প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষুব্ধ দর্শকের অভিযোগ বন্ধ হতে পারে সিরিয়ালটি

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

ভারতে নাবালক-নাবালিকাদের বিয়ে আটকানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সেখানে টেলিভিশন সিরিয়ালে কেন দেখানো হচ্ছে নাবালকের বিয়ে? প্রশ্নের মুখে হিন্দি সিরিয়াল ‘পেহেরাদার পিয়া কী’। ১০ বছরের বালকের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক কনের বিয়ে দেওয়া নিয়ে নির্মিত এই সিরিয়াল জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো হবে যা টেলিকাস্ট হওয়ার আগে থেকেই বিতর্কে। এতে নাবালকের সঙ্গে যুবতীর বিয়েও হচ্ছে, আবার ফুলশয্যাও দেখানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পরিকল্পনাও হয়েছে।

সিরিয়ালটি বন্ধের আবেদন জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও পুলিশ কমিশনার দাত্তা পদসালগিকারের কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছে দেশটির একটি এনজিও। তাদের বক্তব্য, এই সিরিয়াল সমাজের ওপর কুপ্রভাব ফেলছে। তাই অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট আফরোজ মালিকের অভিযোগ, একজন ১০ বছরের নাবালকের সঙ্গে তরুণীর বিয়ে দেখানো হয়েছে। তাদের ফুলশয্যার দৃশ্য সম্প্রচারিত হয়েছে। মেয়েটির কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছে নাবালকটি। এটি কি যৌন সম্পর্কের প্রতিনিধিত্ব করছে না?

অভিযোগপত্রে এনজিওর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব দৃশ্য সম্প্রচারিত করে  কিশোরদের যৌনতা নিয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রচ্ছন্নভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সমাজের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

সংগঠনের প্রশ্ন, এসবই যদি দেখানো হবে তাহলে নাবালক-নাবালিকা বিয়ে রোধে এত টাকা খরচ করে সরকারের তরফে প্রচার করা হচ্ছে কেন? টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এই সিরিয়াল সরকারের প্রচেষ্টাকে ছোট করছে। আর সেন্সর বোর্ড কীভাবে এসবের অনুমতি দেয়?

প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষুব্ধ দর্শকের অভিযোগ বন্ধ হতে পারে সিরিয়ালটি

এমন সিরিয়াল শো’র বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দর্শকরা। ২০১৭ সালে এসে এমন কাহিনী দেখিয়ে কোন ধরনের বিনোদন চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দর্শকদের দিতে চাইছেন, কিছুদিন আগেই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিনেতা করণ ওয়াহি। তাঁর সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছিলেন আরেক অভিনেতা ও শোয়ের অন্যতম অঙ্গ সূইয়াশ রাই।

ভারপ্রাপ্ত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী স্মৃতি ইরানির দরবারে। অবিলম্বে এই বিকৃত কাহিনী বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছে। আর এই আবেদনের পক্ষে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি স্বাক্ষর জমা পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ইতিমধ্যেই ব্রডকাস্টিং কন্টেন্ট কমপ্লেন্টস কাউন্সিলকে (BCC) নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

এর আগেও এ বিষয় নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে অভিনয়কারী তেজস্বী প্রকাশ। গোটা কাহিনী না জেনে প্রতিবাদ করছে সাধারণ মানুষ, বলেছিলেন তিনি। শুধু এনজিও কেন, সিরিয়ালটি বন্ধ করানোর পক্ষে প্রশ্ন করেছেন অনেকে। স্মৃতি ইরানির কাছে এ নিয়ে প্রায় এক লাখ সই সংবলিত পিটিশন জমা পড়েছে। এখন কী সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তার ওপর নির্ভর করছে সিরিয়ালের ভবিষ্যৎ।

সিরিয়ালের মুখ্যচরিত্র তেজস্বী প্রকাশকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর উত্তর, পুরো কাহিনী না জেনেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছে মানুষ। কেবলমাত্র মলাট দেখে পুরো বইয়ের ভাল-মন্দ বিচার করা যায় না। কাহিনীতে কোনও বিতর্কিত বিষয় নেই বলেই দাবি তাঁর।

Advertisement

কমেন্টস