আত্মহত্যাই ছিলো তাদের কাছে শেষ সমাধান !

প্রকাশঃ আগস্ট ১, ২০১৭

সুমাইয়া আকরাম ।।

শোবিজ জগতে প্রতিনিয়তই চলতে থাকে কোন না কোন ঘটনা। আজ কারো বিয়ে, আজ কারো বিচ্ছেদ তো আজ কেউ মারা গেলো, আবার কেউবা গলায় দড়ি দিয়েছে। এই আত্মহত্যার প্রবণতা ইদানিং বেশ বেড়ে গিয়েছে। পর পর অনেকজন দেশি-বিদেশি তারকা নিজের জীবনের আত্মহুতি দিলেন। তাদের কাছে আত্মহত্যাই সমাধান হিসেবে মনে হয়েছে, কিন্তু কেন? আত্মহত্যাই কি সব সমস্যার সমাধান?

সৃষ্টির কোন জীবের জন্য আত্মহত্যা সমাধান হতে পারে না। সমস্যা যত বড়ই হোক তার সমাধান জীবন শেষ করে হতে পারে না। জীবনে বেঁচে থাকা লড়াই করা এটাই জীবন, হেরে গিয়ে মরণের পথ বেঁছে নেয়া নয়। নিজ জীবনের সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আত্মহুতি দিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। গত ১ মাসে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির ৩ জন্য ব্যক্তিত্ব এভাবে নিজের জীবন বিলীন করেছেন। এর আগেও বহু তারকারা আত্মহত্যা করেছিলেন।

প্রথমে লিনকিন পার্ক গায়ক চেস্টার চার্লস বেনিংটন। তারপরে সংগীত পরিচালক, মাইলস ব্যান্ডের কি-বোর্ডিস্ট মানাম আহমেদের বড় ছেলে জাহিন আহমেদ। তিনি নিজেও এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড ম্যাকানিক্স-এর গিটারিস্ট ছিলেন। অতপর সবশেষে গতকাল দেশীয় র‍্যাম্প মডেল রিসিলা বিনতে ওয়াজের। শোবিজ জগতে চলছে এখন আলোচনা-সমালচনা চলছে।

বেনিংটনকে নিয়ে সারাবিশ্বে শোকের ছায়া পড়ে গিয়েছিল। জাহিন কম পরিচিত তবে তার এতো কম বয়েসে আকস্মিক মৃত্যুও মেনে নিতে পারেননি কেউ। রিসিলার স্বামীর প্রতি অভিমানে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়াও মানতে নারাজ সমাজ আর মানুষ। তবে কি তারা শান্তি পেয়েছে আত্মহত্যায়?

তারকাদের জীবনাবসানের কারণ হিসেবে কাজ করে অনেক কারণ। তারা খ্যাতি, বিপুল অর্থবিত্তের মালিকানা, উচ্চাভিলাষী জীবন, পারিবারিক অশান্তি ও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না আর এই ধ্যান-ধারণাই এক সময় তাদ্র হতাশার আড়ালে মরে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। যার প্রভাব পড়ে দেশ, সমাজ, তাদের পরিবার ও ভক্তদের উপর। ভক্তরা কি শিখবে তাদের প্রিয় তারকাদের থেকে?

সালমান শাহ, ১৯৯৬

আমাদের দেশে এই আত্মহত্যা এখনি প্রথম নয়। শুরুটা হয়েছিল সেই ৯০’র দশকে। প্রথম ছিলেন চলচ্চিত্রে প্রিয়মুখ বাংলাদেশের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। সেই ১৯৯৬ এর ঘটনা। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতে পা দিলেন সালমান শাহ। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একের পর এক জনপ্রিয় ও হিট সিনেমা উপহার দেন। এরপরই শুরু হয় তার সাথে অবিচার। তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র রাজনীতির প্রমাণিত এক উদাহরণ। সালমান শাহ এর মৃত্যুর খবর কেউ প্রথমে বিশ্বাস করেনি। যদিও সালমান মারা যান আত্মহত্যা করে তবে তার রহস্য আজো জটালো। সালমানের সাংসারিক জীবনের অশান্তির কথা সকলেরই জানা। ধারণা করা হয় তিনি জীবন নিয়ে হতাশ ছিলেন বলেই হয়ত আত্মহত্যায় ঝুঁকেছেন। তার মৃত্যুর পর তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ পায়, আত্মহত্যাই করেছিলেন সালমান। চিত্রপরিচালক সোহানুর রহমান সোহান এই যুক্তিকে সমর্থন দিয়ে বলেছেন, ‘সালমানের কোনো শত্রু ছিল না, সে আত্মহত্যা করেছে বলেই মনে হয়।

১৯৯৬ সালে ৬ সেপ্টেম্বর সকালে ‘তুমি শুধু তুমি’ ছবির শুটিংয়ের সিডিউল। অথচ সালমান ঘুমাচ্ছেন। বেলা ১১টার দিকে সালমান ঘুম থেকে উঠে চা ও পানি খান। এরপর ড্রেসিংরুমে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করেন। সে সময়ে দেহরক্ষী আবুলকে বলেন, ‘আমাকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে’। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবুল সালমানের স্ত্রী সামিরাকে জাগিয়ে বলেন, ড্রেসিংরুমে ঢুকেছেন সালমান বেশ খানিক আগেই তবে তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর সামিরা ১২টায় ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে ড্রেসিং রুমের দরজা খুলে দেখেন ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছেন সালমান। দুই কাজের মেয়ে মিলে তার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে আনে। এমন একজন পরিশ্রমী ও পারদর্শী অভিনেতা এভাবে চলে যাওয়ায় ভক্ত ও ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ডলি আনোয়ার, ১৯৯১

বাংলাদেশের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি আনোয়ার। চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন এর সঙ্গে ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্র তৈরির সময় ডলির পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তারা বিয়ে করেন। পরিবার, সম্পদ, যশ, খ্যাতির কমতি ছিল না। জনপ্রিয় অভিনেত্রী ডলি আনোয়ার ১৯৯১ সালের জুলাই মাসে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন। ডলি আনোয়ারের এই মৃত্যু রহস্যই থেকে গেছে। আত্মহত্যার পর নানা রকম গুজব শোনা যায়। বলা হয়, স্বামী আনোয়ার হোসেন ডিভোর্স দেওয়ার ডলি আনোয়ার বিষপান করেন।

মঈনুল হক অলি, ২০০৯

বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত শিল্পী, থিয়েটার-কর্মী, মডেল ও অভিনেতা মঈনুল হক অলি তার বাসায় আত্মহত্যা করেছিলেন। ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে অলি বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তার দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছিলো না বলে অলির ঘনিষ্ঠজনরা জানান। আর নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও হতাশায় ভুগছিলেন এ অভিনেতা। এসব কারণেই অলি আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করেন অনেকেই।

সুমাইয়া আজগর রাহা, ২০১২

লাক্স তারকা সুমাইয়া আজগর রাহা আত্মহত্যা করেন। মোহাম্মদপুরের বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। কিন্তু রাহা কেন আত্মহত্যা করেছেন,আজও তার সঠিক তথ্য মেলেনি। প্রেমিক চলচ্চিত্র নায়ক অনন্ত জলিল, বয়ফ্রেন্ড শাকিব ও নিজ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে লাক্স তারকা সুমাইয়া আজগর রাহা আত্মহত্যা করেছেন বলে মনে করা হয়। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া নায়ক অনন্তর ‘খোঁজ দ্য সার্চ’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন রাহা।

তখন থেকেই অনন্তর সঙ্গে রাহার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই ছবিরই নায়িকা বর্ষাকে ২০১১ সালে বিয়ে করেন অনন্ত। এতে রাহার সঙ্গে সম্পর্কের কিছুটা ভাটা পড়ে। পাশাপাশি মিডিয়ারই এক ছেলের সঙ্গেও রাহা প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। উগ্র চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডে কখনোই সায় দেননি রাহার পরিবার  বরং এ বিষয়ে মেয়েকে অনেকবারই সাবধান হতে বলেছেন। মেয়ের সঙ্গে পরিবারের সম্পর্কের তিক্ততা ছিল চূড়ান্ত। অবশেষে নিজ ফ্ল্যাটে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রাহা।

মিতা নূর, ২০১৩

২০১৩ সালের জানুযারী মাসে এক সকালে খবর পাওয়া গেলো মিষ্টি অভিনেত্রী মিতা নূর গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ ফ্ল্যাটেই আত্মহত্যা করেছেন। পারিবারিক কলহের কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে তখন খবর প্রকাশ করা হয়। কিন্তু অনেকে ধারণা করেন, ক্যারিয়ারের প্রতি হতাশ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

লোপা নায়ার, ২০১৪

২০১৪ সালে আত্মহত্যা করেন প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিন রাত্রি’ ধারাবাহিক নাটকের টুনি চরিত্র রূপদানকারী অভিনেত্রী লোপা নায়ার। পারিবারিক অশান্তির কারণেই নাকি এই অপমৃত্যু।

পিয়াস রেজা, ২০১৫

পিয়াস রেজার রাজধানীর ভাষানটেকে ঈদের দিন ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। ‘একমুঠো সুখ’ ‘অবশেষে’, ‘সাদাকালো মন’র’ মতো বেশকিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে তরুণ এই কণ্ঠশিল্পীর। তার পুরো নাম নাঈম ইবনে রেজা ওরফে পিয়াস। জানা গেছে, ২০১৫ রোজার ঈদের দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করেন পিয়াস। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীর সঙ্গে পিয়াসের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ভালোই চলছিল। হঠাৎ করে কয়েক দিন আগে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটে। ওই মেয়ের একটি ওড়না পিয়াসের কাছে ছিল। সেই ওড়না দিয়েই পিয়াস আত্মহত্যা করেছেন।

নায়লা, ২০১৫

মূলত অভিনেত্রীই হতে চেয়েছিলেন নায়লা। সেই লক্ষ্য নিয়েই মিডিয়ায় তার পথচলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু নায়লা তখনো জানেনি এই রঙিন দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া খুব একটা সহজ না। শিল্প আর শিল্পীর মূল্যায়ন খুব কমই হয় এখানে। তারপরেও চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন নবাগতা নায়লা। লোকনাট্য দল বনানীর একজন সদস্য ছিলেন তিনি। মঞ্চে কাজ করে নিজের অভিনয়ের দক্ষতাও বাড়াতে থাকেন। ‘ললিতা’, ‘পা রেখেছি যৌবনে’, ‘অ-এর গল্প’ ও ‘মুম্বাসা’সহ বেশ কিছু টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি।

কিন্তু হঠাৎ করেই হতাশায় পেয়ে বসে তাকে। সম্প্রতি তার মা মারা যাবার পর তিনি আরো বেশি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং তিনি তার ফেসবুকে হতাশামূলক স্ট্যাটাস দিতেন বলে জানান তার সহকর্মীরা। কি কারণে তার এই হতাশা, সে প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই এ বছরের ২০ মার্চ তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। শ্যামলীর বাসা থেকে নায়লার সিলিং ফেনে ঝুলানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার তাকে দাফন করা হয় মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

জ্যাকলিন মিথিলা, ২০১৭

আলোচিত-সমালোচিত মডেল জ্যাকলিন মিথিলা আত্মহত্যা করেছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন মিথিলা। একটি ৩০ জানুয়ারি রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে দেওয়া। এতে তিনি লিখেন, ‘কালকে আমি আত্মহত্যা করব। কেউ আমাকে প্রত্যাখান করে নাই। আমিও কাউকে প্রত্যাখান করি নাই। কিন্তু আমি আত্মহত্যা করব।’

মিথিলার ফেসবুকে পেজ ভিজিট করে জানা যায়, ওই পোস্টে ৯৫৫ জন লাইক দেন। পাশাপাশি বেশকিছু কমেন্ট পড়ে। আবার ৩১ জানুয়ারি সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে লিখেন, ‘ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে পা বাড়াচ্ছি।’

জাহিন আহমেদ, ২০১৭

আত্মহত্যা করেছেন দেশের অন্যতম সংগীত পরিচালক, মাইলস ব্যান্ডের কিবোর্ডিস্ট মানাম আহমেদের বড় ছেলে জাহিন আহমেদ। তিনি নিজেও এই প্রজন্মের অন্যতম ব্যান্ড ম্যাকানিক্স-এর গিটারিস্ট ছিলেন। একটি সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই বেলা তিনটার দিকে জাহিন আহমেদ ধানমণ্ডির নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। তবে এর কারণ এখনও জানা যায়নি।

রিসিলা বিনতে ওয়াজের, ২০১৭

নিজ ঘরে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন র‌্যাম্প মডেল অভিনেত্রী রিসিলা বিনতে ওয়াজের। ৩১শে জুলাই দুপুর দুইটার দিকে নিজ ঘরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন অভিনেত্রী রিসিলা। রিসিলা আত্মহত্যার পূর্বে মায়ের বাসা বাড্ডা এলাকায় নিজের ৪ বছরের মেয়েকে রেখে আসেন। এরপরেই সুভাস্তুর ওই বাসায় এসে আত্মহত্যা করেন।

গত কয়েক বছরে আরো তারকাদের আত্মহত্যার তালিকায় রয়েছেন—সিনহা, সাবিরা, জ্যাকলিন মিথিলা, অনেকেই। অন্যদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেও বেঁচে গেছেন লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মম, সায়লা সাবি কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি, মডেল-অভিনেত্রী প্রভা ও সারিকা। যদিও প্রভা এবং সারিকা আত্মহত্যা চেষ্টার খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই ব্যাধি কিন্তু বেড়েই চলছে।

তবে কেন শোবিজ জগতে এতো ঘনঘন আত্মহত্যা হচ্ছে? বাকি শোবিজ সদস্যরা এই বিষয়কে কিভাবে দেখেছেন?

এ প্রসঙ্গে অভিনেতা আফরান নিশো বলেন ‘আত্মহত্যার পথ নতুনরাই বেশি বেছে নিচ্ছেন। শোবিজের বাহিরেও হয়। তবে আমি শুধু এখনকার কথাই বলছি। আসলে শোবিজে পথ চলাটা তো সহজ না। অনেকে শুরুতেই খেই হারিয়ে ফেলে। জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটতে গিয়ে পা পিছলে পরে। তখন হায়হায় অবস্থা। সুস্থির হয়ে চলতে হবে এ পথে। সময়ের জোয়ার ভাটা হবেই। সেটা বুঝে চলতে হবে। এই যে আজ আমি নিশো। এত নাটক করছি। একটা সময় কী এমনটা ছিলাম? সুযোগের জন্য কত এ দ্বার ও দ্বার ঘুরেছি। কখনো কোন সুযোগ মিলেছে কখনো মিলেনি। হতাশা কী আমার মাঝে কখনো আসেনি? কিন্তু জয় করতে হলে তো বাঁচতে হবে আগে। জীবনকে সুন্দর ভাবে দেখার জন্য ভালো সময়গুলোকে মনে করতে হবে। মানুষের সাথে শেয়ারিংটা বাড়াতে হবে। কোন সমস্যা যদি নিজের ভিতর গুমট করে রাখে। তাহলে তো হতাশা আরো পেয়ে বসবে। আর এ মাধ্যমে যারা আসে বা আসতে চায়। পরিবার থেকেও তাদের যত্ন নেয়া উচিত। পরিবার যদি পাশে থাকে। তখন বিপদগুলো কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি একা পথ চলতে চায়। তখন একটু হোঁচটেই অনেক বেশি কষ্ট পেতে হয়। তখনই এসব ঘটনা হয়ে যায়।’

নায়িকা ববিতা বলেন, ‘অনেক সময় আমাদের দেশের মেয়েরা বিভিন্নভাবে নিগ্রহের শিকার হয়। এজন্যও অনেক শোবিজের মেয়েকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়। তবে বর্তমানে এ হার বাড়ছে। আসলে আজকাল তো পেশাদারিত্বের চেয়ে নষ্টামিটা বেশি হচ্ছে। অনেকে এই নষ্টামিটা সহজভাবে নিচ্ছে। অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে। অনেকের একটা মোহ থাকে এই শোবিজ অঙ্গনের প্রতি। এখানকার স্টারদের আশেপাশে থাকাটাও তাঁরা অনেক কিছু মনে করে। একটা সময়ে এইসব লোভি মানুষের চাহিদা ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দেয়ার অবস্থা হয়। তখনই একটা মেয়েকে আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথ বেছে নিতে হয়। অনেক সময় কাজ থেকেও হতাশা আসে। সবকিছু সামলে উঠতে পারে না।’

সংগীতশিল্পী পড়শী বলেন, ‘আত্মহত্যার মাধ্যমে নিজেকে শেষ করার মধ্যে তারা কি খুঁজে পায় আমি জানিনা। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, কিন্তু সেটিকে মানিয়ে নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে আগাতে হবে। সম্প্রতি সময়ে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশী দেখা যাচ্ছে। এর মূল কারণ হতে পারে হতাশা। ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের হতাশা একজন মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সে সময় যদি মানুষটি তার পরিবারের সাপোর্ট না পায় সেই অবসাদ মানুষকে আত্মহত্যার পথে প্ররোচিত করে।’

অভিনেতা সোহেল রানা বলেন, ‘প্রত্যেক শিল্পীরই তার জীবন নিয়ে একটা পরিকল্পনা থাকা উচিত। তা না হলে জীবনে ঝড়ঝাপটা এলে নিজেকে সামলাতে পারা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তখনই আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্তগুলো চলে আসে। জীবনের সঙ্কটময় পরিস্থিতিগুলো, দুঃসময়গুলো যখন মানুষ শক্ত হাতে সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে পারে, তখনই সে হয়ে ওঠে প্রকৃত মানুষ। যারা আত্মহত্যা করে বা করার চিন্তাটুকুও করে আমার কাছে তাদের প্রকৃত মানুষ বলে মনে হয় না। পরিকল্পনায় শিল্পীত জীবন যাপনের বিষয়টি থাকতে হবে। শিল্পীর জীবনে অনেক দায়বদ্ধতা থাকে। নিজের প্রতি, দেশের প্রতি ও সাধারণ মানুষে প্রতি থাকে সেসব দায়বদ্ধতা। সেসব মাথায় থাকলে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটতে পারে না।’

তিনি একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলেন, ‘একটা উদাহরণ দিয়ে শেষ করা যাক, ধরুন আপনি সুইসাইড করবেন বলে ভাবছেন। ১০ তলা ছাদের উপর উঠলেন লাফ দিতে। যখন আপনি লাফ দিবেন। প্রতি তলা আপনাকে আপনার দায়িত্ব মনে করিয়ে দিবে। আপনার প্রাপ্তিগুলো মনে করিয়ে দিবে। আপনার প্রত্যাশাগুলো মনে করিয়ে দিবে।  একটা সময় আপনার মনে হবে আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু বাঁচা তো সম্ভব হয় না। সিদ্ধান্ত আপনার, কিন্তু আপনি এ সমাজেরই একজন মানুষ। হতাশা সাময়িক ব্যাধি। তাকে ঝেড়ে নতুন উদ্যমে লড়াইয়ের নামই জীবন।’

কমেন্টস