কবি রজনীকান্তের কবিতার নায়ক বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির পথে

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৮, ২০১৭

সুমন মুখার্জী, নীলফামারী প্রতিনিধি-

‘বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টির, ঝড়ে।’

কবি রজনীকান্ত সেনের বিখ্যাত কবিতার নায়ক বাবুই পাখি আজ নীলফামারীসহ উত্তরাঞ্চলে হারিয়ে যেতে বসেছে। একসময় গ্রাম বাংলার গাছে গাছে বিশেষ করে তাল, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, বরই, বাঁশঝাড়সহ বিভিন্ন গাছে বাবুই পাখির বাসা শোভা পেতো।

পুরুষ বাবুইতো রীতিমতো আদর্শ প্রেমিক। কারণ সঙ্গীর মন জয় করতেই কঠোর পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে তিলে তিলে সে নির্মাণ করে এক একটি বাসা। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গী খুঁজতে।

দৃষ্টিনন্দন সেই বাসা বাতাসে নাগরদোলার মতো দোল খেতো। বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন  তেমনি মজবুত। শক্ত বুননের এ বাসাটি সহজে টেনে ছেড়া খুব কঠিন। বাতাস কিংবা ঝড়ো হাওয়াতেও টিকে থাকতো সেই বাসা। সেই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ উত্তরাঞ্চলে খুব একটা দেখা যায় না।

গ্রামাঞ্চলে বাবুই পাখির আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা, জমিতে কীটনাশক ব্যবহার এবং প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অনেক শিকারি বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ায় কমছে বাবুই পাখি।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যে লালিত বাবুই পাখিদের টিকিয়ে রাখার জন্য তাদের অভয়াশ্রম তৈরিসহ প্রয়াজনীয় পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে জানান পাখি প্রেমিক ও বিশেষজ্ঞরা।

কমেন্টস