‘ঈদের দিন বাবার কাঁধে সান্তানের লাশ’

প্রকাশঃ জুলাই ৫, ২০১৭

নিয়াজ শুভ।।

সন্তান এমন এক মায়ার বাঁধন যার জন্য বাবা-মা নিজের জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। আর সেই প্রিয় সন্তানের লাশ যে বাবার কাঁধে তুলতে হয়, একমাত্র তিনিই বোঝেন সে ভারটা কত যন্ত্রণার। বুধবার (৫ জুলাই) সংগীততারকা আসিফ আকবরের এক ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সেই যন্ত্রণার হালকা ছোঁয়া সকলের হৃদয় ভেদ করে।

বিডিমর্নিং পাঠকদের জন্য আসিফের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘ঈদের আগের রাতে খবর এলো সামিন আত্মহত্যা করেছে। ঘাড় বেয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেলো। সঙ্গে সঙ্গে বউকে ফোন করে বললাম আমাদের সন্তান রণ-রুদ্র কি করে, ঠিক আছে কিনা, তাদের সাথে কোন রকম দূর্ব্যবহার করা চলবে না। পরদিন সামিনের নামাজে জানাযা, ঈদের দিন বাবার কাঁধে সান্তানের লাশ, বাবার গগন বিদারী আর্তনাদে ভারাক্রান্ত এই অসহায় ধরণী, ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়, আমি ঢাকায় বসে অদ্ভূত শূন্যতায় ভূগে যাচ্ছি এখনো। ফেসবুকে লেখাতো দূরের কথা, সামিনের নিষ্পাপ চোখে নিজের সন্তানকে ভেবে আতঙ্কিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত।

সামিন ছিলো সাড়ে আঠারো বছরের যুবা হওয়ার পথে এক টগবগে কিশোর। আমি তাকে কখনো মিট করিনি। সামিনের বাবা প্রিয় রাজীব ভাই, তিনি আমার সেজো ভাইয়ের স্কুলমেট, আমাদের বড় ভাই, একজন সাবেক ক্রিকেটার। ফেসবুকের মাধ্যমে উনার দুই ছেলে সামিন আর রিহামকে চিনতাম। চোখে মুখে স্পষ্ট ফুটে থাকতো কোন এক অপ্রাপ্তির থাবার চিহ্ন। ব্রোকেন ফ্যামিলি বয়, ঢাকা রাজউক কলেজে পড়তো, বন্ধুবৎসল এই সামিন তার সমস্ত অতৃপ্তি আর আক্ষেপকে নিজের হাতে দাফন করেছে বিভীষিকাময় আত্মহননের পথ বেঁছে নিয়ে। সারাদিন বন্ধুদের সাথে মনের আনন্দে কাটালেও রাতে মায়ের সাথে রাগ করে মায়ের বাড়ীতেই নিজের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংসারে বিচ্ছেদ নতুন কোন ঘটনা নয়। সন্তানরা তার বাবার সঙ্গে খুবই হাসিখুশী ছিলো, অন্ততঃ এতোটুকু নিশ্চিত জানতাম। সামিন নেই- কেনো নেই ??? সামিন কি পেলো ?? কাকে বঞ্চিত করলো ?? আর আমাদের কি ম্যাসেজ দিয়ে গেলো ?? সামিন কি জানে তার বাবা উদভ্রান্তের মত তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে মুহুর্তে মুহুর্তে !! ছোট রিহাম কতটুকু অসহায় এখন তার বড় ভাইকে ছাড়া !!! এসব প্রশ্নের উত্তর নেই। বাবা সামিন পৃথিবীর কথা জানিনা, সান্নিধ্য ছাড়াই তোমার অনুপস্থিতি আমাকে যন্ত্রনার আগুনে পুড়িয়ে মারছে, ভাল থেকো বাবা।’

কমেন্টস