মা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রকাশঃ মে ১৪, ২০১৭

বিধান মুখার্জী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি-

অপার এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মহাবিস্ময় প্রিয় মা। একটি মাত্র শব্দে জড়িয়ে আছে অপরিসীম স্নেহ, মমতা আর ভালোবাসার আকুলতা। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মধুরতম শব্দ ‘মা’।  মায়ের সঙ্গে সন্তানের গভীরতম সম্পর্কের কাছে সব সম্পর্কই যেন গৌণ। যে সম্পর্কের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্কের তুলনা চলে না। মায়ের তুলনা মা নিজেই। একটি আশ্রয়ের নাম ‘মা’। মা আমাদের ভরসাস্থল। একটি শব্দই মনে করিয়ে দেয় অকৃত্রিম স্নেহ, মমতা আর গভীর ভালোবাসার কথা। মা শাশ্বত, চিরন্তন। জন্মের পর একটি শিশু প্রথমে যে শব্দটা শেখে সেটা হচ্ছে ‘মা’।

‘মা’ এটি একটি এমন শব্দ, যা বিশ্বের যতগুলি প্রসিদ্ধ জীবন্ত ভাষা রয়েছে প্রায় সব ভাষায় ‘মা’ শব্দটির সাথে ‘ম’ অক্ষরটি বা ‘ম’ এর ধ্বনি লক্ষ্য করা যায়। তবে কিছু ভাষা এমনও রয়েছে যেখানে ‘ম’ নেই কিন্তু এসব ভাষার সংখ্যা খুবই কম।

একটি গোষ্ঠীর মতে ‘মা দিবসের’ সূত্রপাত প্রাচীন গ্রীসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে। যেখানে গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেল-এর উদ্দেশ্যে পালন করা হত একটি উৎসব। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুব এর সময়ে এবং তারপর রোমে আইডিস অফ মার্চ (১৫ই মার্চ) থেকে ১৮ই মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হত।

প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গিত আরো একটি ছুটির দিন ছিল, যদিও সেদিন মায়েদের উপহার দেওয়া হত।

১৯১২ সালে আনা জার্ভিস স্থাপন করেন মাদার’স ডে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোশিয়েশন্ (আন্তর্জাতিক মা দিবস সমিতি) এবং “মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার” আর “মা দিবস” এইসব শব্দবন্ধের বহুল প্রচার করেন।

মায়ের প্রতি অফুরন্ত ভালবাসা অন্তর্নিহিত থাকে প্রতিটি মানুষের এমনকি প্রতিটি প্রাণীর মাঝে। মা দিবসে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মায়ের প্রতি অকৃত্রিম সেই ভালবাসার কথাগুলো জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি বিধান মুখার্জী।

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার লিমা। উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে ছেড়ে আসতে হয়েছে মা, বাবা পরিজন সবাইকে। মায়ের অভাব অনুভব করেন সবসময়। মায়ের ভালোবাসার অভাবটা পূর্ণ হয়না কোন ভাবেই। মা দিবসে মায়ের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান-“যার মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখেছি কিংবা এখন কথা বলছি তাকে তো অবশ্যই নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসি। তাই তো আমার মাকে দেখতে চাই রত্নগর্ভা হিসেবে। মাকে এনে দিতে চাই পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট সুখ। আমার মতে মাকে ভালবাসার জন্য আলাদা কোন দিবসের প্রয়োজন নেই। তবে এই দিনে মাকে আলাদা করে বলি- মা, তোমার মুখের হাসি বড় ভালবাসি।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নূরে রাব্বি নাইম এসেছেন ফরিদপুর থেকে। বলছিলেন-“সবচেয়ে বেশি মিস করি মার হাতের খাবার, আদর, শাসন সবকিছুই। প্রতিবার মাকে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসটা উপহার দেই এই দিনে। এবার পরীক্ষার জন্য পারছি না। আজ মা দিবসে ‘মা’ তোমাকে খুব মনে পড়ছে। পড়াশুনার খাতিরে এই দিনটিতে তোমার পাশে থাকতে পারছি না বলে খুব খারাপ লাগছে। সর্বোপরি এটাই বলতে চাই ‌মা তোমাকে ভালোবাসি।”

বাগেরহাট থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জনে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জি. বিভাগের বিভাগের সাব্বির আহমেদ প্রিন্স। তিনি জানান-“জটিল শব্দের বিন্যাসে এই দিনের মাহাত্যকে বোঝানো সত্যি অনেক শক্ত। ভালোবাসার প্রকাশটা হওয়া উচিত সহজ ও প্রাণবন্ত। আর সেই ভালবাসার ক্ষেত্রটা যদি হয় পৃথিবীর সব থেকে আপন মানুষটি ”মা” কে ঘিরে, তখন প্রতিটি সন্তানের হৃদয়ের আবেগের সর্বচ্চ বহি:প্রকাশ ঘটে আজকের এই বিশেষ দিনটাতে । জানি ভালোবাসা প্রকাশে বিশেষ দিন একে বারেই নি:প্রয়োজন।”

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ ফয়সাল ক্যাম্পাসে বন্ধু, আড্ডা আর খেলাধুলার পাশাপাশি প্রচণ্ড ভাবে অনুভব করেন মা কাছে না থাকার শুন্যতাকে।মা দিবসে তার অনুভুতি জানতে চাইলে বললেন “মা কে সেই ছেলে বেলা থেকে কতটা ভালো লাগার মূহুর্ত উপহার দিতে পেরেছি সেটা সত্যি মনে করতে পারি না। ভালোবাসি কথাটি তোমার সম্মূখে দাড়িয়ে কোন দিন বলা হবে কি না জানিনা। কিন্তু আজ ”মা” তোমাকে হৃদয়ের অন্তরস্থল থেকে বলতে চাই সত্যি অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি তোমায় ।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম রুবেল জানান-“মায়ের তুলনা মা নিজেই। মাকে শ্রদ্ধা করি, মায়ের উপর কখনো রাগ করি, কখনো মন খুলে গল্প করি। এসব কিছু হচ্ছে ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। সন্তানের প্রতি মায়ের আশাও অনেক। সন্তান ভাল করবে, সবাই তাকে ভাল বলবে, দেশের মানুষ তার সন্তানকে নিয়ে গর্ব করবে। মায়ের এই সমস্ত আশা পূরণের মাধ্যমে মাকে খুশি করতে চাই’।

Advertisement

কমেন্টস