‘বড় ছেলে’র বিদায়ের সিনটা দেখে পুরো ইউনিট কেঁদেছিলোঃ অপূর্ব

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭

সকলের কাছে এখন একজনই ‘বড় ছেলে’। তিনি দেশীয় টেলিভিশনের তারকা অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। গেলো ঈদের সবচেয়ে আলোচিত নাটক ‘বড় ছেলে’তে অভিনয়ের সুবাদে এই তকমা পেয়েছেন তিনি। ঈদ চলে গেলেও নাটকটি দেখতে দর্শকদের আগ্রহ কমেনি এতটুকু। নাটকটি নিয়ে বড় ছেলের অনুভূতি ও বর্তমান ব্যস্ততা জানাতে বিডিমর্নিং এর মুখোমুখি হয়েছিলেন অপূর্ব। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

‘বড় ছেলে’ কেমন আছেন?

অপূর্বঃ (হেসে) ভালো।

বাস্তব জীবনেও কি আপনি পরিবারের বড় ছেলে?

অপূর্বঃ না, আমি পরিবারের সেজো ছেলে।

ঈদ কেমন কাটলো?

অপূর্বঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌, ভালো। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কাজ করেছি। ঈদের দিন ও পরের দিন পরিবারকে সময় দিয়েছি। তারপর আবার কাজে নামতে হয়েছে।

‘বড় ছেলে’ নাটকটি নিয়ে আপনার অনুভূতি…

অপূর্বঃ নাটকটি দেখে সবাই যেমন বলছে, ‘বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, আমিও আসলে আমার অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। নাটকটি নিয়ে দর্শকদের এত সাড়া যে কোন অভিনেতার জন্য বিরাট পাওয়া। শুধু আমার না, আমাদের পুরো টিমের জন্য দর্শকদের এই ভালোবাসা সত্যিই এক নিদর্শন।

এখনতো আপনি সবার কাছে ‘বড় ছেলে’ হয়ে গেছেন…

অপূর্বঃ (হেসে) এটা বলবো একজন অভিনেতার সার্থকতা। দর্শকরা যখন একটি চরিত্রের কথা চিন্তা করে, চরিত্রটিকে আপন করে নেয় তখন সেটা অভিনেতার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। দর্শকদের এই ভালোবাসা সত্যিই ভালোলাগার।

নাটকটির সাথে আপনার জীবনের কোন মিল আছে?

অপূর্বঃ অবশ্যই মিল আছে। আসলে এটি একটি দায়িত্ববান ছেলের গল্প। এখানে বড় ছেলে, মেজো ছেলে, ছোট ছেলে যে কেউ হতে পারে। একজন মেয়েও এই চরিত্রের হতে পারে। সে বড় কি মেজো সেটা কোন ব্যাপার না। দায়িত্ব পালনটাই মুখ্য।

মেহজাবিন সম্পর্কে আপনার মতামত…

অপূর্বঃ মেহজাবিন খুব ভালো অভিনেত্রী। কো-আর্টিস্ট হিসেবে তার তুলনা নেই। সে খুবই প্রফেশনাল একজন অভিনেত্রী। আমি ওর অন্য নাটকগুলো দেখেছি। শুধু আমার সাথে না, সবার সাথেই সে ভালো কাজ করে।

‘বড় ছেলে’ এবং ‘ব্যাচ ২৭’ নাটক দুটির চ্যালেঞ্জিং জায়গা কতটুকু?

অপূর্বঃ আমি আসলে চ্যালেঞ্জিং জায়গার কথা চিন্তা করে কাজ করি না। আমি আমার অনুভূতির জায়গা থেকে কাজ করি। আমি কোন চ্যালেঞ্জ নেই না। আর চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কোন কাজ করতে চাই না। ওইটা একটা এক্সট্রা প্রেসার ফেলে। একজন অভিনেতার মস্তিষ্ক হওয়া উচিত একদম ফ্রি, সাদা পাতার মতো।  যখন যে চরিত্র দেয়া হবে সেটি তার মতো করে প্লে করবে। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিলে আমার মনে হয় না খুব ভালো কোন আউটপুট বের হয়।

‘বড় ছেলে’ নাটকের কান্নার দৃশ্যটি করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?

অপূর্বঃ কান্নার দৃশ্যটি নাটকের শেষ সিকুয়্যান্স ছিলো। স্ক্রিপ্টের লেখাটাই আসলে অনেক সুন্দর ছিলো। নাটকটির সাথে আমরা টিমের সবাই আত্মিক হয়ে পড়েছিলাম। সিনটার সাথে সত্যিই আমরা জড়িয়ে গিয়েছিলাম। যার কারণে গ্লিসারিন বা অন্য কিছু লাগেনি। সেখানে আমরা ন্যাচারালি অভিনয় করেছিলাম। বিদায়ের সিনটা দেখে পুরো ইউনিট কেঁদেছিলো।

নাটকটির সফলতা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন?

অপূর্বঃ না। সত্যি বলতে আমরা কেউই আন্দাজ করতে পারিনি নাটকটি এত সফলতা পাবে। ভালো হবে এটা জানতাম। মানুষ পছন্দ করবে ভেবেছিলাম, কিন্তু এতটা সাড়া পাবো সেটা ভাবিনি।

হাতে নতুন কি কাজ আছে?

অপূর্বঃ অনেক কাজ।

দর্শকরা আপনাকে চলচ্চিত্রে দেখবে কবে?

অপূর্বঃ দেখা যাক, সময় আসুক।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

অপূর্বঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

কমেন্টস