না বলতে চাইলেও তুমি এখন ইতিহাস

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮

রাকিব বিন কুদ্দুছ।।

অনেকে হয়তো তোমায় মনে করছে না। বড্ড ক্লান্ত সবাই। বাস্তবিক চাহিদায় নতুনদের জায়গা দিয়ে পুরনোদের ভুলে যাচ্ছে। তবে আমি ভুলিনি। কি করে ভুলি বলো? সিনেমায় তোমার দেয়া সংলাপের গর্জন শুনেইতো তোমাকে চেনা! তুমি সেই চিত্রনায়ক মান্না যাকে আমি কল্পনায় পুষতাম। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে এমন ভাবে মানিয়ে নিতে যেন বাস্তবিক অর্থেই তুমি সেই চরিত্র নিয়ে জন্মেছ।

আমার প্রিয় ব্যক্তিত্বের তালিকায় তুমি একজন। যখন ছোট ছিলাম তখন তোমার ডায়ালগ নকল করতাম। পাড়া বেড়িয়ে বন্ধুদের নিয়ে মারামারি করতাম এই ভেবে যে তোমায় আমার নিজের মধ্যে আনার জন্য। এতো নিখুঁত সংলাপ দিতে পারতাম না তোমার মত। তবে এখনো তোমার কোন সিনেমা দেখলে মনে হয় যদি বেঁচে থাকতে তাহলে তোমার সাথে দেখা করতাম। হয়তো তোমার একটা সাক্ষাৎকার নেয়ার অন্তত সুযোগ থাকতো আমার। তবে আর নিতে পারলাম কই? ১০ বছর আগেই সব মায়া শেষ করে চলে গেলে বহুদূর।

‘দাঙ্গা’ ‘সিপাহী’, ‘যন্ত্রণা’, ‘অমর’, ‘পাগলী’, , ‘ত্রাস’, ‘জনতার বাদশা’, ‘লাল বাদশা’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’, ‘রুটি’, ‘দেশদরদী’, ‘অন্ধ আইন’, ‘স্বামী-স্ত্রীর যুদ্ধ’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘মায়ের মর্যাদা’, ‘মা-বাবার স্বপ্ন’, ‘হৃদয় থেকে পাওয়া’। এই এতো সিনেমার ঝড় তুলে কোথায় যে হারিয়ে গেলে যেখানে আমার ভাবনাও যেতে পারে না। তবে কি জানো? প্রতি বছর এই দিনে তুমি দর্শক কাঁদাও। যেমনটা কাঁদাতে সিনেমায়। হয়তো আমি গুছিয়ে লিখতে পারিনি কিন্তু তোমার জন্য আমার, আমাদের ভালবাসা গুছানোই আছে।

বাংলা সিনেমায় এখনো তোমায় অনুভব করি তবে অনুসরণ করা হয় না আগের মতো। কারন তুমি যে নেই। না বলতে চাইলেও তুমি এখন ইতিহাস। বেঁচে আছো, বেঁচে থাকবে। মনে রবে চিরদিন।

কমেন্টস