ঈদ চলে গেলেও রয়ে গেছে ‘বড় ছেলে’

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

গেলো ঈদের সবচেয়ে আলোচিত নাটক ‘বড় ছেলে’। তরুণ ও মেধাবী নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের পরিচালনায় অপূর্ব-মেহজাবিন জুটির কেমিস্ট্রি দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ঈদ চলে গেলেও রয়ে গেছে ‘বড় ছেলে’। সকলের ইচ্ছা ‘বড় ছেলে’র সিক্যুয়াল নির্মিত হোক। এ বিষয়ে বিডিমর্নিং এর সাথে কথা হলো নির্মাতা মিজানুর রহমান আরিয়ানের সঙ্গে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ ভালো।

ঈদ কেমন কাটলো?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ ঈদ কাটলো ব্যস্ততায়। আমি কম কাজ করার চেষ্টা করি। কিন্তু এই ঈদে দর্শকদের জন্য হোক আর চাপে পড়ে হোক একটু বেশি কাজ করতে হয়েছে। এডিটিং প্যানেলেই ঈদ কাটলো।

এবারের ঈদের ভিন্নতা…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ এটা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। আমার বলার অপেক্ষা রাখে না।

‘বড় ছেলে’র প্রশংসা শুনতে কেমন লাগছে?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ অবশ্যই ভালো লাগছে। প্রশংসা শুনতে সবারই ভালো লাগে (মুখে হাসি)। যখন সেটি হয় আপনার কষ্টের একটি প্রজেক্ট তখন ভালোলাগাটা একটু বেশি কাজ করে।

‘বড় ছেলে’র প্রশংসার বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরেছিলেন?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ তিনটা ধাপে আমি বুঝতে পারি। প্রথম ধাপ হলো যখন আমার গল্পটা আমি প্রোডিউসারকে পাঠাই। তিনি এতটাই ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলেন যা আমি চিন্তা করতে পারি নি। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এটা কি গল্প লিখেছো ভাইয়া? তখন একটা ভরসা পেলাম, যে গল্পটা একজন প্রোডিউসারকে এতটা ইমোশনাল করতে পারে সে কাজটি ভালোই হবে।

দ্বিতীয় ধাপ…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ অপূর্ব ভাইয়ের সাথে যখন স্ক্রিপটা নিয়ে বসি তখন অপূর্ব ভাই বলে, ‘আরিয়ান দিস ইজ ইউর বেষ্ট স্ক্রিপ্ট সো ফার’।

সর্বশেষ…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ শুটিংয়ের লাস্ট সিকুয়েন্স করতে গিয়ে (যে সিনটি ভাইরাল হলো) বুঝি নাটকটি তার সাফল্যে পৌঁছাবে। লাস্ট সিকুয়েন্স করার সময় কাঁদার জন্য অপূর্ব ভাই, মেহজাবিন কারো গ্লিসারিন লাগেনি। মজার ব্যপার হলো- যখন সিকুয়েন্সটা শেষ হয়, উপস্থিত যারা শুটিং দেখছে তাদের সবার চোখে পানি। পুরো ঠাণ্ডা পরিবেশ। দর্শকরাই হাততালি দেয়া শুরু করে। তখন আমি বুঝলাম, এটা কিছু একটা হতে যাচ্ছে।

আপনিও কি বাবার ‘বড় ছেলে’?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ হ্যাঁ। শুধু আমি না আবার বাবা, দাদা তারাও বড় ছেলে। তবে আমি কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি।

‘বড় ছেলে’র পেছনের গল্পটি জানতে চাই…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ আমি লাইফে কখনো টিউশনি করিনি। তবে আমাকে যে পড়াতে আসতো দেখতাম উনি আম্মুর কাছে চাচ্ছে, ‘আন্টি আমার কিছু টাকা দরকার, এখনো মাস শেষ হয়নি আমাকে কিছু টাকা দেয়া যাবে?’ এছাড়াও আমার অনেক বন্ধুকে দেখেছি। আমি লাইফের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছোট ছোট মোমেন্টগুলো নিয়ে গল্পটি তৈরি করেছি।

‘বড় ছেলে’ শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ শুটিংয়ের প্রত্যেকটা অনুভূতি খুব ভালো ছিলো। প্রতিটা সিনের কাজ শেষ করেই মনে হয়েছে ভালো কিছু হচ্ছে। আমি কাজের প্রতি খুব খুঁতখুঁতে। কোন একটা কাজ এমন হলো কেন, এমন হচ্ছে না কেন এগুলো ভাবতে থাকি। কিন্তু ‘বড় ছেলে’র প্রতিটা সিকুয়েন্স করে আমি শান্তি পাচ্ছিলাম।

‘বড় ছেলে’র সিক্যুয়াল বানানোর পরিকল্পনা আছে?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ আমি বিভিন্ন পেইজে দেখতে পাচ্ছি, ইভেন্ট খোলা হচ্ছে ‘বড় ছেলে ২’ চাই। ‘বড় ছেলে’ না হলে পরিচালককে হুমকি, ধামকি অনেক কিছুই হচ্ছে। এটা নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না, আমি বিষয়টি ভাবছি।

‘বড় ছেলে’র বাজেট…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ এটি খুব বেশি বাজেটের না, মোটামুটি বাজেটের। আসলে বাজেট নির্ভর করে গল্পের উপর। ‘বড় ছেলে’র জন্য যদি আমাকে অনেক বেশি বাজেটও দিতো তবু মনে হয় না এর চেয়ে ভালো কাজ হতো। গল্পের জন্য যে বাজেট ছিলো ওটা আমি মোটামুটি পেয়েছি।

এবার ঈদে আপনার ‘বড় ছেলে’ এবং ‘ব্যাচ ২৭’ দুটোতেই জুটি হিসেবে অপূর্ব ও মেহজাবিনকে দেখা গিয়েছে। সেটা কেন?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ ‘ব্যাচ ২৭’ ওয়ানে ছিলো অপূর্ব, মিথিলা ও অপর্ণা। যখন কোন প্রোজেক্ট হয়, আমি সবসময় যেটা করি তা হলো- দর্শকদের ধরে রাখার জন্য। যখন খুব নামী একজন অভিনয়শিল্পীর পাশে আপনি নরমাল একজন আর্টিস্টকে রাখবেন তখন দর্শকরা বুঝে যায় এনডিং কার সাথে হবে। কিন্তু দুজনই যখন গুণী অভিনয়শিল্পী হয়, তখন দর্শকরা বুঝতে পারে না কার সাথে এনডিং হতে যাচ্ছে। মিথিলা ও মেহজাবিন দুজনই গুণী অভিনয়শিল্পী। এতে দর্শকরা কনফিউশনে ছিলো কার সাথে এনডিং হবে।

আবার যখন আমি ‘বড় ছেলে’র গল্পটা লিখি তখনই মনে হয়েছিলো এটাতে মেহজাবিনকেই মানাবে। মেহজাবিনও তার অভিনয়ে সে প্রমাণ দিয়েছে।

‘বড় ছেলে’র জনপ্রিয়তার কারণে ঈদের অন্য কাজগুলো ঢাকা পড়ে গিয়েছে সে প্রসঙ্গে আপনার মতবাদ…

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ এটা আমাকেই অনেকে ম্যাসেজে বলেছে। এমনকি মেহজাবিনও বলেছে। অন্য কোন নির্মাতাও যদি ‘বড় ছেলে’ বানাতো সেটি যদি আমার ভালোলাগত আমিও তার প্রশংসা করতাম।

আমরা আপনার মিউজিক ভিডিওর সাফল্য দেখেছি, নাটকের সাফল্য দেখছি, আপনার এই সাফল্যের মূলমন্ত্র কি?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ আচ্ছা এই ব্যপারে আমি যেটি বলবো, প্রতিদিন রাত শেষ হয় ইউটিউবে আমার কনটেন্টগুলোতে দর্শক কি কমেন্ট করছে সেটি দেখতে দেখতে। সকালে উঠে দেখি নতুন কি কমেন্ট আসলো। আমি প্রচুর অডিয়েন্সকে নিয়ে ভাবি। অডিয়েন্স যা পছন্দ করে আমি সেটি নিয়ে বানাতে চাই। অডিয়েন্সের পছন্দকে গুরুত্ব দেই।

বড় পর্দায় পরিচালনায় আসছেন কবে?

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ বড় পর্দায় আসার প্রস্তুতি চলছে। এরইমধ্যে আমার গল্প ঠিক করা হয়ে গেছে, প্রোডিউসার রেডি, আর্টিস্ট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সামনের কাজগুলো গুছিয়েই আমি সিনেমার বিষয়টি সামনে আনবো।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মিজানুর রহমান আরিয়ানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

কমেন্টস