একটি অবহেলিত এবং নষ্ট ছেলের স্বপ্ন পূরণ!

প্রকাশঃ অক্টোবর ১২, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

‘ছেলেটি তার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছে পাগল, বন্ধুদের কাছে “TC “ এবং সমাজের কাছে ‘নষ্ট ছেলে’ নামে পরিচিত ছিল। যার বাবা কখনো ভাবেনি সে কখনো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে বা পাশ করতে পারবে। অথচ সেই ছেলেটিই সিঙ্গাপুর এর Orita Sinclair থেকে Music Production and Audio Engineering এর উপর লেখাপড়া সম্পূর্ণ করলো with Merit এবং যাকেই শুধু মাত্র awarded করা হলো Most Outstanding Final Major Project in MPAE. যেই ছেলেটি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও 1st class 4th হয়েছিল। অনেকই হয়তো ভাবছে আমি কার কথা বলছি?? হুমম, আমি সেই অবহেলিত এবং নষ্ট ছেলে’ ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবেই নিজের সাফল্যের কথা জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী রুবেল।

তিনি আরো লিখেছেন, ‘২০০৩ সালের কথা, নারায়ণগঞ্জের “মিতু মোর্শেদ” নামক এক সংগীত পরিচালক আমাকে প্রথম মিক্সড album এ কাজ করার সুযোগ দেন। তখন আমি তেমন ভালো গিটারও বাজাতে পারিনা। কিন্তু তিনি আমার কণ্ঠ এবং গায়কী শুনে আমাকে তাঁর mixed অ্যালবাম কাজ করার সুযোগ দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম কাজ এবং সেই এলবামের কাজ করেছিলাম “শান্তি নগর অন্তরা স্টুডিও এবং ইস্কাটন রোডের গোল্ডেন ড্রাগন এর পাশের একটি স্টুডিওতে (নাম প্রকাশ করতে পারছিনা দুঃখিত)। তখনও অভিজিৎ চক্রবর্তী জিতু ভাই নিজের ষ্টুডিও তৈরী করেননি। তবে তিনি আমার প্রত্যেকটি গানে গীটার বাজিয়েছিলেন এবং মিতু মোর্শেদ শুধু আমার গানে জিতু ভাইয়ের ভালো লাগা, মন্দ লাগাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

যাইহোক, ঘটনাটি ঘটে যেই দিন আমার “প্রেমের কবিতা” গানের voice দিয়েছিলাম। ঐ স্টুডিওর মালিক এর সাথে জিতু ভাই আমাকে যখন পরিচয় করিয়ে দিলো, তিনি আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে ছিলেন যে আমি কোথাকার কোন “ক্ষেত” থেকে উঠে এসেছি। যখন ভয়েস দিলাম তখন উনি আমার মুখের দিকে শুধু তাকিয়েছিলো, কিছুই বলেনি। কিছুক্ষণ পর উনি বললেন তুমি শুনতে থাকো আমি আসছি। আমিও মন দিয়ে শুনতে ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো একটি অংশ পুনরায় শুনি। তাই কি যেন একটা ভুলে press করেছিলাম এবং সব কিছু হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো। উনি ফিরে এসে যখন দেখলেন এই অবস্থা, তিনি আমাকে অনেক বকা দিলেন এবং অপমান করলেন। আমার চোখে পানি চলে এসেছিলো এবং মনে মনে ভাবছিলাম আমাকে এই গুলো অপারেট করা শিখতে হবে। আর আজকে আমি সেই বিষয়ে লেখা-পড়া শেষ করলাম with merit, আলহামদুলিল্লাহ।

কিন্তু এখানেও আমার জন্য সহজ কিছু ছিলোনা। এখনো মনে পড়ে আমার সাথে প্রথম প্রথম ক্লাসের কেউ কথা বলতো না। জানিনা কি কারণ? হতে পারে, ভেবেছিলো আমি বাংলাদেশী এবং মিউজিক এর কি বুঝি? মিউজিক থিওরির ক্লাসে যখন লেকচারকে খুব বেশি প্রশ্ন করতাম তখন সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। কিন্তু যখন থিওরিতে ডিস্টিংকশন মার্ক পেলাম তখন থেকেই তারা আমার সাথে আস্তে আস্তে কথা বলতে শুরু করলো।’

স্ট্যাটাসের শেষ অংশে রুবেল লিখেছেন, ‘সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো সেই দিন, যেই দিন outside assessor আমাদের ফাইনাল প্রজেক্টগুলো assess করছিলেন। তিনি অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। বার বার বলছিলেন “you did it” শুধু বিনয়ের সাথে বলেছিলাম “Sir, still learning and long way to go ….” স্যার এর সেই অবাক হওয়ার ফলাফল পেলাম Most Outstanding Final Major Project Award এর মাধ্যমে। সমস্ত ছাত্রদের মাঝে থেকে যখন শুধু আমাকে ডাকা হলো এবং Board of Director এর সামনে শুধু মাত্র আমার প্রজেক্টই প্রদর্শন করা হলো, তখন চোখের জল আটকাতে চাইলেও ধরে রাখতে পারিনি। মনে মনে বলছিলাম, আমি বাংলাদেশী এবং প্রমাণ করলাম, আমরাও কোন অংশে কম নয়।’

Advertisement

কমেন্টস