আমার লাইগা সাড়ে তিন হাত কবর খুঁড়িস না

প্রকাশঃ নভেম্বরে ২৪, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

সোয়া চান পাখি আমার সোয়া চান পাখি/আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি/তুমি আমি জনম ভরা ছিলাম মাখামাখি/আজই কেন হইলে নিরব মেলো দুটি আঁখিরে পাখি…এমন বিরহ সুরে আর কখনও গাইবেন না প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী। শুধু তাই নয়, কারো ডাকে সাড়াও দিবেন না তিনি। বারী সিদ্দিকী এখন সুখের ঘুমে আচ্ছন্ন।

তার এই তন্দ্রা কাটবার নয়। দুনিয়ার মায়ার শিকল কেটে তিনি চলে গেছেন বহু দূরে। চন্দ্র-সূর্য তার সেই চলে যাওয়ার সাক্ষী। হঠাৎ করে তার চলে যাওয়া বুঝলাম কেমন চালাকি। তাই এখন যতই ডাকি না কেন তাকে জাগানোর সাধ্য কারো নেই। তার সাথে এখন নিথর দেহের মিতালী।

আমি একটা জিন্দা লাশ/কাটিস না রে জংলার বাঁশ/আমার লাইগা সাড়ে তিন হাত কবর খুঁড়িস না/আমি পিরিতের অনলে পোড়া/মরার পরে আমায় পুড়িসনা… যার কন্ঠে এই গান শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দেয় সেই গায়ক আজ নিজেই লাশ। আজ সে বলতে পারছে না তার মনের বাসনা। পরিবার তাকে যেখানে রেখে আসবেন সেখানেই নিশ্চুপ শুয়ে থাকবেন বারী সিদ্দিকী।

একান্তই নিজের জন্য গান করতেন বারী সিদ্দিকী। গায়ক হওয়ারও কোন ভাবনা ছিলো না তার। বংশীবাদক হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছিলেন। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে বাঁশি বাজাতে গিয়েই গায়ক হয়ে উঠেন তিনি। সেই থেকেই শুরু, শেষ হলো আজ।

নেত্রকোনা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কার্লি গ্রাম। এখানে ২৫০ শতক জমির ওপর বারী সিদ্দিকী গড়ে তুলেছেন ‘আশ্রম’ নামে একটি ‘বাউল বাড়ি’। এমন নিরিবিলি পরিবেশে তিনি এই আশ্রম গড়েছিলেন যাতে ছোট্ট ছেলেমেয়েরা থাকবে, সংগীত চর্চা করবে, খেলাধুলা করবে, শিশু-কিশোর বান্ধব পরিবেশে তারা বড় হবে। কত নিশি পার হবে, মনের আশা মনে রবে তবু সেই বাউল বাড়ির সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে ঘুমিয়ে থাকবেন বারী সিদ্দিকী।

কমেন্টস