নীরবে অশ্রু বিয়োগের জন্য জসিমের অভিনয় ছিলো সাবলীল

প্রকাশঃ অক্টোবর ৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের নাম জসিম। একটি ইতিহাসের নাম জসিম। বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় এ নায়ক তার অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন খলনায়ক হিসেবে। দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিতে প্রথম অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু। প্রথম সিনেমাতেই তিনি ভিলেন হিসাবে বাজিমাৎ করেন। তিনি শুধু সিনে জগতের পর্দা কাঁপানো বিরল ব্যক্তিত্বই ছিলেন না একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। জসিম ‘৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। দেশের কান্ডারীর ভূমিকায় থেকে আবার চলচ্চিত্রের কান্ডারী হয়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সমানতালে। মহান এই নায়কের ১৯তম প্রয়ান দিবসে বিডিমর্নিং পাঠকদের জন্য জসীমের কিছু অজানা তথ্য জানানো হলো-

১) সেই সত্তর দশকের ভুড়িওয়ালা জসিম ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অ্যাকশন ধারার প্রবর্তক এবং ‘ফাইটিং গ্রুপ’ এর শুরুটা এই জসিমের হাত ধরেই। আজকের অনেক ফাইট ডিরেক্টর ও স্ট্যান্টম্যানরা জসিমের ছাত্র ছিলেন। ১৯৭৩ সালে জহুরুল হকের পরিচালনায় জসিম অভিনীত ছবি ‘রংবাজ’ বাংলাদেশের প্রথম অ্যাকশন দৃশ্য যুক্ত করা ছবি।

২) হিন্দি সাড়াজাগানো ফিল্ম ‘শোলে’ ছবির রিমেক ‘দোস্ত দুশমন’ ছবিটিতে তিনি গব্বারের চরিত্র করেছিলেন। খোদ শোলে ফিল্মের নামকরা চরিত্র গব্বার সিং এর আদলে থাকা ভারতীয় খলনায়ক আমজাদ খান পর্যন্ত ভুয়সী প্রশংসা করেছিলেন জসিমের। জসিম দর্শকের মাঝে এতোটাই প্রভাব ফেলেছিলেন যে, ‘আসামি হাজির’ ছবির ডাকু ধর্মার সাথে ওয়াসিমের লড়াই দেখতে দর্শক সিনেমা হলের মূল গেইট ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেছিলো।

৩) মজার ব্যাপার হলো, তিনিই একমাত্র নায়ক, যিনি শাবানার সাথে একই সাথে প্রেমিক এবং ভাইরুপে চরিত্রদান করেছিলেন এবং দুটি চরিত্রই দর্শকেরা খুব সাদরে গ্রহণ করেছিলেন।

৪) বর্তমানে দেখা যায় যে, নতুন নায়কের আবির্ভাব ঘটলেই বুড়ো হয়ে যাওয়া নায়কের কদর কমে যায়, কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন জসিম। নব্বইয়ের দশকে যখন সালমান শাহ-ওমর সানিরা শেকড় গেঁড়েছিলো, সেই যুগেও জসিমের সিনেমা দেখতে হলে উপচে পড়া ভীড় থাকতো।

৫) তিনিই একমাত্র নায়ক যিনি একাধারে ধুন্ধুমার একশান দৃশ্য করে হাততালি কুড়িয়ে নিতেন আবার নায়ক হয়ে দর্শকদের আবেগে জড়াতেন, নীরবে অশ্রু বিয়োগের জন্য তাঁর অভিনয় ছিলো সাবলীল।

৬) জসিমই আবিষ্কার করেছিলেন আজকের নায়ক রিয়াজকে। ১৯৯৪ সালে রিয়াজ তার চাচাতো বোন ববিতার সাথে বিএফডিসি’তে ঘুরতে এসে নায়ক জসিমের নজরে পড়েন। জসিম তখন তাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন এবং পরবর্তীতে জসিমের সাথে ‘বাংলার নায়ক’ নামের একটি ছবিতে ১৯৯৫ সালে অভিনয় করেন রিয়াজ।

ব্যক্তিজীবন : জসিমের আসল নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। জন্ম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জের বক্সনগর গ্রামে। লেখাপড়া করেন বিএ পর্যন্ত। জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন ড্রিমগার্লখ্যাত নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। খলনায়ক ও নায়ক দুই চরিত্রেই উজ্জ্বল নক্ষত্র জসিম। ১৯৯৮ সালের ০৮ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে পরলোকগমন করেন।

কমেন্টস