যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে নতুন নীতিমালা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

দীর্ঘদিন ধরেই যৌথ প্রযোজনার  নীতিমালা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণ নীতিমালা যুগোপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ আকারে তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। এ ধরণের চলচ্চিত্রে শিল্পী-কলাকুশলীর সমানুপাত বাধ্যতামূলক করে নতুন নীতিমালার খসড়া করেছে সরকার। খসড়াটি করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। জেনে নিন কি আছে নতুন নীতিমালায়-

১. যৌথ প্রযোজনার নির্মিত সকল চলচ্চিত্রের যেকোন প্রচার-প্রচারণায় যৌথ প্রযোজনার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম সমানভাবে ও গুরুত্বসহকারে উল্লেখ থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিল্পীর ছবি সমানভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

২. বিদেশি কোন প্রযোজক বা পরিচালক যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে তিনি বা তারা বাংলাদেশে যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি পাবেন না।

৩. পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর যৌথ চলচ্চিত্র পরিচালক নিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। তবে সাধারণভাবে যৌথ চলচ্চিত্র প্রযোজনার ক্ষেত্রে প্রধান চরিত্রের অভিনয় শিল্পী এবং মূখ্য কারিগরি কর্মীসহ শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। কাহিনীকার, সংলাপ রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, গায়ক-গায়িকা, সহকারী পরিচালক, নৃত্য পরিচালক, কোরিওগ্রাফার, চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক, শিল্প নির্দেশক, বিশেষ দৃশ্য পরিচালক, ব্যবস্থাপকসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত অন্যান্য ব্যক্তিরা কারিগরি কর্মী ও কলাকুশলী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

৪. বাস্তব কোনো কারণ ও প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলী সমানুপাতিক হারে নিয়োগ না করে কমবেশি করার আবশ্যকতা থাকলে যৌথ প্রযোজনার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় যথাযথ যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হবে। বাছাই কমিটির মতামত সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় এ বিশেষ অনুমতি দেবে বলে নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

৫ .যৌথ প্রযোজনায় নির্মিতব্য চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য পরীক্ষা ও পর্যালোচনাসহ পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব পরীক্ষা করে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ বা মতামত দিতে এবং নির্মাণ শেষে চলচ্চিত্র দেখে প্রদর্শনের জন্য চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডে দাখিলের ছাড়পত্র দিতে বিএফডিসিতে (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন) একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হবেন এই কমিটির সভাপতি। এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (চলচ্চিত্র), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজন সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির প্রতিনিধি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রতিনিধি ও সরকারের মনোনীত একজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। বিএফডিসির পরিচালক (উৎপাদন) এ কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটির প্রস্তাব বিবেচনা করে তথ্য মন্ত্রণালয় যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেবে।

৬ .যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের অনুমতি দেওয়া ও নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের বিষয়ে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোন অভিযোগ থাকলে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করতে পারবেন। আপিল আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একটি আপিল কমিটি থাকবে। তথ্য সচিব হবেন এ কমিটির সভাপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম বা অতিরিক্ত সচিব ও সরকার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজন ব্যক্তি। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া বাছাই কমিটির অন্য কোনো সদস্য আপিল কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।

৭. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্রের কাহিনী মৌলিক হতে হবে।

৮. চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের লোকেশন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সমানুপাতিক হারে নির্ধারিত হবে। তবে কাহিনি ও চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে এবং বাস্তব কোন কারণে শুটিয়ের লোকেশন সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করা না গেলে আবেদনপত্র দাখিলের সময় যথাযথ যৌক্তিকতা প্রদর্শন করতে হবে। বাছাই কমিটির মতামত সাপেক্ষে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিশেষ অনুমতি দেবে। কাহিনির প্রয়োজনে তৃতীয় কোন দেশ এবং দেশগুলোতে যৌথ চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন করা যাবে।

৯. চূড়ান্ত অনুমোদন ও চিত্রায়নের অনুমোদনের আগে চলচ্চিত্র নির্মাণ কাজ ও শ্যুটিং শুরু করা যাবে না। চিত্রায়নের অনুমতি পাওয়ার পর ন্যূনতম ৭৫ দিন পার না হলে এই চলচ্চিত্র প্রিভিউর জন্য জমা দেওয়া যাবে না।

১০. যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র চিত্রায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের লোকেশনে চিত্রগ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে স্থান ও তারিখ উল্লেখ করে বাংলাদেশি প্রযোজকের পক্ষ থেকে বিএফডিসিকে অবহিত করতে হবে। কোন প্রযোজক বা পরিচালক একই বছরে যে কোনো সংখ্যক যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে পারবেন।

এছাড়া যে সব কারণে কোন যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে আগের নীতিমালার সেই বিষয়গুলো নতুন নীতিমালায় বহাল রাখা হয়েছে।

Advertisement

কমেন্টস