বিলীনের পথে ব্রিটিশ আমলের স্থাপত্যকীর্তি পঞ্চরত খ্যাত মঠ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭

মশিউর দিপু, বরিশাল প্রতিনিধি-

ব্রিটিশ ঔপ-নিবেশিক শাসন আমলে অনুমেয় ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোড়ালিয়া গ্রামে পঞ্চরত খ্যাত এই মঠটি নির্মান করা হয়। স্থানীয়দের কাছে এটি বড়দাকান্ত মঠ হিসেবেই বেশি পরিচিত।

দক্ষিণমুখী এ মঠটি আয়তাকার ভূমি পরিকল্পনায় নির্মাণ করা হয়। মঠটির পূর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য ১৩.২ মিটার ও উত্তর-দক্ষিণে প্রস্থ ১২.১৫ মিটার। দোতলাবিশিষ্ট এ মঠটির দেয়ালগুলো ৬০ সে.মি. চওড়া। মঠটির নিচতলার পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। উত্তর দেয়ালে পাঁচটি জানালা এবং পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দেয়ালে দুটি করে জানালা রয়েছে। নিচতলার প্রবেশপথ ও জানালাগুলো সমতল খিলানবিশিষ্ট।

নিচতলার অভ্যন্তরের মাঝখানে বর্গাকার দুটি কক্ষ এবং উত্তরাংশে পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা একটি কক্ষ রয়েছে। মাঝখানের বর্গাকার কক্ষদ্বয়ের প্রতিটিতে একটি করে প্রবেশপথ এবং দুটি করে জানালা রয়েছে। অনুমান করা হয় এখানে বলিদানের উদ্দ্যেশে গবাদি পশু রাখা হতো। উত্তরাংশের লম্বা কক্ষটিতে একটি প্রবেশপথ এবং সাতটি জানালা রয়েছে।

দোতলায় উঠার জন্য মঠটির দক্ষিণ দিক দিয়ে ২২ ধাপের একটি সিড়িঁ রয়েছে। সিড়িঁটি দুটি অর্ধবৃত্তাকার খিলানের উপর ভর করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিচতলার মাঝখানের কক্ষদ্বয়ের ঠিক বরাবর উপরে দোতলায় বর্গাকার দুটি কক্ষ রয়েছে। একই আদলে নির্মিত এ কক্ষদ্বয়ের প্রতিটির দক্ষিণ দেয়ালে একটি প্রবেশপথ ও ছোট দুটি জানালা এবং পূর্ব ও পশ্চিম দেয়ালে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। সামনের দক্ষিণ দেয়ালে বেলন আকার জোড়া কলাম নকশা ও উপরের প্যানেলে ফুল ও লতাপাতার অলংকরণ রয়েছে।

দোতলার কক্ষ দুটির উপরে একটি করে বড় আকারের গম্বুজ রয়েছে। বড় গম্বুজের চারকোণে চারটি করে ছোট গম্বুজ রয়েছে। ষড়ভুজাকার শিখরবিশিষ্ট ছোট ও বড় গম্বুজগুলোর উপরে আবার একটি করে অলংকৃত শীর্ষচূড়া রয়েছে। বড়গম্বুজ দুটির অভ্যন্তরে ছাদ অর্ধবৃত্তাকার। গম্বুজের অভ্যন্তরের ছাদের ঠিক মাঝখানে ফুলের অলংকরণ রয়েছে। ছাদের উপরে চারকোণে চারটি এবং মধ্যস্থলে একটি গম্বুজ বা চুড়া থাকার কারণে সম্ভবত এ মঠটিকে পঞ্চরত বলা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, তৎকালীন জমিদার বড়দাকান্ত মিত্র তার জমিদারী কার্য পরিচালনা ও ধর্মীয় কার্যাদী পালন করার লক্ষে এ মঠটি নির্মাণ করেন। ইট ও চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত এ মঠটির দোতলার সামনের দেয়ালে ‘সন ১৩০৬’ উৎকীর্ণ রয়েছে। বাংলা উৎকীর্ণ এ লেখা অনুযায়ী, প্রায় ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে মঠটি নির্মিত হয় বলে অনুমান করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঠটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, চোরের দল গম্বুজের ভিতর জমিদার গুপ্ত ধন রেখে গেছে ভেবে বিভিন্ন জায়গায় খোড়া খুড়ি করেছে। পুরাকীর্তি হিসেবে এই মঠটি সংস্কারের জন্য সরকারের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সরকারীভাবে মঠটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলে এ মঠটি হতে পারে দক্ষিনাঞ্চলের একটি পর্যটন কেন্দ্র।

Advertisement

কমেন্টস