ঈদের ছুটিতে বাড়ী যাওয়া, মন পড়ে থাকবে ক্যাম্পাসে

প্রকাশঃ আগস্ট ২৮, ২০১৭

মো. নুর হোসেন ইমন, ঢাবি প্রতিনিধি-

এই সবুজ সমারোহে আমি প্রাণখোলা হাসি হেসে, তারুণ্যের তরুতলে উড়ে বেড়াই কৃষ্ণচূড়ার ডালে, শিমুলের সঙ্গে থাকি জারুলের সঙ্গে, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, শান্তির পায়রায় খানিক আড্ডায় মেতে থাকা ক্যাম্পাস, তুমি অক্লান্ত প্রিয়তমা আমার! অপার্থিব এই সান্নিধ্য ফেলে চায় না মন যেতে অন্য কোনো খানে, অন্য কোনো মনে, তবুও যেতে হয় তোমায় রেখে ক্ষণিকের নির্জনে সেই নাড়ির টানে’!

ঢাবি ক্যাম্পাসের এখনকার দৃশ্য দেখলে উপরের কথাগুলো মিলে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় ৩০ তারিখ থেকে ছুটি ঘোষণা করলেও ইতিমধ্যেই ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।ইদের অনাবিল আনন্দ পরিবার পরিজনের সাথে ভাগ করে নেয়ার আনন্দ সকল আনন্দকেকে তুচ্ছ করে দেয়।

FB_IMG_1503938554115

যেসব শিক্ষার্থীরা সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়ার জন্য পরিবার-পরিজন ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তাদের কাছে ঈদের আনন্দটা একটু ভিন্ন মাত্রার। প্রায় সব সময়ই কোন না কোন ক্লাস, পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনের চাপে থাকতে হয় তাদের। হৃদয়ে লালন করা হাজারো স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সর্বদাই তাদের বিরামহীন ছুটে চলা। ছুটতে ছুটতে এক সময় পেয়ে বসে ক্লান্তি। ক্লান্ত-শ্রান্ত মন চায় একটু বিশ্রাম। ছুটে যেতে চায় চেনা মুখগুলোর কাছে। পেতে চায় স্নেহময়ী মায়ের হাতের পরশ, যে পরশে রয়েছে পৃথিবীর সকল ক্লান্তি দূর করার যাদু। ইচ্ছে করে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে কিছুটা সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে এ রকম সময় পাওয়াটা হয়ে উঠে সোনার হরিণের মতো। তা ছাড়া সব সময় সব আত্মীয় স্বজনকে এক সঙ্গে পাওয়াও যায় না। তাই তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে কবে ক্যাম্পাস ছুটি হবে। বাজবে কাক্ষিত সেই ছুটির ঘণ্টা।

বিশেষ করে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এই অপেক্ষাটা একটু বেশি থাকে। ঈদের ছুটির দিনক্ষণ কবে ঘোষণা হবে সেই জন্য উতলা মন নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী। আর যখন সেই বহু আকাঙ্খিত ছুটির সন্ধান মেলে তখন শুরু হয়ে যায় বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। মূলত তখন থেকেই তাদের মনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় ঈদের আনন্দ। টিকেট কাটা থেকে শুরু করে কাপড়-চোপড় গুছানো সবকিছুতেই তখন বিরাজ করে উৎসব উৎসব আমেজ।

FB_IMG_1503938604543
ফেসবুকের কল্যাণে ক্যাম্পাস ছুটি হলেও বন্ধুদের বেশি মিস করার সুযোগ নেই। মুহুর্তের মধ্যেই জেনে যাওয়া যাবে হল এবং ডিপার্টমেন্টের বন্ধুদের সর্বশেষ খবর,এবং চাইলে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার পাশাপাশি আড্ডাও দেয়া যাবে ঘন্টার পর ঘন্টা।তবুও বিশেষ সময়ে একসাথে আড্ডা বা টিএসসি, ডাকসুর এক টাকার চায়ের কথা ক্ষণে ক্ষণেই মনে পড়ে যেতে পারে।

ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে যাওয়ায় চাই বাড়তি সতর্কতা: তাড়াহুড়ো করে নিজের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলে একদমই উচিত হবে না। আর তাই যাত্রা নিরাপদ করতে দেখেশুনে যাত্রা শুরু করা উচিত। যাত্রাকালে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভালো করে দেখে নিতে হবে। সঙ্গে পরিচয়পত্র নিতে ভুলা যাবে না, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিচয়, কর্মস্থান, পরিচিত জনের ফোন নম্বর অথবা নিজ পরিবারের কারো ঠিকানা একটি কাগজে লিখে মানি ব্যাগে রাখা যেতে পারে। টাকা পয়সা সাথে করে নিয়ে যাওয়ার সময় সব এক জায়গায় না রেখে বরং ভাগ ভাগ করে বিভিন্ন জায়গায় রাখা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর হ্যাঁ হল ছেড়ে বাড়ী যাওয়ার আগে জিনিসপত্র অবশ্যই ঘুছিয়ে রেখে যেতে হবে, নইলে ঈদ শেষে ফিরে এসে মেজাজ খারাপ করেও হারানো জিনিস ফিরে পাওয়া যাবে না।

FB_IMG_1503938496482

ঈদ আনন্দ যখন বেদনাময় হয়: প্রতি বছরই খবর পাওয়া যায় ঈদের ছুটিতে বাড়ী যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রী প্রাণ হারাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার ইচ্ছা করেও অনেকের তা পূরণ হয় না। সবাইকে দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে, কেউবা হচ্ছে চিরদিনের জন্য পঙ্গু। তাই এই অনাকাঙ্খিত বিপদ থেকে বাঁচতে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন প্রয়োজন।

ঈদের পরে ক্যাম্পাস: আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ঈদের ছুটির পর আবার ক্যাম্পাস খুলবে। ক্যাম্পাসে ফিরে পাবে তার নতুন প্রাণ। আবার মুখরিত হবে হাকিম চত্বর, টিএসসি, ভিসি চত্বরেরমত জায়গাগুলো।

ক্যাম্পাস খোলার পর প্রায় এক সপ্তাহ চলে কোলাকুলির আমেজ। ক্লাসে গিয়ে বন্ধুদের ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় এবং একসঙ্গে  ঘুরতে যাওয়ার নতুন নতুন প্লান নিয়ে সবই মিলিত হওয়া। বিভিন্ন সংগঠনের ঈদ পুনর্মিলনীতে ক্যাম্পাসে থাকে ঈদের আমেজ থাকে ঈদ পরবর্তী আরও প্রায় ১৫ দিন। তারপর আস্তে আস্তে আবার ডুবে যেতে হবে ক্লাস, এসাইনম্যান্ট ও পরিক্ষার মধ্যে।আবার শুরু হবে অপেক্ষার পালা এমন বিশেষ ছুটির ক্ষণের জন্য।

কমেন্টস