গল্পের নাম দিন!

প্রকাশঃ আগস্ট ১৯, ২০১৭

মেরিনা মিতু।।
হলুদ বাতির নিচে গন্তব্যহীনভাবে চলছে প্রিদ। “পা যুগল” এবার নালিশ করেই ফেললো,
“কোথায় বসবি! নাকি গাড়ির নিচে ফালামু!”
-সেকি কথা! দেহ না থাকিলে কিভাবে কি?
(শহরের দামী হোটেলের জংশনের আড়ালে এক কোণায় ছোট্ট চায়ের দোকানের চেয়ার টায় গুটিশুটি হয়ে বসলো প্রিদ)
এই দোকানটায় নিয়মিত চা আর তার সাথে টা খেতে চলে আসে প্রিদ।
আজ অবশ্য রোজকার মতো আসে নি। আজকের উদ্দেশ্য তো ভিন্ন!!!
নেহাত পায়ের নালিশ শুনে বাধ্য হয়ে বসলো।
রকস্টার আজ ঘুমুচ্ছে। (প্রিদের আদরের কুত্তাটা)
সে আবার রাজকীয় ঘুম দেয়। অতি সহজে তার ঘুম ভাংগে না। তবে আজ কেনো উঠে পড়লো!
হঠাত প্রিদ খেয়াল করলো তার পায়ের দিকে।
মোজা ছাড়া আজ পিংক কালারের জুতা পরেছে, সকাল থেকে হেটে যাচ্ছে। বুঝতে বাকি নেই তার।
ভাবা শেষে আবার নিজের পায়ের দিক তাকালো। ভুল করে ফেলেছে। মস্ত বড় ভুল।
পিংক হবে না। ব্রাউন কালার হবে। ধুলো ময়লাই পিংক আর পিংক নেই, ব্রাউন হয়ে গেছে।
সেকি!
সাদা জামাটি এমন “হলুদ সাদা” তে একাকার হলো কিভাবে?
মনে পড়ে যায় প্রিদের,
দুপুরে ৮০ টাকায় হাফ প্লেট কাচ্চি খেয়েছিলো। হাতটা জামাতেই মুছে নিয়েছিলো।
ভাবতে ভাবতে মনে মনে হাসতে লাগলো প্রিদ।
ইতিমধ্যে অপু চলে আসলো।
(মামার একমাত্র ছেলে, বয়স ৫ কি ৬ বছর। খরিদ্দার বেশি হলে বাবাকে সাহায্য করে অপু।)
__মেদাম, আজও কি বুম্বাই মরিচ দিয়ে হবে!
(পাশের দামী হোটেলের দরজা বাহক কে সারাক্ষন কাস্টমারদের মেডাম মেডাম ডাকতে শুনে, অপু ও তার খরিদ্দারদের মেদাম বলে ডাকে।
-আজ লাগবে নারে অপু।
[কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে অপু নিজের কাজে চলে যায় ]
প্রিদ এবার সুখ দুঃখের আলাপ শুরু করলো রকস্টার এর সাথে,
আজ প্রিদের অনেক অভিযোগ, অনেক ক্ষোভ।
-কিরে নেড়ি কুত্তা , শরীর ভালোনি!
__হুফ
-কাউকে পছন্দ হলে বলতে লজ্জা পাস? বলতে অসুবিধা হয়!
__হুফ
-কাউকে ছাড়তে চাস, সমাজ বাধা দেয়?
__হুফ
-কামোত্তেজনাতেও যতটুকু জানি আশপাশ দেখতে হয় না। হুহুহু…
__ হুফ
-আর সব থেকে বড় ব্যাপার! প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কয় টাকা খোয়াস??
জানিস আমাদের কয় টাকা দিতে হয়??
পাঁ……চ টাকা।
_হুফ
অপু আবার হাজির।
(হাতে চায়ের কাপ)।
__লন চা।
-খামু নারে।
__ টেহা লাগবো না। আব্বা দেহে নাই।
(চোখ ছলছল করে উঠে প্রিদের)।
চা কাপের দিকে তাকিয়ে …

Advertisement

কমেন্টস