১৪ই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় !

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

‘বিশ্ব ভালবাসা দিবস’ এই দিনটি সাধারণত আমাদের দেশের নির্দিষ্ট কোন সংস্কৃতি নয়। এই দিনটিকে লক্ষ্য করেই যে ভালবাসতে হবে এমনো কোন কথা নেই। আসলে আমরা সৃষ্টির শুরু থেকেই ভালোবাসতে জানি। আর এটাও জানি কত অল্প সময়ে অন্য সংস্কৃতি নিজের মধ্যে আনা যায়। এক দৃষ্টিকোণ থেকে ভালবাসা মাপা ঠিক না। ভালোবাসা থাকতে হবে সবার জন্য। অবশ্য দেখতে ভালই লাগে ‘শাড়িতেই নারী, কেশেতেই বেশ’ এই কথাটির মূল্যায়ন করে, যখন  কোন বাঙালি নারী তার নিজের মধ্যে সেই ভাব ফুটিয়ে তোলে। তবে এই আধুনিক যুগের ভালবাসার নির্দিষ্ট দিন এলো কোথা থেকে তার ইতিহাসটা আগে জানা দরকার।

সময়টা ছিলো ২৬৯ সাল…

রোমান সময়কালে সেই সময় রোমান সম্রাটদের প্রচুর দাপট ছিলো। তখন সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় ক্লডিয়াস৷ তার নেতৃত্বে একে একে সব রাষ্ট্র জয় করতে শুরু করলো রোমান বাহিনী। তখন যুদ্ধে প্রয়োজন পরতো অনেক সৈন্য। আর সম্রাট বিশ্বাস করতেন বিয়ে করলে সৈন্যদের যুদ্ধ করার মনোবল কমে যায়। যেই চিন্তা সেই কাজ। বিয়ে নিষিদ্ধ করলেন তিনি। সেই সময় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজক ছিলেন যিনি ছিলেন এক সাথে চিকিৎসকও৷ তিনি এই ব্যাপারটা মেনে নিতে পারেনি। লুকিয়ে লুকিয়ে তরুণ-তরুণীদের  চার্চে নিয়ে বিয়ে দিতে লাগলেন। কিন্তু বেশিদিন এই প্রথা বজায় রাখতে পারলেন না। একসময় সম্রাটের কানেও চলে যায় এই খবর। ধরা পড়লেন ভ্যালেন্টাইন৷ তাকে বন্দী করা হলো।

অনেক ভক্ত ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে কারাগারে যেতো৷ দিয়ে আসতেন তাদের অনুরাগের চিহ্ন হিসেবে অনেক ফুলের শুভেচ্ছা৷ যেহেতু তিনি চিকিৎসকও ছিলেন সেখানে বন্দী অবস্থায় তিনি জনৈক কারারক্ষীর দৃষ্টহীন মেয়েকে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলেন। আর তার জনপ্রিয়তা আরো বেড়ে যায়। সুস্থ হওয়ার পর ওই মেয়ে প্রতিদিন আসতেন ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে। পরবর্তীতে ওই মেয়ের সাথে তার প্রেম হয় আর ধর্মযাজকের আইন ভেঙে তাকে বিয়েও করে ফেলেন তিনি। এমন একটা খবর রাজার কানে পৌঁছোতেই তিনি ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন৷ এখানেই সমাপ্তি ঘটে ভ্যালেন্টাইনের ভালোবাসা। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রিয়াকে লেখা ভ্যালেন্টাইনের শেষ চিঠিতে ছিল,  ‘লাভ ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন’৷ আর সেই দিনটিও ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি৷

এতো করুন একটি ঘটনার সাক্ষী আজকের এই ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ভালবাসা নামের এই অজানা কষ্টের সেই না বলা অনুভুতিকে প্রকাশ করতেই নাকি প্রতি বছরের এই দিনকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ যার মানে দাঁড়ায় ভালবাসা দিবস হিসেবে।উনবিংশ শতাব্দীতে এই দিনটি সবার আবেগময় দিনের উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শুরু হয় ভালবাসার মানুষকে নিয়ে একান্তে সময় কাটানোর রীতি। শোনা যায়, পৃথিবী থেকে যত সত্যিকারের প্রেমিক প্রেমিকা মারা যায় তাদের ভালবাসা নাকি জমা থাকে সুর্যের কাছে, তাইতো সুর্যের রং লাল। অনেক আবেগ থেকেই এই কথাটি বলা। আমি জানি না এই কথাটার সত্যতা কতটুকু। তারপরেও প্রকৃত অর্থে ‘ভালোবাসা’ শব্দটা মূল্যায়ন করা এখনের প্রেক্ষাপটে খুব কঠিন। সবার জন্য আজকের দিনটি সুখকর নয়। কিন্তু তারপরেও নিজের ভালোবাসা বিলিয়ে দেয় সবার মাঝে আর মিলিয়ে নেয় প্রত্যেকটি সমীকরণ।

কমেন্টস