১৬ বছর আগে কাঁদিয়েছেন রওশন জামিল

প্রকাশঃ মে ১৫, ২০১৮

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

দুই পর্দার বর্ষীয়ান অভিনেত্রী রওশন জামিল। ২০০২ সালের ১৪ মে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। দেখতে দেখতে পার হয়েছে ১৬টি বছর। তবু তিনি বেঁচে আছেন প্রতিস্তরে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার প্রবেশদ্বারে ‘নয়ন সম্মুখে তুমি নাই’ শিরোনামের ফলকে প্রয়াত চলচ্চিত্রকারদের সাথে তার নাম খোদাই করা আছে।

রওশন জামিল ১৯৩১ সালের ৮ মে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ঢাকার রোকনপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার লক্ষীবাজারের সেন্ট ফ্রান্সিস মিশনারী স্কুলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর পড়াশুনা করেন ইডেন কলেজে। শৈশব থেকেই তার নাচের প্রতি ঝোঁক ছিল। ম্যাট্রিক পাশ করার পর ভর্তি হন ঢাকার ওয়ারী শিল্পকলা ভবনে ও নাচের তালিম নেন প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী গওহর জামিল এর কাছ থেকে। নাচের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণকালে শিক্ষক প্রয়াত গওহর জামিলের সঙ্গে তার পরিচয় থেকে প্রেম হয়। ধর্ম বদলে মুসলিম হওয়ার পর ১৯৫২ সালে তাকেই বিয়ে করেন রওশন জামিল। তারা ছিলেন ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের জনক-জননী।

নৃত্যশিল্পী হলেও একজন অভিনেত্রী হিসেবও রওশন জামিল সর্বজন শ্রদ্ধেয়। এদেশে যখন ছেলেদের মেয়ে সেজে মঞ্চে অভিনয় করতে হতো, সেই তখনই (১৯৫২ সালের দিকে) রওশন জামিল জগন্নাথ কলেজে মঞ্চায়িত শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ নাটকে অভিনয় করেন। তিনি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রেরও মডেল হন।

রওশন জামিল বাংলাদেশ টেলিভিশন অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন। তার প্রথম অভিনীত নাটক ‘রক্ত দিয়ে লেখা’ ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রচারিত হয়।বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘ঢাকায় থাকি’ এবং ‘সকাল সন্ধ্যা’ ধারাবাহিক নাটক তাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলে। তিনি ১৯৬৭ সালে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন আরব্য রূপকথা ‘আলিবাবা চল্লিশ চোর’ ছায়াছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান পরিচালিত ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে আপা চরিত্র তাকে সাফল্যের শীর্ষে নিয়ে আসে। তাছাড়া আমজাদ হোসেনের রচনা ও পরিচালনায় নয়নমণি, আবু ইসহাকের উপন্যাস অবলম্বনে শেখ নিয়ামত আলী ও মসিহউদ্দিন শাকের পরিচালিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেন।

সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য রওশন জামিল দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, টেনাশিনাস পদক, সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড, বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার, তারকালোক পুরস্কার। আর নৃত্যে তিনি ১৯৯৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

১৯৫৯ সালে নৃত্যশিল্পী তারা দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন নৃত্য প্রশিক্ষন কেন্দ্র জাগো আর্ট সেন্টার। ১৯৮০ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তিনিই এই সংগঠনের দেখাশুনা করতেন।প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী এখানে নাচের উপর শিক্ষা নিচ্ছে।

এই অভিনেত্রীর মৃত্যুবার্ষিকীতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান বলেন, ‘অভিনেত্রী রওশন জামিল আমাদের চলচ্চিত্রের উজ্জল নক্ষত্র। চলচ্চিত্রে তার অবদান অনেক। তাকে স্মরণ করে আজ শিল্পী সমিতিতে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছি।’

উল্লেখ্য, রওশন জামিল একমাত্র অভিনেত্রী যিনি একাধারে জহির রায়হান, ঋত্বিক ঘটক, শেখ নিয়ামত আলী, আমজাদ হোসেনের মতো কিংবদন্তি পরিচালকদের ছবিতে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন।

কমেন্টস