মৃতদেহ শকুন দিয়ে খাইয়ে ‘সৎকার প্রথা’ পালন করে তিব্বতের বৌদ্ধরা!

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭

মশিউর জারিফ-

সাধারণ জ্ঞান পড়ার সময় আমরা অনেকেই নিষিদ্ধ দেশ বা শহর হিসেবে তিব্বতের নাম পড়েছি। সত্যিই রহস্য আর বিস্ময়ের দেশ তিব্বত। নিষিদ্ধ লাসাকে বলা হয়ে থাকে তিব্বতের রাজধানী শহর।

1_68182

শত শত বছর ধরে হিমালয়ের উত্তর অংশে দাঁড়িয়ে আছে তিব্বত নামের এই রহস্যময় রাজ্যটি। তিব্বতে যে কী আছে সে ব্যাপারে সবার মনে রয়েছে জিজ্ঞাসা। আজও সমগ্র বিশ্বের ভূগোলবিদদের কাছে তিব্বত রহস্যঘেরা এক মায়াপুরী।

6WzBkBZ

পৃথিবীর সকল দেশ সম্পর্কে সবাই বিস্তারিত জানলেও তিব্বতের মতো অজ্ঞাত দেশ পৃথিবীতে আর একটিও নেই। তিব্বতের প্রকৃতি ও পরিবেশ এতই দুর্গম যে তার কারণে এটি সবার কাছে অপরিচিত থেকে গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন বিদেশিদের প্রবেশ তিব্বতে একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল, যা আজও নানা নিয়মকানুনের বেড়াজালে ঘেরা।

11 Zhangmu Tibet

হিমালয়ের উত্তরে অবস্থিত এই পরাধীন দেশটি অত্যন্ত দুর্গম। বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমি আর বরফ গলা নদী নিয়ে জাদুময়ী এক রহস্যরাজ্য তিব্বত। লাসার অদূরেই অবস্থিত গোবি মরুভূমি। এই মরুভূমির কষ্টকর পরিবেশ মানুষকে কাছে যেতে নিরুৎসাহী করে। এই অঞ্চলগুলো এতই উঁচু যে একে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়। তিব্বতীয় মালভূমির গড় উচ্চতা ১৬,০০০ ফুট। বহির্বিশ্বের মানুষের প্রবেশাধিকার না থাকা, দুর্গম পরিবেশ, লামাদের কঠোরতা ইত্যাদি বিষয় তিব্বত সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল আরো বাড়িয়েছে।

214224kalerkantho_pic

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গণচীনের একটি স্বশাসিত অঞ্চল তিব্বত। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত এই অঞ্চলটি তিব্বতীয় জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। এই অঞ্চলটি চীনের অংশ হলেও এখানকার অনেক তিব্বতীয় এই অঞ্চলকে চীনের অংশ মানতে রাজি নয়। ১৯৫৯ সালে গণচীনের বিরুদ্ধে তিব্বতিরা স্বাধিকার আন্দোলনে করলে সেটি ব্যর্থ হয়। তখন দালাইলামার নেতৃত্বে অসংখ্য তিব্বতি ভারত সরকারের আশ্রয় গ্রহণ পূর্বক হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্বাধীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানেও তিব্বতিরা নিজেদেরকে চীনের অংশ হিসেবে ভাবেন না। তিব্বতের অধিকাংশ মানুষই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

1429438573

তিব্বতের রাজধানীর নাম লাসা। লাসা ইটালিয়ান শব্দ, যার অর্থ ‘ঈশ্বরের স্থান’। তিব্বতিদের জীবনে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। তাদের প্রধান ধর্মগুরু দালাইলামা। নামটি এখন সারাবিশ্বে পরিচিত। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তিব্বতে ‘লামা’ নামে পরিচিত। ‘লামা’ শব্দের অর্থ ‘প্রধান’। আর ‘দালাইলামা’ শব্দের অর্থ ‘জ্ঞান সমুদ্রের সর্বপ্রধান’। সোনার চূড়া দেওয়া ‘পোতালা’ প্রাসাদে দালাইলামা বাস করেন।

image

বিখ্যাত ‘পোতালা’ নামক প্রাসাদটিরও অবস্থান এই লাসায়। এই প্রাসাদটি বহির্বিশ্বের মানুষ সর্বপ্রথম দেখতে পায় ১৯০৪ সালে আমেরিকার ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক’ পত্রিকায়। তিব্বতের চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পাহাড় ও গুহা। সম্রাট সগেন পো লাসা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা। ৬৪১ সালে তিনি একটি বিরাট জলাশয় ভরাট করে প্রাসাদ ও মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তিব্বতের বিভিন্ন মন্দিরের ভেতরে সোনার তৈরি বড় বড় প্রদীপ মাখন দিয়ে জ্বালানো থাকে। চার হাজার ভরি ওজনের একটি প্রদীপও সেখানে আছে।

sky-burial-01

তিব্বতিদের জীবনব্যবস্থা ও সামাজিক রীতিনীতি তিব্বতকে আরো রহস্যময়ী করে তুলেছে। তারা দালাইলামা নির্বাচন করে এক অদ্ভুত রীতিতে। কোনো দালাইলামা মারা গেলে লামারা ধ্যানে বসে। তাদের মধ্যে প্রধান লামা তাঁর অলৌকিক অভিজ্ঞতায় একটি ছবি আঁকেন। তার পর কয়েকজন লামা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সেই ছবির অনুরূপ একজন শিশু অবতার খুঁজে বের করেন।

sky-burial-in-tibet

তিব্বতিদের খাবার-দাবারের মধ্যেও রয়েছে রহস্য। মজার ব্যাপার হলো, তিব্বতিরা উকুন খায়। একাধিক পর্যটকের বিবরণ থেকে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, বছর পঞ্চাশেক আগে এক পর্যটক সেই নিষিদ্ধ দেশে গিয়ে এ দৃশ্য দেখে লিখেছিলেন, “তিব্বতিরা সহজে গোসল করতে চায় না। শুকনো থাকার মধ্যে তাদের এক রকম স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে। তবে সেজন্য তাদের ভোগান্তিরও শেষ নেই। এ ক্ষেত্রে অনেকের দেহেই উকুন বাসা বাঁধে। মেয়েদের পরনে থাকে গরম কাপড়ের ছুপা, উপরে চাপানো থাকে রেশম, এন্ডি অথবা মুগার রঙিন জ্যাকেট। সেইসঙ্গে থাকে সুতির ঘাঘরা। পোশাকের যে অংশ গায়ের সঙ্গে সেঁটে থাকে, উকুন সেখানেই বাসা বাঁধে”।

Tibet_06_-_005_-_Potala_Palace_(147403406)

তিব্বতের লামারাসহ সাধারণ মানুষেরাও প্রেতাত্নাকে খুবই ভয় পায়। তারা সর্বদা প্রেতাত্মার ভয়ে আড়ষ্ট থাকে। লামারা প্রেতাত্মাদের খুঁজে বেড়ায় তাদের হাত থেকে সাধারণ মানুষদের রক্ষা করার জন্য।

Tibet_somoyerkonthosor

অধিকাংশ তিব্বতির ধারণা, মানুষের মৃত্যুর পর দেহের ভেতর থেকে প্রেতাত্মারা মুক্ত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। ওই প্রেতাত্মার লাশ সৎকার হওয়ার আগ পর্যন্ত সে মানুষের ক্ষতি করার জন্য ঘুরে বেড়ায়। তারা কখনও মানুষের উপর ভর করে, কখনো পশু-পাখি কিংবা কোনও গাছ অথবা পাথরের উপরও ভর করে। প্রেতাত্নাদের হাত থেকে বাচতে ও প্রেতাত্মাদের খুশি রাখতে তিব্বতিরা পূজা করে থাকে। এই পূজার আবার রয়েছে বিশেষ লগ্ন। লগ্নের সময় আসলে বিশেষ মুখোশ পরে ভূত-পিশাচ সেজে পূজা করে তিব্বতিরা।

Tibet_Tibbot_তিব্বত_Tebbot

তিব্বতে সরকারি ভাষা হিসেবে চীনা ভাষার প্রচলন থাকলেও তিব্বতিদের ভাষার রয়েছে সুপ্রাচীন ইতিহাস। তাই চীনের বেশ কিছু প্রদেশ এবং ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানে তিব্বতি ভাষাভাষী মানুষ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ভাষার আলাদা আলাদা ধরন রয়েছে। জনজাতি হিসেবে জোংখা, সিকিমি, শেরপা এবং লাদাখিরা যে ভাষায় কথা বলে সেই ভাষার সঙ্গে তিব্বতি ভাষার যথেষ্ট মিল রয়েছে। তিব্বতি ভাষার নিজস্ব লিপি এবং লিখন পদ্ধতি রয়েছে। সর্বত্র সে লিপির ব্যবহার নেই, তবে মূল ভিত্তি এ ভাষা থেকে এসেছে।

Tibet-4

তিব্বতিদের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আচার হলো মৃতদেহের সৎকার। এদের মৃতদেহ সৎকার পদ্ধতি খুবই অদ্ভুত। মৃত মানুষের দেহাবশেষ শকুন দ্বারা খাওয়ানোর এক অদ্ভুত প্রথা এই আকাশ সমাধি।

তিব্বতের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করে, এই প্রথা তাদের স্বর্গে যাবার ইচ্ছা পূরণ করতে সাহায্য করে। এই প্রথা তিব্বতে মৃতদেহ সৎকারের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত প্রথা।

তিব্বতের আকাশ সমাধির পদ্ধতিঃ

প্রস্তুতি ও মন্ত্রপাঠ- যখন একজন তিব্বতী মারা যায় তখন তার মৃতদেহ একধরণের সাদা কাপড়ে পেঁচিয়ে বাড়ির এক কোণে ৩-৫ দিন রেখে দেওয়া হয়। এই সময়ে সন্ন্যাসী বা লামারা এসে সেখানে জোরে জোরে ধর্মীয়গ্রন্থ পাঠ করে যাতে মৃতমানুষের আত্মাকে জীবদ্দশায় করা সব পাপ থেকে মুক্ত হতে পারে। এসময় বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা সব কাজকর্ম বন্ধ রেখে বাড়িতে নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখে যাতে মৃতদের আত্মা স্বর্গারোহণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পায়।

শকুনকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ- প্রস্তুতিপর্ব সমাপ্ত হলে মৃতের পরিবারের সদস্যরা একটি ভাল দিন দেখে মৃতদেহ আকাশস্থ সমাধির জন্য আবাসিক এলাকা থেকে দুরে উঁচু কোন পাহাড়ের ওপর সমাধিক্ষেত্রে শবযাত্রীদের দ্বারা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। সমাধিস্থ করার আগের দিন তারা মৃতদেহকে বিবস্ত্র করে, ঠিক যেমন জন্মের সময় সে বিবস্থ হয়ে এসেছিল, তেমন। সমাধির স্থানে নিয়ে মৃতদেহকে কোন সমতল স্থানে হাঁটু মুড়ে বসিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এরপর শকুনিদের আকৃষ্ট করার জন্য একধরণের ধোঁয়া সৃষ্টি করা হয়। সেসময় লামারা মন্ত্র পড়তে থাকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য এবং সৎকারের ব্যাপারে অভিজ্ঞ লোকেরা মৃতদেহের অন্তোষ্টিক্রিয়ার ব্যাপারে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে।

এই আকাশ সমাধির যে রেওয়াজ তিব্বতে প্রচলিত রয়েছে তা সেখানকার বৌদ্ধধর্মের মুলমন্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত। তিব্বতীরা বিশ্বাস করে, যদি শকুনরা এসে মৃতদেহটি খায় তবে তার মানে হলো, মৃতলোকটি সব পাপ থেকে মুক্ত এবং তার আত্মা শান্তিপূর্ণভাবে স্বর্গে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাই, যে পাহাড়ে মৃতদেহের সৎকার করা হয় তার আশেপাশে থাকা শকুনদের “পবিত্র পাখি” বলে মনে করা হয়, যারা শুধু মৃতদেহ খায় কিন্তু মৃতদেহের আশেপাশে থাকা অন্য প্রাণীদের আক্রমণ করে না। শকুনরা খাওয়ার পর মৃতদেহের যে অবশিষ্টাংশ পরে থাকে, তা লামাদের মন্ত্রপাঠ শেষ হবার আগেই একত্রিত করে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। তা না হলে মৃতদেহের আত্মা পাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে পৃথিবীতে থেকে যেতে পারে বলে তিব্বতীরা মনে করে।

tibet-883495_960_720

শুধু শকুন দিয়ে খাওয়ানোই নয়, এ আকাশ সমাধির রয়েছে আরো ভয়াবহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা। যে শবযাত্রীরা মৃতদেহকে পাহাড়ের উপরে নিয়ে যায় তারা পাহাড়ের উপরে সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে মৃতদেহকে ব্লেড দিয়ে কেটে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার তাদের মুখে কোন অনুতাপ বা দুঃখের চিহ্নও থাকে না। বরং তারা সে সময় জোরে জোরে হাসতে থাকে এবং আর দশটা স্বাভাবিক কাজের মতই খুব স্বাভাবিকভাবে এ কাজ সম্পূর্ণ করে। কেননা, তিব্বতী বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে হাসিখুশি পরিবেশ বজায় থাকলে মৃত শরীরটা সহজে পরবর্তী জীবনে প্রবেশ করতে পারে। মৃতদেহ সৎকার শেষ হলে এই শবযাত্রীরা মৃতের হাড় সংগ্রহ করে এবং তা গুঁড়ো করে একধরণের খাবারের সাথে মিশিয়ে সেটিও শকুনকে খাওয়ায়।

tibet-buddha-march2013

তিব্বতে মৃতদেহ সৎকারের বিভিন্ন প্রথায় নানা ধরণের বিধি-নিষেধ রয়েছে। আকাশ সমাধির বিভিন্ন ধাপেও রয়েছে নানা ধরণের বিধি-নিষেধ। যেমন, কোন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের মৃতদেহ সৎকারের আনু্ষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে পারবে না। তিব্বতীরা বিশ্বাস করে, এটি মৃত আত্মার স্বর্গারোহণে বাধার সৃষ্টি করে। আবার, পরিবারের সদস্যদেরও সমাধিক্ষেত্রে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয় না।

tibett_38955_0

তিব্বতে মৃতদেহ সৎকারের আরও যত প্রথা- আকাশ সমাধিই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত প্রথা হলেও এটি ছাড়াও তিব্বতে মৃতদেহ সৎকারের আরও কিছু প্রথা রয়েছে। এগুলো হলো, মৃতদেহকে বৌদ্ধস্তুপে সমাহিত করা, আগুনে সমাহিত করা, পানিতে সমাহিত করা, মাটিতে সমাহিত করা, পর্বতের চূড়ায় সমাহিত করা ও গাছে সমাহিত করা। মৃতদেহ কোন প্রথা অনুসারে সৎকার করা হবে তা পদমর্যাদা অনুসারে, ধর্মীয় সীমারেখা মেনে এবং লামার নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করা হয়।

dalai-lama-in-tawang_92c33f96-2656-11e7-a4a0-8e0501b9fa54-1

এসব অদ্ভুত কর্মকাণ্ডের বাইরেও তিব্বতের সামাজিক একটা অবস্থা রয়েছে। তিব্বতের সামাজিক অবস্থার কথা বলতে গেলে বলতে হয় এমন এক সমাজের কথা, যা গড়ে উঠেছিল আজ থেকে প্রায় ছয় হাজার বছর আগে। তখন পীত নদীর উপত্যকায় চীনারা জোয়ার ফলাতে শুরু করে। অন্যদিকে আরেকটি দল রয়ে যায় যাযাবর। তাদের মধ্য থেকেই তিব্বতি ও বর্মী সমাজের সূচনা হয়।

ঐতিহ্যগত তিব্বতি সমাজের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ যাযাবর বা রাখাল জীবনযাপন। ভেড়া, ছাগল ও ঘোড়া পালন তাদের প্রধান জীবিকা। শুধু চীনের তিব্বত স্বশাসিত অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এই যাযাবর রাখাল সম্প্রদায়। এরা কখনো চাষাবাদের কাজ করে না। মোট ভূমির ৬৯ শতাংশ এলাকা চারণ বা তৃণভূমি। চীনা ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে তিব্বতিরাও ভীষণ চা প্রিয়। তাদের বিশেষ চায়ে মেশানো হয় মাখন এবং লবণ। তবে তিব্বতিদের প্রধান খাবার হলো চমবা। গম এবং যবকে ভেজে পিষে নিয়ে চমবা তৈরি করা হয়। তারা খাবার পাত্র হিসেবে ব্যবহার করে কাঠের পেয়ালাকে।

আধুনিক বিশ্ব দিন দিন আধুনিক হলেও আজও তিব্বত বিশ্বে রহস্যময় একটি অঞ্চল। নিষিদ্ধ শহর লাসা আজও সবার কাছে আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু। বর্তমানে তিব্বতে রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তিব্বতের বর্তমান দালাইলামা দেশের বাইরে রয়েছেন ফলে সেখানে বর্তমানে দালাইলামার প্রভাবও অনেক হ্রাস পেয়েছে।

কমেন্টস