বিবাহ-বিচ্ছেদের অনলে জ্বলেছেন এই তারকারা

প্রকাশঃ আগস্ট ১২, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

তাদের কেউ কেউ নির্মাতা, আবার কেউ অভিনয়শিল্পী। টিভি পর্দার মাধ্যমে তারা পৌঁছে যান সকলের ঘরে। মানুষকে আনন্দ দিতে তারা নিরলস কাজ করেন। তাদের কাজ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। ক্লান্তি দূর করতে বিনোদনের উৎস হিসেবে কাজ করেন তারা। সকলের ঘরে সুখের পরশ ছড়ালেও তাদের অনেকের নিজের ঘরে সুখ নেই। সমাধান হিসেবে তারা বেছে নেন ‘বিচ্ছেদ’। পরবর্তীতে অনেকে দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করলেও কেউ কেউ থাকছেন সিঙ্গেল। চলুন জেনে নেয়া যাক কিছু তারকার বিচ্ছেদের কারণ-

জহির রায়হানঃ প্রয়াত কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান। হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন তিনি। এখন পর্যন্ত তার কোন খোঁজ মেলেনি। ব্যক্তিজীবনে ১৯৬১ সালে চিত্রনায়িকা সুমিতা দেবীকে বিয়ে করেন তিনি। তার সেই সংসার টিকেনি। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী সুচন্দাকে।

হুমায়ূন আহমেদঃ বিচ্ছেদের মাধ্যমে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও গুলতেকিনের ৩০ বছরের সংসারের ইতি ঘটে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার পরে হুমায়ূন আহমেদ বিয়ে করেন অভিনেত্রী শাওনকে। তাদের বিয়ে মিডিয়ায় রীতিমত সাড়া ফেলে দিয়েছিলো।

হুমায়ুন ফরিদীঃ ঢাকাই ছবির কালজয়ী অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী প্রথমে বিয়ে করেন মিনুকে। কিন্তু তাদের ঘরেও বাসা বাঁধে বিচ্ছেদ। ১৯৮৪ সালে মিনুর সঙ্গে সর্ম্পকচ্ছেদ করে অভিনেত্রী সুবর্না মুস্তাফাকে বিয়ে করেন প্রয়াত এই অভিনেতা। তবে সেই সংসারও টিকেনি। মৃত্যুকালে একাই বাস করতেন হুমায়ুন ফরিদী।

জসিমঃ প্রয়াত চিত্রনায়ক জসিম প্রথমে বিয়ে করেন চিত্রনায়িকা সুচরিতাকে। পরবর্তীতে অবশ্য তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি বিয়ে করেন চলচ্চিত্রাভিনেত্রী নাসরিনকে।

আলমগীরঃ জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীর প্রথমে খোশনুরকে বিয়ে করেন। তাদের কন্যা সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। কিন্তু খোশনুরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহিত জীবনের ইতি ঘটিয়ে সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে বিয়ে করেন আলমগীর। এখন তাদের সুখের সংসার।

সোহেল রানাঃ স্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন চিত্রনায়ক সোহেল রানা। এরপর ঢাকা মেডিকেলের সহকারী প্রফেসরকে বিয়ে করেন তিনি।

অমিতাভ রেজাঃ বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজাকে বাবা-মায়ের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী জেনি। তবে তাদের সংসার বেশিদিন টেকেনি। এরপর অভিনেত্রী মিথিলার ছোট বোনকে বিয়ে করেন অমিতাভ রেজা।

অপূর্বঃ ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ অপূর্ব ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী প্রভাকে। কিন্তু প্রভা বিয়ের আগে রাজিব নামক এক ছেলের সঙ্গে প্রেম ও অবাধ মেলামেশায় জড়িয়েছিলেন। অপূর্বর সঙ্গে প্রভার বিয়ের কিছুদিন পরে রাজিব ও প্রভার কিছু ভিডিওচিত্র ফাঁস হলে, প্রভাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন অপূর্ব। প্রভার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নাজিয়া হাসান অদিতির সঙ্গে নতুন সংসার বাঁধেন অপূর্ব।

এজাজ মুন্নাঃ ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্না ভালোবেসে বিয়ে করেন অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকে। তবে পরবর্তীতে এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে তাজিন মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তুললে তাদের সংসারে ফাটল ধরে। তাজিনের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে মুন্না লাক্স তারকা ও অভিনেত্রী মমকে বিয়ে করেন।

সোহেল আরমানঃ চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ছেলে অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল আরমানের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন অভিনেত্রী তারিন। বাবা-মায়ের অজান্তে পালিয়ে গিয়ে ২০০১ সালে তারিন বিয়ে করেন সোহেলকে। ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পরে জানাজানি হয়ে যায়। এরপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ভেঙে যায় সে সম্পর্ক। পরবর্তীতে সোহেল আরমান দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে সেই সংসারেও ভাঙ্গন ধরে।

হিল্লোলঃ হিল্লোল-তিন্নির বিয়ে বেশ আলোচিত ছিল। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তারা। হিল্লোলকে বিয়ে করতে ধর্মান্তরিত হয়ে মা-বাবাকে ছেড়ে চলে আসেন তিন্নি। এই দম্পত্তির ঘর আলো করে আসে এক কন্যা সন্তান। তবে এই তারকা দম্পত্তির সংসারও টেকেনি। তিন্নির প্রতি মাদক ও পরপুরুষের আসক্তির অভিযোগ তোলেন হিল্লোল। এ নিয়ে দুজনই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগ তোলেন। যা বিবাহ-বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়। এরপর হিল্লোল আরেক মডেল অভিনেত্রী নওশীনের সঙ্গে নতুন করে সংসার পেতেছেন।

দিতিঃ প্রয়াত অভিনেত্রী দিতি। বিয়ে করেছিলেন তার সহশিল্পী চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে। পরবর্তীতে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করেন দিতি। সে সংসারও বেশিদিন টেকেনি।

সুচরিতাঃ সুচরিতা প্রথমে বিয়ে করেন চিত্রনায়ক জসিমকে। তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়। এরপর সুচরিতা বিয়ে করেন প্রযোজক কে এম আর মঞ্জুরকে।

সুবর্ণা মুস্তাফাঃ সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৮৪ সালে অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৮ সালে সুবর্ণা হুমায়ুন ফরিদীকে ডিভোর্স দেন এবং নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

শমী কায়সারঃ ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের তারকা রিঙ্গোকে বিয়ে করেন শমী কায়সার। তাদের সংসারের স্থায়িত্ব ছিল দুই বছর। নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেলে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। এরপর শমী বিয়ে করেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আরাফাতকে।

তাজিন আহমেদঃ ছোট পর্দার পরিচালক এজাজ মুন্নাকে ভালোবেসে বিয়ে করেন তাজিন আহমেদ। তাদের সংসারও বেশিদিন টেকেনি। এজাজ মুন্নার বিরুদ্ধে তাজিন মাদকাসক্তি ও পরনারী আসক্তির অভিযোগ তোলায় তাদের সংসারে ফাটল ধরে। এরপর তাজিন বিয়ে করেন এক মিউজিশিয়ানকে।

নওশীনঃ নওশীন নেহরিন মৌ মিডিয়ায় প্রথম কাজ শুরু করেন আরজে হিসেবে। পরে তিনি টিভি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান। এক পর্যায়ে তিনি টিভি নাটকেও নিয়মিত কাজ শুরু করেন। মিডিয়ায় কাজ করতে করতেই অভিনেতা হিল্লোলের সঙ্গে ঘনিষ্টতা বাড়তে থাকে। হিল্লোল তার স্ত্রী তিন্নিকে ছেড়ে নওশীনকে বিয়ে করেন। তবে এটি নওশীনের প্রথম বিয়ে ছিল না। মিডিয়ায় কাজ শুরু আগে তিনি বিয়ে করেন প্রেমিককে। কিন্তু সেই বিয়ে টেকেনি বেশি দিন। সেই ঘরের একটি সন্তানও রয়েছে নওশীনের।

সুজানাঃ মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সামির নামের এক যুবককে ২০০৬ সালে বিয়ে করেন। সে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। এরপর বয়সে ৭ বছরের ছোট কণ্ঠশিল্পী হৃদয় খানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে খুব দ্রুত ভাঙ্গন ধরে তার পরবর্তী দাম্পত্য জীবনেও।

বিজরী বরকত উল্লাহঃ অভিনেত্রী বিজরী বরকত উল্লাহ ও সংগীত পরিচালক শওকত আলী ইমন একে অপরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ফুটফুটে সুন্দর এক কন্যা সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু তাদের এ বিয়ে বেশি দিন টেকেনি। ডিভোর্স হয় তাদের। বিজরী পরে বিয়ে করেন অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে।

অপি করিমঃ অভিনেত্রী অপি করিম ২০০৭ সালে জাপান প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার তাসির আহমেদকে বিয়ে করেন। অপির মিডিয়ায় ব্যস্ততা এবং মিডিয়ার লোকদের সঙ্গে মেলামেশাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তাসির। অন্যদিকে তাসিরের বিরুদ্ধে আগে আরো একটি বিয়ে করাসহ নানা অভিযোগ তোলেন অপি। ফলে বছর না গড়াতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর অপি প্রেমে পড়েন নাট্য পরিচালক মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের। তারা বিয়েও করেন। কিন্তু সেই বিয়েও বেশিদিন টেকেনি।

প্রভাঃ ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রভা ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা অপূর্বকে। কিন্তু বিয়ের পরে প্রভার আগের প্রেমিক রাজিব, প্রভা ও তার অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রকাশ করলে, অপূর্ব ডিভোর্স দেন প্রভাকে। বিচ্ছেদের পর মাহমুদ শান্ত নামের এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন প্রভা।

কমেন্টস