ব্ল্যাকমেলিং ও দেহ ব্যবসায় জড়িত, ফেসবুকের সহয়তায় গ্রেফতার ডিজে শিখা

প্রকাশঃ মে ১৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

লোক ঠকিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে ডিজে শিখা তিওয়ারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই শিখা তিওয়ারি নামে ২১ বছরের ওই তরুণীকে চোখে চোখে রাখছিলেন রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এর আধিকারিকেরা।

জানা যায় পেশায় ডিস্ক জকি (ডিজে) হলেও তার মূল কাজ মানুষকে ঠকিয়ে টাকা আদায়। এমনটা দাবি করেছে পুলিশ ও যে, শিখা দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিত্তশালীদের ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল করা অনেকের কাছ থেকেই টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

গত বছরে জয়পুরের এক চিকিৎসককে ঠকিয়ে তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এরপর মুম্বাইয়ে ডিজে হিসাবে কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ফেসবুকে তার লাইভ অনুষ্ঠানের সূত্র ধরেই পুলিশের তাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করতে চেয়ে গত বছর সুনিত সোনি নামে জয়পুরের এক চিকিৎকের সঙ্গে দেখা করেন শিখা। সেখান থেকেই সুনিতের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন তিনি। দু’জনে একসঙ্গে পুষ্করেও বেড়াতে যান। পুষ্করেই সুনিতকে হুমকি দিয়ে টাকার দাবি করতে থাকেন তিনি। মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় সুনিতকে ফাঁসিয়ে দেবেন এই হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে ২ কোটি টাকা দাবি করেন শিখা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার বিরুদ্ধে গত ২৪ ডিসেম্বর পুলিশে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন শিখা। সেই মামলায় ৭৮ দিন জেলেও কাটাতে হয় সুনিতকে। তবে ছাড়া পেলেও শিখা তার থেকে প্রথম দফায় এক কোটি এবং পরে ৫০ লাখ টাকা নেন। এরপরেই মুম্বাইয়ে পালিয়ে যান শিখা। সেখানেই একটি হোটেল ‘ডিজে আদা’ নাম ভাঁড়িয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু সব ভেস্তে গেল ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান করে।

পুলিশের দাবি, শিখার মতোই মিথ্যা ধর্ষণের মামলা সাজিয়ে বহু লোককে ব্ল্যাকমেল করতেন দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সদস্যরা।

রাজস্থানের এসওজি এর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, গত বছরে একটি মধুচক্রের হদিশ পান তারা। তাতেই উঠে আসে শিখার নাম। মূলত চিকিৎসক বা রিয়েল এস্টেট এজেন্টরাই ছিলেন তার শিকার। ডিসেম্বর থেকেই শিখাকে ধরতে অনুসন্ধান চালাতে থাকেন তারা।

কমেন্টস