ওপারের রাজ্যে কুড়িয়ে নিচ্ছেন অজস্র ভালোবাসা

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২৪, ২০১৮

রাকিব বিন কুদ্দুছ।।

রাজা আর রাজ্য দুটি ভিন্ন জিনিস। কোনটি ছাড়া কোনটির মূল্য নেই। কখনো কখনো মানুষ সেই রাজা বা রাজ্যকে কল্পনায় মেনে নেয় অথবা কেউ মেনে নেয় বাস্তবে। ঠিক সেই ভাবে আমাদের দেশেও একটা রাজা ছিল, যার ভুমিকা ছিল বাস্তবেও। অকপটেই শিকার করতে হয় নায়করাজ রাজ্জাকের কথা। রাজ্য শাসনে এই রাজার ছিল অতুলনীয় ভূমিকা। যে রাজা কোনদিন রাজ্য চায়নি আর চায়নি কোন রাজমুকুট। তার রাজ্যের মলিন বিবেকের মানুষরাই তাকে সেই রাজমুকুট পরিয়ে দেয়।

১০০ তম ছবি মুক্তির আগে এক সাংবাদিকের দেয়া নামেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ‘নায়করাজ’ হয়ে উঠেন তিনি। নামেও যেমন ছিল রাজার দাপট, নিজ গুনেও দেখিয়েছেন রাজা খেতাবের শৈল্পিক দক্ষতা।

নিজ থেকে কখনো নায়করাজকে চেনা হয়নি, মায়ের হাতধরেই রাজ্জাককে চেনা। ৯০ দশকের পর যখন পুরোনো কোন ফ্রেমে নায়ককে দেখতাম, তখন ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে নিতাম। একেক চরিত্রের মধ্যে নিজেকে এমন ভাবে মেশাতেন মনে হত যেন আমি নিজেই সেই চরিত্র হয়ে কথা বলছি। কখনো বাবা হয়ে দর্শক কাঁদাতেন কখনো বা বন্ধু হয়ে দুঃখ ভোলাতেন আবার কখনো কখনো হিরো হয়ে নায়িকার রাগ ভাঙ্গাতেন।

কিন্তু এখন আর সেই রাজার রাজ্য শাসন নেই , নেই কোন রাজ্য শাসনের পর্ব মালা। ভাবগম্ভীর পরিবেশ তৈরী করে চলে গেছেন অনেক দূরে সেই কবেই। যেখানে পৌছায়না কোনো মায়া আর কল্পনাতেও অনুভব করা যায়না সেই পরিবেশ। সবার হৃদয়ছোয়া নায়করাজ হয়তো ওপারেও রাজ্য তৈরী করে কুড়িয়ে নিচ্ছেন অজস্র ভালোবাসা।

প্রত্যেক মানুষের জীবনে একটা বিশেষ দিন থাকে , আমার জীবনেও আজকের দিনটা সেইরকম একটা বিশেষ দিন। নায়করাজকে নিয়ে লিখছি। আমি জানি বেশি কিছু লেখার ক্ষমতা আমার নেই। তারপরেও লিখতে ইচ্ছে করে আপনাকে নিয়ে।

কোন এক কবি লিখেছিলেন –

“যখন তুমি এসেছিলে ভবে,

কেঁদে ছিলে তুমি-হেসেছিলো সবে।

এমন জীবন তুমি করিবে গঠন,

মরনে হাসিবে তুমি-কাঁদিবে ভূবন।”

সেই জায়গাটা আপনি তৈরী করেছেন নায়করাজ। যেমন কাদিয়েছেন সব দর্শককে? তেমনি ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আজকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা শুধু আপনাকেই। ওপারে সুখে থাকুন ‘ শুভ জন্মদিন’।

কমেন্টস