পৃথিবীতে পাঠানোর প্রধান কারণ হলো আল্লাহ’র ইবাদত করাঃ অনন্ত জলিল

প্রকাশঃ আগস্ট ৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

বর্তমানে ব্যবসার পাশাপাশি ধর্ম প্রচারে মনোযোগী আছেন বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার অনন্ত জলিল। দিন-রাত নামাজ-তাসবিহ তাহলিল- এসব ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি।

গত জানুয়ারি মাসে তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে গিয়েছিলেন ওমরাহ হজ পালন করতে। এরপর ইসলাম ধর্ম প্রচারে যোগ দিয়েছেন তাবলীগে জামাতে। এমনকি তাবলীগ জামায়াতের সাথে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি মসজিদেও অবস্থান করছেন রূপালি পর্দার এই নায়ক। এর মাধ্যমে তিনি যুব সমাজকে ধর্মের পথে, ইসলামের পথে আসার জন্য দাওয়াত দিচ্ছেন।

এদিকে অনন্ত জলিলের ধর্মের দিকে এই আকর্ষণকে ফোকাস করে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

অনন্ত জলিলকে দেখার জন্য রাস্তায় ভিড় করেন তার হাজার হাজার ভক্ত। ইসলামিক পাগড়ি ও লম্বা পাঞ্জাবি পরা তার ছবি সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।

এএফপি’কে অনন্ত জলিল বলেছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশের যুব সমাজকে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের দিকে আহ্বান করবেন তার খ্যাতি বা জনপ্রিয়তাকে ব্যবহার করে।

তিনি এএফপি’কে বলেছেন, এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন তাবলিগ জামায়াতে। এর আগে এ বছরের শুরুতে তিনি ওমরাহ পালন করেছেন। অনন্ত জলিলের ভাষায় আমাদেরকে জীবন দিয়েছেন আল্লাহ। এই পৃথিবীতে পাঠানোর প্রধান কারণ হলো তার ইবাদত করা। আমি মক্কায় এটা শিখতে পেরেছি। যদি আমি যুব সমাজের মাঝে ইসলাম প্রচার করি তাহলে তারা আল্লাহকে মেনে চলবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) কে অনুসরণ করবে। দিনে ৫ বার নামাজ আদায় করবে।

অনন্ত জলিল বলেছেন, আগামী এক বছর তিনি ইসলাম প্রচারে ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি এ সময়ে তিনি ছবিতে অভিনয় অব্যাহত রাখবেন।

নিজের মধ্যে কেমন করে এই আমূল পরিবর্তন আনলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার অনন্ত জলিল। এ ব্যাপারে তার ব্যক্তিগত সহকারি কায়সার আহমেদ বাবু বলেন, প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভেঙেই নামাজ পড়ছেন অনন্ত জলিল। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, আর সময় পেলেই হাদিসের বই অনন্তর হাতে, গাড়িতেও যাত্রাপথে পড়ছেন ইসলামী বই। অফিসের কাজের বিরতিতে কুরআনও পড়ছেন। আর সুযোগ পেলেই ছুটে যাচ্ছেন ধানমন্ডি ৩২ এর তাকওয়া মসজিদে। এ মসজিদের খতিব মাওলানা উসামার সঙ্গে গত একবছর ধরেই সময় দিচ্ছেন অনন্ত জলিল।

পরিবর্তনের কারণ হিসেবে অনন্ত জলিলের ব্যক্তিগত সহকারি বলেন, বিগত দেড় বছর ধরেই ওনার মধ্যে এ ধরণের চেষ্টা দেখেছি আমরা। মূলত, গত ছয়মাস ধরেই তার মধ্যে আমরা ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। মূলত হজ্ব থেকে ফেরার পরই। তিনি এখন যেটা করছেন তা হলো, ব্যবসার পাশাপাশি মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেয়া, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। এখন তিনি ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের ইমামের তত্বাবধানে আছেন। সর্বশেষ গত তিনদিনও তিনি তাবলীগে ছিলেন।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল অভিনয়ের পাশাপাশি নানাধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত আছেন। দেশের অন্যতম এ গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী বড়পর্দায়ও নতুন নতুন চমক এনে দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

পেশাগত জীবনে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী অনন্ত জলিল সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৩টি এতিমখানা নির্মাণ করেছেন। মিরপুর ১০ এ বাইতুল আমান হাউজিং ও সাভার মধুমতি মডেল টাউনে আছে এতিমখানাগুলো। এ ছাড়াও সাভারের হেমায়েতপুরের ধল্লা গ্রামে সাড়ে ২৮ বিঘার উপর একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন অনন্ত জলিল। তিনি ঢাকার হেমায়েতপুরে অবস্থিত বায়তুস শাহ জামে মসজিদের নির্মাণকাজেও অবদান রাখেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে নিজের প্রযোজিত চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু হয় তার। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো-‘খোঁজ দ্য সার্চ’, ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘দ্য স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম টু’ ও ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’। সম্প্রতি অনন্ত জলিল ‘দ্য স্পাই’ ও ‘সৈনিক’ নামে দুটি ছবি নির্মাণের ঘোষণা দিলেও চলচ্চিত্র দুটির কাজ এখনও শুরু হয়নি।

 

Advertisement

কমেন্টস