”হুট করেই দে ছুট, ব্যস্ত শহরকে জানিয়ে বিদায়”

প্রকাশঃ মার্চ ১৯, ২০১৭

আসাদুল্লা লায়ন-

”হুট করেই দে ছুট, ব্যস্ত শহরকে জানিয়ে বিদায়” যন্ত্র আর যান্ত্রিকতার শহরে ঘড়ির কাটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলা মানুষগুলোর প্রাণ যেন নিভে যাচ্ছে। এ যান্ত্রিকতা থেকে কে না চায় একটু প্রকৃতির ছোয়া পেতে, একটু সবুজের অরণ্যে ছুটাছুটি করতে কিংবা প্রাচীন স্থাপত্যে ঘুরে অলস সময় পার করে একটু সজীবতা পেতে। তেমনি রাজধানীর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র সাংবাদিকতা বিভাগের একদল শিক্ষার্থীরা ঘুরে এলো মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি। তাদের মধ্যে ছিলো রাজু রাজীব, সাইমুম সাদ, আসাদুল্লা লায়ন, মেহরাজ সম্রাট, ওয়াদুদ, তামিম আইমান।

ছবিতে ডান থেকে প্রথমে- লায়ন, ওয়াদুদ, সাদ, সম্রাট, তামিম, রাজীব।

ছবিতে ডান থেকে প্রথমে- লায়ন, ওয়াদুদ, সাদ, সম্রাট, তামিম, রাজীব।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক ’মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি’ সম্পর্কে। মুক্তাগাছার জমিদারির মোট অংশ ১৬টি। ১৬ জন জমিদার এখানে শাসন করতেন। মুক্তাগাছা রাজবাড়িটির প্রবেশমুখে রয়েছে বিশাল ফটক। প্রায় ১০০ একর জায়গার ওপর নির্মিত এই রাজবাড়িটি প্রাচীন স্থাপনাশৈলীর অনন্য নিদর্শন।

জমিদার আচার্য চৌধুরী বংশ মুক্তাগাছা শহরের গোড়াপত্তন করেন। আচার্য চৌধুরী বংশ শহরের গোড়াপত্তন করে এখানেই বসতি স্থাপন করেন। আচার্য চৌধুরী বংশের প্রথম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরী ছিলেন বগুড়ার বাসিন্দা। তিনি মুর্শিদাবাদের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ছিলেন নবাবের খুবই আস্থাভাজন। নবাবের দরবারে রাজস্ব বিভাগে কর্মরত থাকা অবস্থায় ১১৩২ সালে তিনি সেই সময়ের আলাপসিং পরগণার বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বর্তমানে মুক্তাগাছা শহরসহ মুক্তাগাছা উপজেলার বেশিরভাগই ছিল তৎকালীন আলাপসিং পরগণার অন্তর্ভুক্ত।

১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে পলাশীর যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নানা কারণে শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর ৪ ছেলে বগুড়া থেকে আলাপসিং-এ এসে বসবাসের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর এই ৪ ছেলে হচ্ছে রামরাম, হররাম, বিষ্ণুরাম ও শিবরাম। বসতি স্থাপনের আগে তারা এ পরগণার বিভিন্ন স্থান ঘুরে ফিরে দেখেন এবং বর্তমান মুক্তাগাছা এলাকায় বসতি স্থাপনের জন্য মনস্থির করেন।

''হুট করেই দে ছুট, ব্যস্ত শহরকে জানিয়ে বিদায়''

সে সময়ে আলাপসিং পরগণায় খুব একটা জনবসতি ছিলনা। চারদিকে ছিলো অরণ্য আর জলাভূমি। শ্রীকৃষ্ণ আচার্য্যের ৪ ছেলে ব্রহ্মপূত্র নদের শাখা নদী আয়মানের তীরবর্তী স্থানে নৌকা ভিড়িয়ে ছিলেন।

যা হোক এখন আসি মূল কথায়, সেদিন বৃহস্প্রতিবার বিকেল গড়াতেই সবাই ছুটলাম কমলাপুর রেল স্টেশনের দিকে। রেল স্টেশনে পৌছেই সাপের মতো একে-বেকে যাওয়া লম্বা লাইনে সবাই দন্ডায়মাণ লক্ষ ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী ট্রেনের টিকেট সংগ্রহ করা। এমন সময় ’ঝোপ বুজে কোপ(রুপক)’ তামিমের কৌশলে নিমিষেই পেয়ে গেলাম ময়মনসিংহগমী ট্রেনের টিকেট।

টিকেট হাতে পেয়েই ট্রেনে আসন পেতে ছুটলাম, কিন্তু ততক্ষণে ট্রেনের সবগুলো বগি কানায়-কানায় পূর্ন। ঘন্টাখানেক অপেক্ষার পর ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছুটল ট্রেনেটি। প্রায় পাচ ঘন্টা পর ময়মনসিংহে পৌছলাম আমরা, আর এ যাত্রা পথের পুরো সময় হৌহুল্লায় মাতিয়ে রেখেছিল প্রিয় রাজীব ও সাদ।

''হুট করেই দে ছুট, ব্যস্ত শহরকে জানিয়ে বিদায়''

ময়মনসিংহ শহরের একটি হেটেলে রাত যাপনের পর, সাজ সকালে বেরিয়ে পরলাম মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে, আর এই মুক্তাগাছা যাওয়ার পথে আমাদের সৌখিন অটো চালক রাজীব অটো চালিয়ে আমাদেরকে মুক্তাগাছা নিয়েছেন, যদিও সবাই আনাড়ি চালকের যাত্রী হয়ে ভীত ছিলো তবুও নিরাপদে পৌছে গেলাম মুক্তাগাছা জমিদার বাড়ি।

জমিদার বাড়ি পৌছেই চোখে পড়লো চোখ জোড়ানো অসাধারণ সব নকসা করা প্রাচীন স্থাপত্য। সময় হলো হলো ক্যামেরাবন্দী হওয়ার। ঐতিহ্য ধারণ করা প্রাচীন এ স্থাপত্যের সাথে দলবেধে জুড়ে নিলাম ছবি। এভাবে পুরো একটি দুপুর পার করার পর বের হলাম এ এলাকার ঐতিহ্যবাহী মন্ডার(মিষ্টি জাতীয় খাবার) খোঁজে। প্রায় ২০০ বছরে পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এ মন্ডা খাওয়ার পর মুক্তাগাছা জমিদার বাড়িকে বিদায় জানিয়ে ফিরে আসি। অামাদের এ ভ্রমণের পুরো সময়ে আনন্দ আর হৈহুল্লায় মাতিয়ে রেখেছিলেন সাইমুম সাদ।

Advertisement

কমেন্টস