শ্রেণী বৈষ্যমের বেড়াজাল আর প্রকৃতির ‘সীমানা পেরিয়ে’

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭

সুমাইয়া আকরাম ।।

আমাদের গ্রামীণ জীবনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক ভয়াবহ থাবা। প্রায় প্রতি বছরই এমন অনেক বড় বড় প্রাকৃতিক দূর্যোগের তাণ্ডবে সব শ্রেণীর মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসে। জীবন বাঁচা-মরা নিয়ে তখন লড়াই চলে। ক্ষুধা, বেঁচের থাকার আশ্বাস ও নিরাপত্তার জন্য হাহাকার চলে। এই দূর্যোগ ও এর কারণে মানূষের দূর্ভোগ নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু নাটক সিনেমা। তেমনি একটি সিনেমা হলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত ‘সীমানা পেরিয়ে’। সেকাল আর একালের সামাজিক বন্ধন, বৈষম্য, বাধা-নিষেধ, লিঙ্গভেদ ও যৌনতাকে ছাপিয়ে বাঁচার লড়াইয়ের গল্প এটি।

তখন সাল ১৯৭০। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘটে এক ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিচালক আলমগীর কবির নির্মাণ করেন ‘সীমানা পেরিয়ে’।সত্য কাহিনীকে অবলম্বন করে নির্মিত এই সিনেমার গল্পে পরিচালক সামাজিক বেড়াজাল, মনুষ্যত্ব ও মানবিক জীবনকে তুলে ধরেছেন। তার প্রয়াস ছিল বিপরীত লিঙ্গের প্রতি মানবিক আচরণ ও দূর্যোগের ভয়াবহতাকে একত্রিত করে কিভাবে নায়ক ও নায়িকা লড়াই করেন সেটি প্রমাণ করা। যার দরুন গল্পের চেয়েও পরিচালকের বক্তব্যই মূলত দর্শক-সমালোচকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সিনেমার পরিকল্পনা

দেশ স্বাধীনের আগের ঘটনা। ১৯৭০ সালে উপকূলবর্তী অঞ্চলে গভীররাতে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হয়। সমুদ্রের পানিতে ভেসে যায় মানুষ, ঘ্র-বাড়ি ও জীব-জন্তু। মহাদূর্গতিতে পড়ে যায় মানুষ। এই দুর্যোগের খবর সেসময় সংবাদপত্রগুলোতেও প্রকাশিত হয়। মানুষের দুখ-কষ্ট, হাহাকার ছাপিয়ে তারা বেঁচে থাকার চেষ্টায় রত। এমন সময়ে মাস তিনেক পর পত্রিকায় এক চাঞ্চল্যকর খবর ছাপা হয়। খবরে আসে বরিশাল জেলার দক্ষিনে একটি সামুদ্রিক চরে কাকতালীয়ভাবে একজন গ্রাম্য তরুণ ও একজন শহুরে তরুণীকে দেখা গেছে যারা কোনভাবে জলোচ্ছ্বাস থেকে বেঁচে ভাসতে ভাসতে আশ্রয় নিয়েছে সেই চরে।

শুরু হত তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক এক জন এক এক দৃষ্টিতে দেখে। এমনকি নানান মন্তব্য করেন। তবে চমকপ্রদ এই ঘটনা নিয়ে গভীর ভাবনায় পড়েন আলমগীর কবির। কি করে এক জোড়া নারী-পুরুষ তিন মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একটি চরে বেঁচে থেকে বসবাস করল!

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেসে যাওয়া ক্ষুধা, নিরাপত্তা আর বেঁচে থাকার লড়াইয়ে শ্রেণী বৈষম্যের দু’টি ভিন্ন সমাজ ব্যবস্থা ও ভিন্ন সংস্কৃতির দু’জন মানুষ। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা মানিয়ে নেয় একে অপরকে। তৈরি হয় এক আশ্চর্য সুন্দর ও অদ্ভুতুড়ে সম্পর্ক। এ সম্পর্ক নারী-পুরুষের স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণ নয়, প্রেম, মোহ, ভালবাসা নয়! ছোট-বড়, ধনী-গরিব এই সামাজিক ব্যবধানের ছাপিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদ ছিল তাঁদের মূল আশা।

শ্রেণী বৈষ্যমের বেড়াজাল আর প্রকৃতির 'সীমানা পেরিয়ে'

এইভাবে একজোড়া নারী-পুরুষের বেঁচে থাকা ও বসবাসের বিষয়টি আলমগীর কবিরের কাছে সবার থেকে আলাদা মনে হয়। তিনি শুরু করেন এই ঘটনাটি নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মানের কথা ভাবা ও সিনেমার পরিকল্পনা। সত্যি এমন হলে কেমন হত? পরিচালক সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন। কেমন হতে পারে সেই সময়গুলো? কি কি প্রতিবন্ধকতাগুলোকে কাঁটিয়ে বাঁচার লড়াই করেছিল সেই তরুণ-তরুণী? এসব ভাবনা থেকেই তিনি সামনে নিয়ে আসেন এই গল্প আর সমাধানের পথ।

সিনেমার কাজ শুরু হয় ১৯৭৫ সালে। ছবিটি নির্মাণ করতে আলমগীর অধিনায়ক নুরুল হক বি. এন. চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ওয়াটার এন্ড ইনল্যান্ড ট্রান্সপর্টেসন অথোরিটি এর সহযোগিতা নেন। বেঁচে থাকার সংগ্রাম নিয়েই সীমানা পেরিয়ে ছবির কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। পরিচালক নিজেই ছবিটিকে একটি ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র হিসেকে আখ্যায়িত করেন। সমাজের ওপর তলা আর নীচতলার মানুষের মাঝে স্বাভাবিক কোন সম্পর্ক আদৌ সম্ভব কিনা সে বিষয়ে পরিচালক নিজেও সন্দিহান ছিলেন।

সিনেমার শুরুতেই পরিচালক আলমগীর কবির কৌশলে সিনেমার মূল বার্তা দর্শকদের কাছে পৌছে দিতে সক্ষম হন। যার দরুন এর প্রথম দৃশ্যটি যতই নাটকীয় হোক না কেন তবে তাৎপর্যবহ। এরপরের দশ মিনিটেই প্রধান তিন চরিত্রের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করা যায়।

চরিত্র তিনটি হচ্ছে- ছবির নায়িকা টিনা ও তার বাবা-মা। টিনার পরিবার শিক্ষিত, আধুনিক মনস্ক এবং বিত্তশালী। কিন্তু তিনটি প্রাণীই নিজ নিজ ভুবনে নি:সঙ্গ এবং অসুখী। তাদের মধ্যকার মানসিক দ্বন্দ্বটাও সুষ্পষ্ট। ছবির প্রথমেই টিনার পরিবারের মধ্য দিয়ে পরিচালক এক রকম উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই শহুরে পরিবারের সামগ্রিক চিত্রটি দর্শকদের মনে ছেপে দিয়েছেন।

তবে ছবির মূল ঘটনা শুরু হয় নায়িকা তার মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাবার পর। গ্রামে গিয়ে টিনা তাদের পারিবারিক ইতিহাস জানতে পারে, জানতে পারে তার মায়ের কিশোরী বয়সের প্রেমের কথা। টিনা পরিচিত হয় এক সময়কার বামপন্থী রাজনীতিকও রতন মামার সঙ্গে। যিনি পাল্টে দিতে চাইতেন সমাজ ব্যবস্থাকে। গ্রামের সহজ সরল খেটে খাওয়া অভাবী মানুষগুলোর সঙ্গে টিনার পরিচয় তাকে ভাবিয়ে তুলে। কিন্তু সময় যেতে না যেতেই প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাস ওলট-পালট করে দেয় সব, সাথে টিনার পৃথিবীও। এরপরেই নিজেকে সে জীবিত আবিষ্কার করে অজানা এক দ্বীপে। একমাত্র সঙ্গী বলতে গ্রামের অশিক্ষিত যুবক কালু। এখান থেকেই পরিচালকের ফ্যান্টাসী ভাবনা, সিনেমার গল্প ও শুরু হয় এক জীবনের হাতছানি।

এভাবে কাহিনী আগাতে থাকলেও ছবির শেষ দৃশ্যেও প্রথম দৃশ্যে উঠে আসা বক্তব্যগুলোই আবার প্রতিধ্বিনিত হয় ছবির নায়িকা টিনার মুখে। দীপ্ত কন্ঠে টিনা তার বাবাকে বলে তবে যেন সে সকল দর্শককেই সতর্কবার্তা শুনিয়ে বলছে, ‘কীসে তোমার এত অহংকার ড্যাডি যে কালুর মত একজন সৎ ও বুদ্ধিমান মানুষকে তুমি তোমার সমান বলে মেনে নিতে পারছোনা? কিন্তু জানো ওরাই হচ্ছে সাইলেন্ট মেজরিটি। এখন হয়ত ওরা ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু একদিন ওরা জাগবে। তাই আমি এখন থেকেই ওদের দলে মিশে যাচ্ছি। তুমি যদি সত্যি সত্যি বুদ্ধিমান হও তাহলে তোমার এই মিথ্যে অহংকার ছেড়ে ওদের সঙ্গে দলে এসে যোগ দাও।’

‘সীমানা পেরিয়ে’ সিনেমাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে অভিনয় আর সংলাপ। এ ছবিতে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রখ্যাত অভিনয়শিল্পী। বাংলাদেশের মহানায়ক বুলবুল এর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন মিস কলকাতা জয়শ্রী কবির। গ্রাম্য যুবক কালুর চরিত্রে বুলবুল আহমেদ অনবদ্য কাজ দেখিয়েছেন। পুরো ছবি জুড়ে তার উপস্থিতিতে ছিলো নিষ্ঠা আর পেশাদারিত্বের ছাপ। পরিশ্রমের ফলটাও পেয়েছেন দারুনভাবে। শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারটি ঘরে তুলেছেন।

ছবির আলোচ্য বিষয় হচ্ছে নায়িকা জয়শ্রী কবির ও তার অভিনয়। বাংলা সিনেমার এক অনন্য রূপসী! এই বিদেশিনীর তুলনা নেই, যেন শুধু তিনি নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী। ছবিতে যেমন দরকার ঠিক তেমন করেই নিজেকে আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন নায়িকা, তবে পরিচালকও এখানে অক্লান্তভাবে তার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।চ দেশীয় প্রেক্ষাপটের কথা মাথায় রেখে যথেষ্ট মার্জিতভাবে ছিলেন জয়শ্রী। কোন আদিখ্যেত জাঁকজমক নেই তবুও অপরূপ জয়শ্রী। তার ন্যাকা ন্যাকা কন্ঠে সংলাপ বলাটাও ভালো লেগে যায়। শাড়ি পড়ে পাহাড়ি মেয়ের সাজে যেন সাত আসমান থেকে নেমে আসা এক অপ্সরী!

অভিনয়

বুলবুল আহমেদ: রোমান্সের দিক থেকে বুলবুল আহমেদ এর স্থান দেশের অন্য সবার থেকে আলাদা। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে বেশির ভাগ ছবিতেই দেখা যেত শহরে বাস করা স্মার্ট ছেলের চরিত্রে। কিন্তু সীমানা পেরিয়েতে তার চরিত্র একেবারে উল্টো। গ্রামের অশিক্ষিত ছেলে তার উপর তোতলা। অনেক অভিনেতার ক্ষেত্রে দেখা যায় তোতলামীতে ভাড়ামী করে কিন্তু মহানায়ক বুরবুল আহমেদ কালু চরিত্রটি কোনরূপ ভাড়ামী বা ওভারঅ্যাক্টিং ছাড়া নিঁখুত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

জয়শ্রী কবির: মিস কলকাতা খ্যাত জয়শ্রী কবির প্রবাসী স্মার্ট মেয়ের চরিত্রে যেমন অভিনয় করেছেন, এমন অভিনয় অন্যদের কমই দেখা যায়। ইদানিং দেশে অনেক ছবিতে এই ধরনের চরিত্র থাকছে কিন্তু কেউ অতটা সাবলিল না যতটা না জয়শ্রী কবির। স্বামীর (আলমগীর কবির) নির্দেশনায় একেবারে নিঁখুত অভিনয়।

গোলাম মুস্তাফা: দেশের কীর্তিমানদের মধ্যে তিনি অন্যতম। অভিনয় করেছিলেন ইতিবাচক, ভিলেন উভয় চরিত্রে। অনেক সাবলীল ছিলেন সীমানা পেরিয়ে ছবির রতন মামা চরিত্রে। তার অভিব্যাক্তি ছিল অনন্য সাধারণ।

এছাড়াও ছোট চরিত্র গুলোতে ভুপেন হাজারিকা, মায়া হাজারিকা, তনুশ্রী অনেক ভাল করেছিলেন। সবার মাঝে ছিল যথেষ্ঠ স্মার্টনেস। যা সত্যিই যেকোনো সময়ের জন্য সময় উপযোগী।

খুব ভালো কারিগরী সুবিধা ও আর্থিক সহায়তা ছাড়াও যে দারুন ছবি নির্মাণ সম্ভব আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’ তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ছবির খুঁত বলতে তেমন কিছু চোখে পড়েনা। নর-নারীর যৌন আকর্ষন মূল উপজীব্য নয়। তবে যৌনতাকে একবারে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই ছবির নায়ক-নায়িকাও সে প্রবৃত্তি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেননি। তবে পরিচালক সাহসী কোন দৃশ্য দিতে অপারগ ছিলেন সেন্সরের কারণে।

তবুও কৌশলী হয়ে মোটামুটি ভালোভাবেই সামলে নিয়েছেন পরিচালক। ছবির মা চরিত্রটির উপর পরিচালক খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। জলোচ্চ্ছ্বাসের পর অজানা একটি দ্বীপে টিনার জ্ঞান ফিরলে মাকে খুঁজতে দেখা যায়না, তার জন্য বিলাপ করতেও দেখা যায়না। এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে দ্বীপে বসবাস করার সময়ও মাকে নিয়ে কিছু বলতেও শোনা যায়না টিনাকে। মা বেঁচে আছে কী নেই সে ব্যাপারে টিনার কোন ভাবনা নেই। কী মায়ের সঙ্গে সম্পর্কের সুতোটি মজবুত ছিলোন এমনটাই কি এখানে স্পষ্টত কড়া হয়েছে?

তবে কি শহুরে বুর্জোয়া পরিবারগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে? এমনকি ছবির শেষের দিকে টিনার বাবা যখন টিনার বান্ধবীকে বিয়ে করে আনে টিনাকে খুব বেশি বিচলিত হতে দেখা যায়না। ঠিক যেন পরদেশের নীতিতে বাঁধা।

পরিচালকের কথা

আলমগীর কবীর বলেন, ‘১৯৭০ এর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের ধ্বংসলীলায় প্রায় তিন মাস পর এক জোড়া মানব-মানবিকে বরিশালের দক্ষিণের একটি সামুদ্রিক চরে আদিম পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ঢাকার তৎকালীন সংবাদপত্রে ঘটনাটির বিবরণ আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে ছবিটির treatment ইচ্ছাকৃতভাবে contrived। যৌন আকর্ষণ বা ভায়োলেন্স ছাড়াও সমাজের ওপর এবং নিচতলার দুটি মানুষের মধ্যে, শ্রেণীগত পর্যায়ে নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো আন্তরিক সম্পর্ক সম্ভব কিনা এটা পর্যালোচনা করাই এই কার্যত fantasy চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আমার মতে এই সম্পর্ক সম্ভব, তবে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী শ্রেণীটি তা সহ্য করতে চাইবে। ব্যবসায়ী পুঁজির চাপে ছবিটির বক্তব্য এবং গতি কিঞ্চিৎ ছিন্নভিন্ন।’শ্রেণী বৈষ্যমের বেড়াজাল আর প্রকৃতির 'সীমানা পেরিয়ে'

‘সীমানা পেরিয়ে’ ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন ভারতের সঙ্গীত পরিচালক ভুপেন হাজারিকা। কণ্ঠশিল্পী ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক ভুপেন হাজারিকা ও আবিদা সুলতানা। বিমূর্ত এই রাত্রি আমার, মেঘ থম থম করে, আজ জোৎস্না রাতে গান তিনটি পেয়েছে শ্রোতাপ্রিয়তা। এছাড়াও ছবিতে আদিবাসীদের ভাষায় একটি গান রয়েছে। ‘সীমানা পেরিয়ে’ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন ছবিতে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ, জয়শ্রী কবির, হাজারিকা, কাফী খান, গোলাম মোস্তফা ও তনুজা।

পুরষ্কারপ্রাপ্তি

বাংলাদেশী চলচ্চিত্র সীমানা পেরিয়ে মুক্তি পায় ১৯৭৭ সালে । ১৯৭৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেতাসহ মোট তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করা এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির। চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জিতে নেয়। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের “বাংলাদেশের সেরা ১০ চলচ্চিত্র” তালিকায় চতুর্থ স্থান পেয়েছে ‘সীমানা পেরিয়ে’।

চলচ্চিত্রটি ১৯৭৭ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এ মোট তিনটি বিভাগে পুরস্কার লাভ করেছিল। শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – বুলবুল আহমেদ, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার – আলমগীর কবির এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা – আলমগীর কবির এই তিনটি পুরস্কার লাভ করে ছবিটি। ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন এম এ মবিন এবং সম্পাদক ছিলেন বশির হোসেন।

Advertisement

কমেন্টস