আমার বাদামী বর্ণের শরীরে ঠোসা পড়ে যেতো কালো কালো অথবা গাঢ় লালঃ প্রিয়তি

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

নিয়াজ শুভ।।

‘আমার আগে বাংলাদেশী কোন মেয়ে বা ছেলে বাংলাদেশে বা দেশের বাইরে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে কেউ পোল ড্যান্স আর্টিস্ট হয়েছেন বা পোল ড্যান্স শিখেছেন? আমার মনে হয় না । আমার চ্যালেঞ্জ থাকলো ……’ ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনই এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মিস আয়ারল্যান্ডখ্যাত মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি।

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রিয়তি নিজেকে নতুন নতুন রুপে হাজির করছেন প্রতিনিয়ত। নিজ শরীরে চিত্রকর্ম এঁকে বহুবার আলোচনায় এসেছেন তিনি। ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন কাজ করে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন প্রিয়তি। এছাড়া বরাবরই তিনি বেশ স্পষ্টবাদী। এবার পোল ড্যান্স নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রিয়তি। বিডিমর্নিং পাঠকদের জন্য তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘আইরিশ পোল ড্যান্স একাডেমী’ থেকে টানা দুই বছর ট্রেইনিং করে ২০১৬তে শেষ করি আমার ট্রেইনিং। ঐ দুই বছর ট্রেইনিং এর সময় কেঁদেছি প্রতিরাত ব্যাথায়, আমার বাদামী বর্ণের শরীরে ঠোসা পড়ে যেতো কালো কালো অথবা গাঢ় লাল, তারপরেও প্রতিদিনের অগ্রগতিতে ছিল আনন্দ।

বন্ধুরা বলতো,মাকসুদা নিজেকে এতো ব্যাথা দিয়ে কেন শিখছ এই নাচ? আমি বলতাম, যা সবাই শিখতে চায় না সেইটার প্রতিই আমার আগ্রহ বেশী।

এশিয়ানদের কাছে এখনো পোল ড্যান্স মানে স্ট্রিপ ক্লাব এ ল্যাপ ড্যান্স। এইটি যে বডি ফিটনেস, স্ত্রেন্থেনিং অ্যান্ড ফ্লেক্সিবিলিটি এর আরেকটি ফর্ম, ঐ পর্যন্ত ধারনা এখনো এগুয়নি অনেকেরই কাছে।

গত বছর এইদিনে যখন মুম্বাইতে বলিউড স্টার সোহেল খান এর সাথে দেখা হয়, তখন কথায় কথায় জানতে পারেন আমি পোল ড্যান্স জানি এবং আমার বাসায় পোল আছে, তিনি জেনে খুব অবাক হয়েছিলেন যে বাংলাদেশী ব্যাকগ্রাউন্ড এক মেয়ে এই পোল ফিটনেস ড্যান্সটি জানে। নিজ থেকে দেখতে চেয়েছিলেন ভিডিও, দেখিয়েছিলাম উনাকে, ইম্প্রেসড হয়েছিলেন। উনার সাথে আমার ইন্টারেস্ট দারুন ভাবে মিলেছিল, উনি ফ্লাইং পছন্দ করেন। কথা দিয়েছিলাম ডাবলিনে গেলে উনাকে ফ্লাই করাবো আমি নিজেই।

সে যাই হোক, একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম গত বছর থেকে ভারতের ছবিগুলোর গানে প্রায় ছবিতেই পোল ড্যান্স এর ব্যবহার লক্ষণীয়, যা কিনা শুধু বাইরের আর্টিস্ট নয়, মূল ইন্ডিয়ান আর্টিস্টরাই করছেন। না না, আমি কিন্তু আবার বলছি না যে আমার দেখাদেখি উনারা শুরু করেছেন। হাহাহা… প্রশ্নই আসে না, তা বলার। আমার বলার কারণ হলো, things are changing.কেউই পিছিয়ে নেই, আমরাও নই।’

কমেন্টস