গভীর সংকটে বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি !

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

বর্তমান সময়ে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি জগতে কপিরাইট আইনের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ করে কতিপয় ব্যক্তি মামলা বাজির মাধ্যমে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডন মিউজিকের প্রযোজক বাবুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলায় বাংলাদেশের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি পড়তে যাচ্ছে গভীর সংকটে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলাশান ও ধানমন্ডি থানায় অবৈধভাবে গান ব্যবহারের অভিযোগে ডন মিউজিকের বরাত দিয়ে প্রখ্যাত লালনগীতি শিল্পী ফরিদা পারভিন দুটি পৃথক মামলা করেন। যার প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন মামলায় অভিযুক্তরা।

গত ২০ আগস্ট ২০১৭ গুলশান থানায় দায়েরকৃত মামলায় ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ লি: এর চীফ কো-অর্ডিনেটর মেহেদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গুলশান থানায় সঙ্গীতশিল্পী জানে আলম ও ইকবাল হোসেনসহ মোট ৮ জনের নামে মামলাটি করা হয়। মামালা নম্বর হচ্ছে ১১৯৪/১৭। এ মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ইমরুল করিম, কান্ট্রি ম্যানেজার- ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ, মাজহারুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক- লেজারভিশন, রাজু, নির্বাহী কর্মকর্তা- ইয়োন্ডার মিউজিক বাংলাদেশ।

এদিকে, ধানমন্ডি থানায় আরো একটি পৃথক মামলা করা হয়েছে। মামলা নিয়ে অভিযুক্তকারীরা বলেন, ‘মামলায় বর্ণিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। অবৈধভাবে চাপ সৃষ্টি করে আইনের অপব্যাখ্যা ও অপপ্রয়োগ করে নগদ অর্থ আদায়ের জন্য এই মামলা করা হয়েছে।’

অভিযোগকারীরা আরো বলেন, ‘ফরিদা পারভিন সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন সঙ্গীতশিল্পী। তিনি বাবুল চৌধুরীর প্ররোচনায় এরকম একটি ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন।’

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অনেকের সঙ্গে আলাপকালে তারাও বাবুল চৌধুরীর এমন কার্যকলাপের নিন্দা জানান এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই তাকে এই ধরণের কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে মামলার বাদী পক্ষের বাবুল চৌধুরীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আমাদের মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রির এখন অসময় চলছে। আপনি নিউজটি করবেন না, আপনি নিশ্চয়ই সঙ্গীত পছন্দ করেন। এখন এরকম নিউজ করলে আমাদের ইন্ড্রাস্ট্রির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। কেননা ব্যবসার অবস্থা তেমন ভাল নয়।’

একদিকে এই বিষয়ে নিউজ করতে নিষেধ করছেন, অন্যদিকে তিনি নিজেই তাহলে কেন এই মিথ্যা মামলাটি করলেন? এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে বাবুল চৌধুরী ফোনের লাইন কেটে দেন।

আমরা আশা করি আমাদের দেশের সঙ্গীতের সুদিন আবার ফিরে আসবে। তবে তার জন্য সব মিথ্যা-বানোয়াট মামলা বাদ দিয়ে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। শ্রোতা-পাঠকরা মামলার খবর নয়, নতুন নতুন গানের খবর পড়তে চান। তারা নতুন গান শুনতে চান।

কমেন্টস