ইমাম কাদরি তসলিমা নাসরিনকেও টাকা দেয়নি

প্রকাশঃ এপ্রিল ২১, ২০১৭

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

বলিউডের জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগামের আজান মন্তব্য নিয়ে চলছে বিতর্ক। সোনুকে ফতোয়া জারি করার পরেও টাকা না দেয়ায় কথা তুলছেন অনেকেই সেই বিষয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

তসলিমা নাসরিন গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে একটি টুইটে লেখেন, ‘আমার মুখে কালি দিতে পারলে ৫০ হাজার রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে বলে ফতোয়া দিয়েছিলেন কলকাতার এক ইমাম। এক বন্ধু আমার মুখে কালিও দিয়েছিল। কিন্তু ওই ইমাম আমাকে টাকা দেয়নি।’

মূলত সোনু গত সোমবার টুইটারে লেখেন, ‘সৃষ্টিকর্তা সবার ভালো করুন। আমি মুসলিম না, তা-ও আমাকে আজান শুনে ঘুম থেকে উঠতে হয়। ভারতে কবে এই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ধর্মভার শেষ হবে।’

এমনকি সোনু আরেকটি পোস্ট দিয়ে বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) যখন ইসলাম তৈরি করেছিলেন, তখন তো বিদ্যুৎ ছিল না। তাহলে এডিসনের পর থেকে কেন আমাদের এই কর্কশ শব্দ সহ্য করতে হবে? যে ওই ধর্মের অনুসারী না তাকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য আমি কোনো মন্দির বা গুরুদুয়ারায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিশ্বাসী না।’

এই মন্তব্যের পরপরই ভারতজুড়ে সমগ্র পৃথিবীতে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই আজানের পক্ষে নিজেদের অনুভূতি জানান বলিউডের কয়েকজন তারকা।

সোনুর টুইটকে কেন্দ্র করে বলিউডের আলোচিত নির্মাতা মহেশ ভাটের মেয়ে পূজা বলেন, ‘বান্দ্রার সুনসান গলিতে গির্জার ঘণ্টা ও আজান শুনে আমি প্রতি সকালে জেগে উঠি। আমি আগরবাতি জ্বালাই এবং ভারতের চেতনাকে স্যালুট করি।’

এই নিয়ে প্রিয়াঙ্কা লিখেন, ‘প্রতি সন্ধ্যায় আমি আজানের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। কোনো দিনই আমি আজান না শুনে থাকতে পারি না। কারণ, আজানে আছে একটা স্বর্গীয় সৌন্দর্য।’

প্রিয়াংকা আরো বলেন, ‘ভোপালে সবচেয়ে আনন্দের ক্ষণটা আমার কাছে ছিল আজানের সময়, যেটার জন্য আমি আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করি। সন্ধ্যায় আমি বারান্দায় বসি। কাজ শেষ হয়ে যায়। পুরো ভোপালে সব মসজিদ থেকে আজানের সুর আসে। আমার বারান্দায় বসে ছয়টি মসজিদ থেকে আজান শোনা যায়। ওই পাঁচ মিনিট আমার কাছে খুব ভালো লাগে। সূর্য ডুবতে থাকে। তখন আজানের সুর ভেসে আসে। তখন বেশ শান্তির একটা পরিবেশ তৈরি হয়। ওই টাই আমার দিনের সবচেয়ে প্রিয় সময়।’

উল্লেখ্য, সোনুর সেই মন্তব্যের পর সায়েদ শাহ আতেফ আলি আল কাদরি নামের পশ্চিমবঙ্গের এক মৌলভি সোনু নিগমকে দিয়েছেন ফতোয়া যেন সোনু মাথা কামিয়ে, গলায় জুতার মালা পরিয়ে সারা দেশে ঘোরেন তাহলে তাঁকে ১০ লাখ রুপি দেওয়া হবে। এরপর মৌলভির ওই ‘ফতোয়ার’ প্রতিবাদে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের মাথা কামান সোনু। এরপর ওই মৌলভির কাছে ১০ লাখ রুপি দাবি করেন তিনি। কিন্তু ওই মৌলভি তখন অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, মাথা কামানোর শর্ত পূরণ হলেও বাকি আছে এখনো দুটি। সোনু গলায় জুতার মালা পরে সারা দেশে ঘুরলে পাবেন টাকা।

Advertisement

কমেন্টস