ পর্যন্ত বিরতি থাকে। আর সব সময়ের জন্য শুক্রবার জুম্মার নামাযের জন্য ১২:৩০টা থেকে ২:৩০টা পর্যন্ত বিরতি থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার বেলা ২.০০টা থেকে জাদুঘর খোলা থাকে। এছাড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে নির্দেশ মোতাবেক সরকারি যেকোন বিশেষ দিবসে জাদুঘর খোলা থাকে।

প্রসঙ্গতঃ শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ২৬ অক্টোবর, ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে বরিশালের রাজাপুর (বর্তমানে ঝালকাঠি জেলাধীন) থানার সাতুরিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে জম্মগ্রহণ করেন। তার পিতা- কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী এবং মাতা- বেগম সৈয়দুন্নেছা। কাজী মুহাম্মদ ওয়াজেদ আলী আইন ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন এবং চাখারে জমিদারী ও তালুক ক্রয় করে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হন। পিতা ওয়াজেদের মত শের-ই-বাংলা আইন পেশা গ্রহণ করেন। তিনি কলিকাতা হাইকোর্টে আইনব্যবসা শুরু করলেও পিতার মৃত্যুর পর ১৯০১ সালে বরিশালে আগমন করেন এবং বরিশালে আইন ব্যবসার পাশাপাশি চাখারের জমিদারী ও তালুক দেখাশুনা করেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের একটি নির্দিষ্ট সময় তিনি চাখারে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে কাটান। ২৭ এপ্রিল ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজে শেষ নিঃশ্বাসের ত্যাগ করেন ।

Advertisement

কমেন্টস