২০১৭ এর মানবতার সত্যিকার আলোকবর্তিকা ‘ইত্যাদি’র জান্নাতুল বকিয়া

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৭, ২০১৭

হাকিম মাহি-

নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এর বিখ্যাত উক্তি “আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিবো”। আমি আমার এই সংক্ষিপ্ত জীবনে-প্রত্যাশিত শিক্ষিত ও সচেতন মায়ের জাতি দেখিনি, কিন্তু ইত্যাদির আশীর্বাদে গত ৩০ শে ডিসেম্বর ২০১৬ সেই কাঙ্ক্ষিত নেপোলিয়নের মায়ের জাতি জান্নাতুল বকিয়াকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তাই ইত্যাদিকে হাজারো প্রণাম জানাই।

মেয়েটির পুরো নাম জান্নাতুল বকিয়া মামুনি। সে কক্সবাজার সদর উপজেলা পোকখালী ইউনিয়নের বাবা আমানুল্লাহ আর মা নুরজাহান উল্লার তিন সন্তান এর মধ্যে জান্নাতুল বকিয়া একমাত্র কন্যা। জান্নাতুল বকিয়ার স্কুলের নাম পোকখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়।সে বর্তমানে সেখানকার দশম শ্রেণির ছাত্রী। এর মধ্যে মেয়েটির নিয়মানুবর্তিতা, নেতৃত্বদান, দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচিসহ নানা কাজে হয়েছে আদর্শবান ও ভূয়সী প্রশংসার অধিকারী। সে ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ক্লাস ক্যাপ্টেন হয়ে আসছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এক দিনের জন্যেও ক্লাস এ অনুপস্থিত থাকেনি। ঐ স্কুলে তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছে ‘দরিদ্র বন্ধু তহবিল’ এবং ২০ জন হতদরিদ্র শিক্ষার্থীর লেখাপড়া চলছে এই টাকায়। সে এখন ঐ বিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ক্যাবিনেটের সভাপতি। তাঁর  লক্ষ্য মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন বিলিয়ে দেওয়া।

মানুষ তাঁর স্বপ্ন, পরিশ্রম ও আশার মাঝে বেঁচে থাকে। যে মানুষগুলো নিজের ক্ষুদ্র চাওয়া-পাওয়াগুলো অপরের বৃহত্তর স্বার্থে বিলিয়ে দিতে চায় সে মানুষগুলোর  নির্দিষ্ট কোন ধর্ম নেই, কোন জাত নেই, বর্ণ নেই, নেই কোন দেশ এবং নির্দিষ্ট কোন ভাষাও নেই, কারণ সে মানুষ । তাই ঐ মর্মবাণীটি বলা যায় “সবার ওপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”।

জান্নাতুল বকিয়া তাঁর কাজের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানবতার লেবাসধারী মানুষরূপীদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চান মানবতার কাঁন্না আজ চারদিকে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট, জাতিতে জাতিতে বিভেদ, সংস্কৃতি ও কালচারের অবক্ষয়, দেশে দেশে জঙ্গিবাদ ও সভ্যতার ধ্বংসের হাতছানি, সব কিছুর পেছনে যেন একটি কালো ভয়ংকর থাবা রয়েছে। আপনি শুনতে পাননা, আপনি দেখতে পাননা, অন্তত মানবিকতার স্থানে দাড়িয়ে সহানুভূতিও তো দেখাতে পারেন! যদি না পারেন, এ থেকে বুঝা যায় আপনি হয়তবা মৃত্যু না হয় প্যারালাইসিসে আপনার সকল অনুভূতি শক্তি নষ্ট হয়ে গেছে অথবা আপনই এই ধ্বংসের মূল হোতা। আপনি সাম্প্রদায়িক, আপনার মানবতায় শোষিতের রক্তের গন্ধ।

জান্নাতুল বকিয়ার অঞ্চলের মানুষ ও স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মতামত শুনে বলা যায়, আমরা, আপনারা, যারা মানবতার কথা বলে মুখে খৈ ফুটাই কিন্তু কাজে মীরজাফরি করি, জান্নাতুল বকিয়া তাদের জন্য সাক্ষাৎ ভগবান ও মানবতার মূর্তপ্রতীক। আজ আমাদের উচিৎ দেশে দেশে জাতিগত ভঙ্গুর বৈশ্বিক সম্প্রীতিকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুনরায় ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। আর সবার সম্মিলিত কণ্ঠে বেজে উঠুক “পৃথিবী আমার, আমি পৃথিবী”। তাহলে এই সাতশ’ তেতাল্লিশ কোটি মানুষের পৃথিবী গড়ে উঠবে আনন্দের মিলন মেলায়। জান্নাতুল বকিয়া তুমি এগিয়ে যাও অবলা এই নারী জাতিকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার মত। আবার সবল করে তুলো। জাতি তোমারই প্রত্যাশায়।

কমেন্টস