নাইমুলের পরামর্শের জবাবে যা বললেন শাকিব

প্রকাশঃ এপ্রিল ১১, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সোমবার বিকালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ সাক্ষাৎকারে সন্তানসহ হাজির হন দীর্ঘদিন আড়ালে থাকা চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। সেখানে তিনি চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিয়ে-সংসার এবং দাম্পত্য টানাপোড়ন তুলে ধরেন। এরপর থেকেই তাদের বিয়ে-সন্তান নিয়ে নানা নাটকীয় সব ঘটনা সামনে আসতে থাকে। অপুর এই লাইভ অনুষ্ঠানের পর থেকেই প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয় অপু-শাকিবের বিয়ে ও সন্তান। এদিন রাতেই অারেকটি বেসরকারি টিভির ফোনো লাইভ অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেন শাকিব-অপু।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংবা‌দিক নাঈমুল ইসলাম খান শাকিব খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘শাকিব খান, আমি ভাই হিসেবে আপনাকে একটা কথা বলছি। এটা আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ। আপনার নিজেরা একটু সমাধান করুন। যেহেতু আপনাদের সঙ্গে একটা সন্তান যুক্ত হয়েছে। হয়তো অপু বিশ্বাসের ভুল হয়েছে। আপনারও হয়তো ভুল হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটাকে নিয়ে আর বিতর্ক বাড়াবেন না। আমার বাচ্চাটার জন্য ভিষণ মায়া হচ্ছে।’ এর উত্তরে শাকিব খান বলেন, ‘ভাই আমি আপনাকে একটা কথা বলি। স্টার কিন্তু বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়। সব স্টার কিন্তু মানুষ। স্টার হোক আর মহাস্টার হোক সে কিন্তু মানুষ। আর মানুষের তো ব্রেকআপ হয়ই। মানুষের সংসার মানুষের জীবন এগুলো থাকে। এটা আপনি নিজেও ভালো করে জানেন। একবার না হয় দ্বিতীয়বার না হয় তৃতীয় বার ব্রেকআপ হয়।’

এ সময় নাঈমুল ইসলাম খান বেশ বিব্রত হয়ে বলেন, ‘আপনার সন্তান আছে তো সে জন্য বলছি। ব্রেকআপ তো আগ্রহের বা আকর্ষণীয় সেটা নয়। আপনার আর অপুর উচিত সমস্যার সমাধান করে ফেলা।’ ফোনো লাইভে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘টিভি লাইভে আসার কারণ আমার বিয়ে হয়েছে আমার বাচ্চা আছে। এমন খুশির সংবাদ সবাইকে জানাবার জন্য আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে নিজের কথাগুলো শেয়ার করেছি।’

অপুকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিব বলেন, ‘আমি তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছি না কেমন করে? চাকরের মতো গত নয় বছর তার প্রতিটি আবদার রক্ষা করেছি। সে বলেছিল, এ নায়িকা ওই নায়িকার সঙ্গে ছবি করা যাবে না। সে যার যার সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ছবি আমি স্টপ করে দিয়েছি।’

আপনার সব ধরনের আইনি অধিকার আছে আপনার দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধার আপনি সেই দিকটা কখনো ভেবেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বলেন, ‘না না আমি কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চাই না। যদি চাইতাম, তাহলে আমি কেন নয় বছর নিজেকে আড়াল করে রাখব? কেন আমি আমার সন্তানকে ছয়মাস ঘরে আবদ্ধ রাখব? আমি কখনো আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে চাইনি। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় এখনো যেতে চাই না। আমার কাছে মনে হয়েছে যেহেতু আমাদের বিয়েটা সঠিক সত্য। আমাদের সন্তানটা সঠিক সত্য। আমার কাছে কিছু খবর আসছে শাকিব সন্তানকে তার কাছে রাখতে চায়। আমার খুব সিম্পলি মনে হয়েছে। তাই আমি আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার কথাগুলো শেয়ার করেছি।’

আপনাদের মধ্যে সমস্যা মূলত কোথায়- এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিব বলেন, ‘সমস্যা কোথায় তা আমি নিজেও বলতে পারছি না। অপু নিজেও জানে। আজকে একটি নতুন ছবি এন্ট্রি হয়েছে ‘‘অপুর সংসার’’ নামে। যেখানে নায়ক দু’জন প্রযোজক ছিলেন একজন। এটা একটা প্লানিং গেইম। যে মানুষটিকে দুদিন আগেও আমি ১২ লাখ টাকা দিয়ে আসলাম সেই মানুষটি একদিনের মধ্যে চেঞ্জ হয়ে গেছে। শাকিব খান না থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র ফাঁকা হয়ে গিয়ে ফাঁকা মাঠে ঈদের আগে অনেকেই গোল দিতে পারবেন। ঈদের আগে এ প্লান অনেকে করছেন।’

অনেক বড় বড় নায়ক-নায়িকা তো বিয়ে করেন। কিন্তু তা তারা প্রকাশ করেন। আপনি বিয়ের কথা প্রকাশ করেননি কেন উত্তরে শাকিব খান বলেন, ‘অপুর মতো বিষয়টিকে আমি এভাবে স্ক্যানডেল করে প্রকাশ করতে চাইনি?’ তো আপনি করেননি কেন? ‘সেটা অপুকে জিজ্ঞাসা করেন। অপুর ভাষ্য মতে তার চটে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ‘রংবাজ’ সিনেমায় তার নায়িকা হবার কথা ছিল কিন্তু সেখানে অন্য আরেকজন নায়িকা হয়েছে। প্রথম আলো পত্রিকার শিরোনাম দেখে সে চটে যায়। যা সে টিভি লাইভেও বলেছে। নয় বছর পর তাকে একটা সিনেমায় না নেওয়ায় আমি আজ ভিলেন হয়ে গেলাম। তার কথায় আমি অনেক নায়িকা স্টপ করে দিয়েছি, বলেন শাকিব।’

একসঙ্গে সংসার না করার কারণ সম্পর্কে অপু বলেন, ‘আমি সংসার করেছি। আমার শাশুড়ি হজে যাবার সময়ও আমি তার বাসায় ছিলাম।’ তবে এক বছর ধরে বাচ্চার জন্য বিচ্ছিন্ন আছেন বলেও জানান অপু। তিনি আরো অভিযোগ করেন, শাকিবের চাচাতো ভাই মনিরের সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হতো। শাকিবকে আমি কোনো ভাবেই পাচ্ছিলাম না। দেশে আসার পর তার সম্পর্কে নানা ধরনের কথা শুনতে হচ্ছিল।

বাংলাদেশের জন্য শাকিব খানের স্ত্রী ও সন্তান একটি বড় ঘটনা। আপনি কেন আপনার সন্তান ও স্ত্রীকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেননি? এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিব বলেন, ‘অপুর সংসার নামের ওই চলচ্চিত্রের এন্ট্রি হয়েছে। যেখানে আমি নায়ক নয়। আর রংবাজ নিয়ে সে ক্ষেপেছে। সে শুধু নিজেকে নিয়েই ভেবেছে। সে নায়িকা হতে চেয়েছে।’

পাঁচ মাসেও কেন বাচ্চাকে আপনি সবার সামনে আনতে পারেননি? এ প্রশ্নের জবাবে শাকিব বলেন, ‘অপু নিজের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যাবে ভেবেই তার সন্তানকে সবার সামনে আনতে চায়নি। আমি সারা পৃথিবীতে যেখানে বাংলা সিনেমার প্রচার নিয়ে কাজ করছি। তাকে বলেছিলাম আমি কোরবানির ঈদের আগে তাকে লঞ্চ করাব। কিন্তু সে তার আগেই নায়িকা হবার জন্য সাবার সামনে আমার ছেলেকে এভাবে নিয়ে এসেছে। যার কারণে আমি অনেক কান্না করেছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে অপু বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হয় ঠিক কী কারণে আপনি নয় বছরের বিবাহিত জীবনের কথা গোপন রেখেছেন? উত্তরে অপু বলেন, ‘সে আমার স্বামী, সে কথা চিন্তা করে তাকে সাপোর্ট দিয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির জন্য শাকিব-অপু একটি জুটি। সে কারণে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা কাউকে আমাদের বিয়ের কথা বলতে পারিনি। কারণ আমিও একজন চলচ্চিত্রের মানুষ। ওই সময় ইন্ডাস্ট্রির জন্য আমাদের বেশ দরকার ছিল। কিন্তু আমার বাচ্চা হয়েছে। তার জীবন, তার বাবার পরিচয় জানার খুব দরকার। সে কারণে শেষ পর্যন্ত আমার সন্তানের কথা চিন্তা করেই আমি সবার সামনে বলতে বাধ্য হয়েছি। আমার বাচ্চা হয়েছে ৬ মাস। তারপরও আমি কাউকে বলতে পারিনি। কিন্তু এখন আমার কাছে মনে হয়েছে আমি ঠকেছি। তাই বাধ্য হয়ে বলতে হয়েছে আমার আর শাকিবের বিয়ে হয়েছে আমাদের সন্তান আছে। এতো লুকোচুরি আমি আর সহ্য করতে পারছি না’

এদিকে গতকাল বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ ২৪-এর লাইভ সাক্ষাৎকারে অপু বিশ্বাস জানান, গুলশানে শাকিবের বাসায় ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল ইসলাম ধর্মমতে বিয়ে হয় তাদের। ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে শাকিবের আনা কাজি বিয়ের রেজিস্ট্রি করান। কাবিননামায় অপু বিশ্বাসের নাম লেখা হয় অপু ইসলাম খান। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ কলকাতার একটি ক্লিনিকে সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানের নাম আব্রাহাম খান জয়। অপুর অনুরোধ সত্ত্বেও সন্তান জন্ম দেয়ার সময় শাকিব খান হাসপাতালে যাননি। অপু আরও জানান, আমাদের বিয়ের সময় শাকিবের ভাই ও একজন প্রযোজক উপস্থিত ছিলেন। ‘বাচ্চা নিয়ে আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমি দীর্ঘদিন আড়ালে ছিলাম। পাঁচ মাস হয় ঢাকায় এসেছি। দীর্ঘ নয় মাস আমি কলকাতা, ব্যাংকক ও সিংঙ্গাপুরে ছিলাম’, বলেন অপু বিশ্বাস। আধঘণ্টার বেশি সরাসরি সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে কথা বলতে বলতে প্রায় কেঁদে ফেলেন অপু বিশ্বাস। এ সময় মাঝেমধ্যে টিস্যু দিয়ে তাঁকে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে।

কমেন্টস