নিজের কাজের ব্যাপারে নিজেই সমালোচক হয়েছিঃ বেলাল খান

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০১৭

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান। সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে এই পুরস্কারপ্রাপ্তি তার দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। একের পর এক জনপ্রিয় গানে সকলের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার ‘দোযখ’ শিরোনামের গানটি। প্রিয় তারকার চলমান ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তি বেলালকে নিয়ে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

বেলাল খানঃ ভালো।

ব্যস্ততা কি নিয়ে?

বেলাল খানঃ ‘দোযখ’ গানটির প্রমোশনে ব্যস্ত সময় পার হলো। এখনো হাতে বেশ কাজ রয়েছে। নতুনদের অনেকের সাথেই কাজ করছি। নিরবের নতুন ছবি ‘হৃদয় জুড়ে’র তিনটি গানের কাজ শুরু করেছি। শো চলছে।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সে বিষয়ে…

বেলাল খানঃ সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে যে উত্তেজনা থাকার কথা, আমার মধ্যেও সেটি ছিলো। আগে অনেকের অনুরোধের ঢেঁকি গিলতাম, এখন সেটি বন্ধ করেছি। নিজের কাজের ব্যাপারে নিজেই সমালোচক হয়েছি। আমার কতটুকু করা উচিত, কতটুকু উচিত না সেটি উপলব্ধি করতে শিখেছি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার দায়িত্ববোধ থেকে চেষ্টা করছি, নামের সাথে যেন সুবিচার করতে পারি। মানুষের যেটা ভালোবাসা, আমার কাছে তারা যা আশা করে সেটি যাতে ভেসে না যায়।

নতুন কি কাজের পরিকল্পনা চলছে?

বেলাল খানঃ খুব বেশি পরিকল্পনা নির্ভর গান করছি না। অনেকের জন্যই গান করছি। এরমধ্যে বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। এছাড়া আমার তৃতীয় সলো অ্যালবামের প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানিনা কবে, কিভাবে রিলিজ করবো? চেষ্টা করছি ভালো গান হয়ে গেলে সেগুলো রেখে নিজের জন্য কিছু করতে।

আমার অ্যালবামে আমি চাই আমার মতো গান করতে। বাজারে কি চলছে, প্রোডিউসার কি চাচ্ছে সেদিকে নজর না দিয়ে আমার যেটা ভালো লাগে সেরকম গান করতে। সেই হিসেবেই কিছু গান রেডি হচ্ছে।

কোন ধরণের মিউজিক করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?

বেলাল খানঃ গান মানেই যে বিরহ, রোমান্টিক তা নয়। গানের কোন নির্দিষ্ট বিষয় নেই। যে কোন বিষয় নিয়েই একটি ভালো গান হতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে বিষয়ভিত্তিক গান একেবারেই কম হয়। হলেও শ্রোতারা সেটি শুনেন না। হতে পারে আমরা সেভাবে উপস্থাপন করতে পারি না। সেই বোধের জায়গা থেকেই ‘দোযখ’ গানটি রিলিজ করা।

গান হিট হওয়ার পূর্বশর্ত হলো মিউজিক ভিডিও…

বেলাল খানঃ এটাই মানতে হবে। এটাই বাস্তবতা। মাধ্যম পরিবর্তন হতে হতে এখন এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে মিউজিক ভিডিওটি একটি মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউটিউবে শুধু অডিওর কোন সিস্টেম নেই। গানের সঙ্গে একটি ছবি হলেও যোগ করতে হয়। যখন আমরা চিন্তা করে নেই যে, এখানেই গান শুনবো তখন সেটির সিস্টেম তো মানতেই হবে।

শুধু আমাদের দেশেই নয়, সারাবিশ্বে মিউজিক ভিডিওটি একটি স্মার্ট টেন্ড। এখানে শিল্পীর উপস্থাপন, রুচি, মেজাজ সবকিছু একসাথে পাওয়া যাবে। মিউজিক ভিডিও করা ব্যয়বহুল হলেও এর মাধ্যমে একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত রুচি সম্পর্কে জানা যায়।

মিউজিক ভিডিও করার ক্ষেত্রে গান নির্ধারণ করার পদ্ধতি…

বেলাল খানঃ আগে যেটা হতো সব গান ছেড়ে দিতাম। যে গানটিতে দর্শকসাড়া বেশি থাকতো সেটির মিউজিক ভিডিও বানানো হতো। কিন্তু এখন আমরাই ভালো গানটি নির্ধারণ করি। অর্থাৎ ভালো গানটিই শুধু মার্কেটে দেয়ার চেষ্টা করি।

অডিও ইন্ডাস্ট্রি কি তাহলে হারিয়ে যাচ্ছে?

বেলাল খানঃ অডিওটা হারিয়ে যাচ্ছে সেটা বললে ভুল হবে। ভালো গান কখনো হারায় না। বাজারে একসাথে অনেক গান আসে। কিন্তু যেটি ভালো শ্রোতাদের মুখে মুখে সেটি ঘুরতে থাকে।

ইন্ডাস্ট্রিতে পেইরেসি কিংবা অন্য কোন সমস্যা আছে বলে আপনার মনে হয়?

বেলাল খানঃ এখন পাইরেটেড হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ ইউটিউবে যখন একটি কনটেন্ট আইডি তৈরি হচ্ছে। সেটি যখন কেউ রি-আপলোড দিবে, সে কিন্তু আপলোডের সাথে সাথেই একটি ক্লেইম খাবে। সে আসলে বৈধ কেউ না। কেউ যদি এমনটা করেও থাকে সেখান থেকে সে কোন অর্থ পাচ্ছে না। তাদের আপলোড করা গান যে খুব বেশি মানুষ শুনছে এমনটাও নয়। এখন সবাই সতর্ক হয়েছে। বাজারে নতুন গান আসলে সবাই খোঁজে অফিসিয়াল পেজ কোনটা? বলা যায়, এখন তেমন পাইরেটেড হওয়ার জ্বালা নাই।

গ্রামীণফোনের ‘বায়োস্কোপ’ মাধ্যমটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

বেলাল খানঃ এটার পেছনে হয়তো জিপির কোন বিজনেস স্ট্যাটিজি আছে। এটা মোটেই সহজলভ্য না। আবার একটা জিনিস যখন প্রথম আসবে, সেটি দেখে আমি নাক শিটকিয়ে দূরে থাকবো কিংবা বিরোধিতা করবো সেটাও আমি চাচ্ছি না। যেহেতু এটা লিগ্যাল এবং আমাদের সামনে দৃশ্যমান, এটি প্রতিষ্ঠিত হলে আমাদের জন্যই ভালো।

নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে?

বেলাল খানঃ নতুনরা তুলনামূলক অনেক ট্যালেন্ট। যারা নতুন তাদেরতো আপন করে নিতে হবে। নতুন যে ছেলে/মেয়েটা ট্যালেন্ট তার তো একটি অবলম্বন বা চেনা-জানা রাস্তা দরকার। এমন একটা হাত দরকার যেটি পাশে থাকলে তার রাস্তা চিনতে সুবিধা হবে। শুধু টাকার পিছে না ছুটে কার মধ্যে ট্যালেন্ট আছে এবং সেটি কিভাবে কাজে লাগানো যায়, এরকম দু’চারজনের সাথে কাজ করছি।

গান কেন করেন?

বেলাল খানঃ ছোটবেলা থেকেই মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা ছিলো। শুধু মিউজিকই ভালোলাগত, অন্য কিছুতে মন বসতো না। আমার পরিবারে মিউজিকের ব্যপারে কোন সাপোর্ট ছিলো না। একদমই প্রতিকূল পরিবেশে সংগীতে পথচলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর স্বাধীনতা পাই। তখন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি মিউজিকের পেছনে সময় দিয়ে আত্মস্থ করার চেষ্টা করতাম। মিউজিকই আমার ধ্যানজ্ঞান হয়ে যায়। মিউজিকে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করতাম। একটা সময় সেই সুযোগ চলে আসে।

গানের পাশাপাশি সুর করার…

বেলাল খানঃ সুর করার অভ্যাসটা ছোটবেলা থেকেই ছিলো আমার। এমনিতে কবিতা মুখস্থ করতে চাইলে পারতাম না। কিন্তু যখন কবিতাটিকে কোন সুরে ফেলতাম, দেখতাম এক’দুবার পড়লেই সেটি আমার মুখস্থ হয়ে যেতো। এক কথায়, আমি এর পেছনে লেগেই ছিলাম।

গায়ক না হলে কোন প্রোফেশনে যেতেন?

বেলাল খানঃ আর কোন কিছু চিন্তা করি নাই। তবে মিউজিক না করলে হয়তো ব্যবসা করতাম।

চাকরির ইচ্ছা হয় নাই?

বেলাল খানঃ পরিবারের ইচ্ছা ছিলো, সরকারি চাকরি করি। আমি বাংলাদেশ বেতারে জয়েন করেও রিজাইন দিয়েছি। ঢাকায় পোস্টিং থাকলে চাকরি করতাম কিনা জানিনা, হয়তো চেষ্টা করতাম। যোগদানপত্র হাতে দিয়ে যখন বললো রাজশাহী জয়েন করতে হবে তখনই বলেছি চাকরি করবো না।

ব্যক্তি বেলাল সম্পর্কে জানতে চাই…

বেলাল খানঃ চেষ্টা করি সব জায়গায় নিজেকে মানিয়ে নিতে। কারো প্রতি খুব বেশি রাগ হলেও সেটি প্রকাশ না করে নিজের ভেতর রাখি।

বাবা হিসেবে বেলাল কেমন?

বেলাল খানঃ বাবা হিসেবে খুব বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারি না। কারণ অনেক রাতে বাসায় ফিরতে হয়। মিউজিকের পেছনে সময় দিতে গিয়ে বাচ্চাদের পেছনে সময়টা দেয়া হয়ে উঠে না। চেষ্টা করি যতটা সম্ভব তাদের সময় দিতে।

পরিবারের কোন অভিযোগ?

বেলাল খানঃ সেটা তো সবসময়ই থাকে। যেহেতু এটাই আমার পেশা তাই সময় দিতে না পারলেও এখন তারা সব মেনে নিয়েছে।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

বেলাল খানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

Advertisement

কমেন্টস