শাহরুখ খানের আয়ের মূল উৎস

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ১৫, ২০১৫

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। অভিনয় জগতে নিজের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন বহুদিন। চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্যবসা সকল ক্ষেত্রেই দেখিয়েছেন অসাধারণ সাফল্য। সম্প্রতি তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের এক নম্বর ধনী হিসেবে। এখন জেনে নেয়া যাক শাহরুখের রোজগারের কিছু উৎস সম্পর্কে।

টিভি স্বত্ত্ব বিক্রয়ঃ

শাহরুখ খান প্রযোজক হিসেবেও দক্ষ। তিনি জানেন বিপুলসংখ্যক দর্শক মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে ছবি দেখার সামর্থ রাখে না। তাই টিভিতে নিজের ছবি দেখানোর স্বত্ত্ব বিক্রি করেন চড়া দামে। গত বছর তার অভিনীত-প্রযোজিত ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ ছবির স্বত্ত্ব ৪৮ কোটি রুপির বিনিময়ে জি-এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেলের কাছে বিক্রি করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, তার শর্ত ছিলো, চ্যানেলটি যদি এই ছবির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনচিত্র প্রচার থেকে ১০০ কোটি রুপির বেশি আয় করে তাহলে তাকেও মুনাফা দিতে হবে।

ছবির লাভের অংশঃ

শাহরুখ খানই প্রথম অভিনেতা নন যিনি ছবির লভ্যাংশের ভাগ নেন। প্রযোজক না হলে ছবিপ্রতি তিনি লাভের ৬০ শতাংশ দাবি করেন। এখন তো বলিউডের প্রখম সারির অভিনেতাদের প্রায় সবাই লভ্যাংশ চেয়ে থাকেন। আমির খান যশরাজ ফিল্মসের ‘ধুম থ্রি’র জন্য লাভের ৩৩ শতাংশ নিয়েছিলেন।

নতুন নতুন চিন্তাধারাঃ

ছবি মুক্তি দিতে গেলে এখন প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় বড় অঙ্কের বাজেট‍। বিভিন্ন শহর থেকে শহরে সংবাদ সম্মেলন কিংবা ভোজসভার আয়োজন করা যে কোনো ছবির সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য প্রযোজকরা প্রচারণার জন্য নিজেদের ছবির তারকাকে সাক্ষাৎকার দিয়ে, ফটোশুট ও টিভি অনুষ্ঠানে পাঠিয়ে ব্যবসায়িক সাফল্যের খুঁটি গড়তে চান। কিন্তু কিং খানের মনে নতুন কৌশল। নিজের আগামী ছবি ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর প্রচারণাকে ঘিরে নতুন চিন্তাধারা কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন, সনু সৌদ ও বোমান ইরানি-সহ ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’-এর সব অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী বড় পরিসরে রঙ-বেরঙের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছেন শাহরুখ। সঙ্গে থাকবেন ছবিটির পরিচালক ফারাহ খান। এ ছাড়া ভাড়া করা হচ্ছে ১৪০ জন নৃত্যশিল্পী। বিদেশে এসব অনুষ্ঠানের জন্য শাহরুখ সবাইকে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক দেবেন। তাই অভিনয়শিল্পীরা সময় বরাদ্দ দিয়েছেন অনায়াসে। শাহরুখের ‘টেম্পটেশন্স রিলোডেড’ কনসার্টের চেয়েও বড় পরিসরে অনুষ্ঠানগুলো হবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। ভারতেও হতে পারে অনুষ্ঠান। সব মিলিয়ে ২৫-৩০টি অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি অনুষ্ঠান থেকে ৭ কোটি রুপি করে আয়ের আশা করছেন শাহরুখ। সব মিলিয়ে আয়ের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০০ কোটি রুপির ঘর। ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ মুক্তি পাবে আগামী দিওয়ালিতে।

টিভি অনুষ্ঠানঃ

শাহরুখ খান তার কর্মজীবনের পথচলা শুরু করেছিলেন ছোট পর্দায় টিভি সিরিয়াল ‘ফৌজি’ এবং ‘সার্কাস’-এ অভিনয়ের মধ্যমে। এখন তিনি টিভি অনুষ্ঠানগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া তারকা। বক্স তার উপস্থানায় ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র তৃতীয় আসর, ‘কেয়া আপ পাঁচভি পাস সে তেজ হ্যায়’ এবং ‘জোর কা ঝটকা’ অনুষ্ঠানগুলো দর্শকরা উপভোগ করেছে। ২০১১ সালের ‘জোর কা ঝটকা’র জন্য তিনি আড়াই কোটি রুপি সম্মানী পেয়েছিলেন। আবার একটি রিয়েলিটি শোতে উপস্থাপক হিসেবে দেখা যাবে শাহরুখকে। নাম ‘গট ট্যালেন্ট ওয়ার্ল্ড স্টেজ’। এতে একসঙ্গে অংশ নেবেন ‘ইন্ডিয়াস গট ট্যালেন্ট’ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের ‘গট ট্যালেন্ট’ বিজয়ীরা।

নামি-দামি বিজ্ঞাপনচিত্রঃ

কোমল পানীয় থেকে শুরু করে ট্যালকম পাউডার কিংবা ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম থেকে গাড়ি হোক, বিজ্ঞাপন ভুবনে শাহরুখকে টপকাতে পারে এমন কেউ নেই। সম্প্রতি পানমশলা ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার বিনিময়ে প্রায় ২০ কোটি রুপি সম্মানি নিয়েছেন তিনি। এর আগে বলিউডের কোনো অভিনেতাই মডেল হয়ে এতো বিশাল আয়ের নজির গড়তে পারেননি। এমন অনেক পণ্য আছে যা শাহরুখের নামেই চলে। উচ্চবিত্ত থেকে ফুটপাতের গলি, সবশ্রেণীকেই প্রভাবিত করতে পারেন তিনি। এজন্যই বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায় কিং খান এতো জনপ্রিয়। তার মধ্যে মন জয় করার স‍াবলীলতা, বক্স অফিস স‍াফল্য ও সুদর্শন চেহারা বিজ্ঞাপন জগতের প্রিয় তারকায় পরিণত করেছে তাকে। তার নিজের গড়া ভাবমূর্তিও অনেক আকর্ষণীয়।

বিনিয়োগ কৌশলঃ

শাহরুখ খুব ভালোভাবেই অর্থের মূল্য উপলদ্ধি করেন। তাই সবসময় সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে মোটেও ভুল হয় না তার। আইপিএলে ক্রিকেট দল কলকাতা নাইট রাইডার্স আর তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের সাফল্যই এর প্রমাণ। ইমাজিনেশন এডুটেইনমেন্ট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি ভারতের মফস্বেল এলাকাগুলোতে শিশু পার্ক তৈরি করে। সম্প্রতি সেই প্রতিষ্ঠানেও বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া কয়েকদিন আগে দুবাইয়ে নিজের আবাসন প্রকল্প ‘রয়্যাল এস্টেটস বাই শাহরুখ খান’-এর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন শাহরুখ। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নিজের সম্পদটা কয়েকগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার আশা তার। ২৩ লাখ স্কয়ার ফুট জায়গার ওপর গড়ে ওঠা আবাসনটির মূল্য ২৩ বিলিয়ন দিরহাম।

বিয়েতে নাচ-গানঃ

শাহরুখকে নাচানো এতো সহজ নয়। কিন্তু কোটি টাকার বিনিময়ে শুধু শিল্পপতি বা রাজনীতিবিদরাই তাদের পারিবারিক বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে নাচাতে পারেন। মুম্বাই মিররের তথ্যানুযায়ী বিয়েতে উপস্থিতির জন্য ১৫ হাজার মার্কিন ডলার এবং সেখানে নাচার জন্য ৮ কোটি রুপির কাছাকাছি পারিশ্রমিক নেন তিনি। গত বছর দুবাইয়ের একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের বিয়েতে আধঘণ্টার পরিবেশনায় অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। ওই বিয়েতে প্রথমে সালমানের ডাক পড়েছিলো। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে সল্লু না করে দেন। অন্যদিকে আমির খান ও সাইফ আলি খান এভাবে টাকা আয় করতে নারাজ। ফলে প্রস্তাব চলে যায় শাহরুখের দুয়ারে। তিনি প্রতি বছর প্রায় ২৫০টির মতো বিয়েতে উপস্থিত হওয়ার প্রস্তাব পান। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র ১০টিতে অংশ নেন। এর মাধ্যমে বছরে খুব সহজেই ৮০ কোটি রুপি আয় করতে পারেন তিনি।

জ্ঞানপিপাসু মনোভাবঃ

শাহরুখ তার জ্ঞানের ক্ষুধা মেটাতে প্রচুর বই পড়তে ভালোবাসেন। বলিউড তারকাদের মধ্যে সবসময় সর্বশেষ খবর ও সব তাৎখনিক বিষয়ে জ্ঞান রাখেন তিনি। সাম্প্রতিক সব বিষয়ে তার জ্ঞান রাখা চাই-ই চাই। নিজের কাজকে তিনি অনেক ভালোবাসেন এবং কাজের জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রমও করেন। এই কঠোর পরিশ্রম ও জ্ঞানপীপাসু মনোভাবই তাকে বলিউড বাদশা খেতাব এনে দিয়েছে।

Advertisement

কমেন্টস