কালজয়ী চেতনায় একজন দিলারা জামান

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ১, ২০১৭

ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

মেরিনা মিতু।।

হুমায়ূন আহমেদ তার বইতে লিখেছিলেন, ‘দিলারা জামান অল্প সময়ের জন্যে এই ছবিটিতে (আগুনের পরশমণি) এসেছেন, সেই অল্প সময়ের জন্যই একটি শীতল বাতাস সবার জন্য রেখে গিয়েছেন’ এটি আমার জন্য অনেক বড় একটি পাওয়া, সেই সাথে অভিনয়ের নান্দনিকতার জন্য অনুপ্রেরণার বড় ঢাল ছিলো। শিল্পী চেতনায় আপণ মনে ‘একজন দিলারা জামান’ এভাবেই তার অভিনয়ে সিক্ত হওয়ার কথা বলেন।

কালজয়ী চেতনায় সংস্কৃতীর উর্ধমনা দিলারা জামান একজন ‘ব্যাক্তিত্ব’। স্বামী ফখরুজ্জামান চৌধুরীর আশির্বাদের সান্নিধ্যে শৈল্পিক মনে অভিনয় ধরে রাখাটা তার চর্চার জগতকে আরো সহজ করে তুলে।

ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

নিজের বেড়ে উঠা প্রসঙ্গে খানিক গম্ভীরতার সুরেই বলেন, যে সময়টায় জন্ম নিয়েছিলাম সকল আনন্দের মাঝেও তখন সারাক্ষণ কষ্ট, আতঙ্ক। চারদিকে দুর্ভিক্ষের হাহাকার, সেই সাথে আবার দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ডামাডোল, কখন বোমা পড়ে, কখন শহর ছেড়ে পালাতে হয় দূরে কোথাও। দুঃসংবাদের বড় বিষয় ছিলো সন্ধ্যা হলেই আলো নিভিয়ে অন্ধকারে থাকা।

ফুলের মতো আব্রু দিয়ে সুন্দর হাসির বাহারে ফুটফুটে মেয়ের ডাক নাম রাখা হয় ‘লিলি’। ডাকনামের বাইরে পরিচিত দিলারা জামান এখনো সেই লিলির মতোই সুগন্ধিত এবং মনোরম।

১৯৬৬ সালে জনাব জাকারিয়ার প্রযোজনায় প্রথম তিধারা নাটকের মাধ্যমে তিনি টিভির পর্দায় আসেন। এক এক করে অসময়, দিনের শেষে, এসো দিন রাত্রির মতো আলোচিত সব নাটকে অভিনয় করেন।

পরিবারের প্রতি তার নিজের দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা আর কিঞ্চিত আফসোস করে বলেন, ‘চিত্রজগতে কাজ করতে গিয়ে নিজের মেয়েদের খুব বঞ্চিত করেছি, সকালে বেরিয়ে গিয়ে রাতে বাসায় আসতে আসতে মেয়েরা ঘুমিয়ে যেতো। তখন একইসাথে স্কুলে শিক্ষকতা করতাম, তাই সকালে বেরিয়ে যেতাম, সেখান থেকে আবার শ্যুটিং স্পটে। তবে একটা বিষয় যেনো না বললেই নয় যে, তখনকার সময় শ্যুটিং এর জন্য জায়গা অপ্রতুল থাকায় অনেক চিত্র রাতে ধারণ করা হতো। মাঝে মধ্যে তখন রাত ৪ টার দিকেও বাড়ি ফেরা হতো, আমার স্বামী ফখরুজ্জামান চৌধুরী আস্তে করে এসে দরজা খুলে দিতো। সকাল বেলা আবার ঠিক সাতটায় ডেকে দিতেন স্কুলের জন্য।’

ছবি: আবু সুফিয়ান জুয়েল

নিজের উদ্যমী ভাবনা, চেতনার বিকাশ, পরিবারের সহযোগীতায় শিল্পের চর্চাটাকে ধারণ করেছেন। এখনো তার সেই চর্চার বিকাশে জীবন্ত চরিত্রগুলো খেলা করে।

তার সাফল্যের গাঁথা নিয়ে বলতে গেলে ১৯৯২ সালে একুশে পদক গ্রহণ, ২০০৮ সালে চন্দ্রগ্রহণ ছবির জন্য জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার অর্জনের বাইরেও দর্শক মনের যে ভালোবাসা পেয়েছেন সেটাকেই তিনি তার সাধনার পুরস্কার হিসেবে আগলে রেখেছেন।

শিল্পীময়ী ব্যক্তিত্ব দিলারা জামান। তার জীবনের সাফল্যের বাণী বহমান আর আকাশতুল্য, সাধ্য কি তা কয়েকশো শব্দে নিয়ে আসবো? তাতে যে নিজেই তৃপ্তির জায়গাটা থেকে বঞ্চিত হবো।

কমেন্টস