শাকিব-অপুর রাজনীতিতে বিড়ম্বনার শিকার নিরীহ রাজমিস্ত্রি !

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৬, ২০১৭

ঢাকা।।

দর্শককে আনন্দ দেয়ার জন্যই হোক কিংবা গল্পের প্রয়োজনেই হোক, কোন ছবি নির্মাণের আগে সেটি কারো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে কিনা তা যাচাই করে নেয়া উচিত। একজন নির্মাতার সামান্য ভুলেই জীবনের সুখ হারাতে পারেন কোন নিরীহ ব্যক্তি। কেউ কেউ হারাতে পারেন তার সামাজিক মর্যাদা। এমনই এক হতভাগা হবিগঞ্জের বানিয়াচং গ্রামের ইজাজুল।

একের পর এক ফোন। ফোন রিসিভ করলেই নিজেকে শাকিব খানের ভক্ত দাবি করেন অপর প্রান্তের ব্যক্তিটি। এর কোন রহস্য খুঁজে পান না ইজাজুল। তার এত ফোন আসাটা চারপাশের মানুষের কাছেও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারই খেসারত দিতে রাজমিস্ত্রির কাজ হারান ইজাজুল। মাস শেষে রোজচুক্তির বেতন নেয়ার কথা থাকায় ঈদের সময় মহাজনের কাছে তিন হাজার টাকা জমা রেখেই কাজ ছাড়তে হয় তাকে। সে টাকাটা আজও পায়নি ইজাজুল।

কিস্তির টাকায় অটোরিক্সা কিনেছিলেন দরিদ্র এই রাজমিস্ত্রি। সপ্তাহে একদিন করে থানায় ডিউটি করতে হয়। এদিকে ইজাজুলের ফোন সারাদিন ব্যস্ত, তাকে না পেয়ে নাখোশ হন থানার কর্তারা। তার গাড়ি চালানো বাতিল করা হয়। কিস্তি শোধ করতে হবে। উপায় না পেয়ে বিক্রি করে দেন সাধের অটোরিক্সাটি।

এখানেই শেষ নয়। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে পরকীয়া করছেন বিবাহিত ইজাজুল। সেই রেশ পড়ে তার বিবাহিত জীবনে। স্ত্রী রাগ করে চলে যায় বাপের বাড়ি। স্ত্রীর প্রশ্ন, সারাদিন কেন মেয়েদের ফোন আসবে? নিশ্চয়ই তুমি প্রেম করো। উত্তর দিতে পারেন না স্তব্ধ ইজাজুল। সে একাকী খুঁজতে থাকে রহস্যের বেড়াজাল। দুইয়ে দুইয়ে মেলাতে পারে না সেই রাজমিস্ত্রি। অবশেষে সেই সমস্যার সমাধান করেন তারই এলাকার একটি ছেলে।

ইজাজুল জানতে পারেন, শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস অভিনীত ‘রাজনীতি’ ছবিতে তার ফোন নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির একটি দৃশ্যে শাকিব খান অপুকে তার ব্যবহৃত নাম্বারটি দিচ্ছেন। আর সবাই এটা শাকিব খানের নাম্বার ভেবে তাকে ফোন দিচ্ছেন।

ইজাজুল যখন বুঝতে পারলেন আসল সমস্যা কোথায়, তখন তিনি স্ত্রীকে নিজের ঘরে ফেরাতে সক্ষম হন। অনেক চেষ্টার পর স্ত্রীকে নিয়ে ‘রাজনীতি’ ছবিটি দেখেন। স্ত্রী বুঝতে পারেন বিষয়টি। দেড় মাস পর স্বামীর ঘরে ফেরেন তিনি।

যে ছবির কারণে একটি যুবকের এত লাঞ্ছনা, অপমান সহ্য করতে হলো সেই ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস। ‘রাজনীতি’ ছবিটিতে তিনি অনুমতিবিহীন ইজাজুলের নাম্বারটি ব্যবহার করেছেন। যদিও নিজের দোষ স্বীকার করতে নারাজ নবীন এই নির্মাতা।

এ প্রসঙ্গে বুলবুল বিশ্বাস বলেন, ‘এটা একটি র‌্যানডম নম্বর। দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। আমরা বহুদিন এটি পর্যবেক্ষণে রেখেই নম্বরটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিই। এটা নিয়ে এখন কেন নতুন করে কথা হচ্ছে, বিষয়টি বুঝলাম না। আমি বিষয়টি জানার পর পত্রিকায় দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছি। উনি চাইলে অন্য একটা নম্বর ব্যবহার করতেই পারেন। তিনি কেন করছেন না? এখন আমি তো ভিন্ন কথা বলতে পারি যে, উনি ছবিতে দেখে নতুনভাবে নম্বর কিনেছেন। তারপর উল্টো নিজের দাবি করছেন।’

নাম্বার ব্যবহারের আগে কারো অনুমতি নিয়েছেন কিনা? কিংবা কবে কোন পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন এসব প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেননি বুলবুল বিশ্বাস।

অন্যদিকে নিজের ফোন নাম্বারটি পরিবর্তন করতে নারাজ রাজমিস্ত্রি ইজাজুল। তার ভাষ্য, ‘আমার নম্বর আমি ব্যবহার করব। অন্য কেউ কি এটা ব্যবহার করতে পারবে? নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি আমাকে বানিয়াচং থানার ওসি সাহেবও বলেছিল। কিন্তু আমি এর শেষ দেখতে চাই। এ ঘটনার জন্য আমার অনেক সম্মান খোয়াতে হয়েছে। এলাকার লোকজন কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাদের কথা, যার পেটে ভাত পড়ে না, সে কিভাবে পরকীয়া করে? শুধু আমি না, আমার পরিবারের লোকজনও হেয় হয়েছে। তাই আমি সম্মান ফিরে পেতে চাই। ভেবে দেখুন তো, একজন সচেতন মানুষের পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব?’

প্রতিবেদনঃ নিয়াজ শুভ

কমেন্টস