বিভ্রান্তিমূলক তথ্যে আমার সন্তানরা কেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বেঃ শাওন

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘ডুব’। ছবিটির সঙ্গে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের জীবনীর সম্পৃক্ততার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সেন্সর বোর্ডে লিখিত আবেদন করেছেন হুমায়ুনপত্নী নির্মাতা ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) তার বাসভবন ‘দখিন হাওয়া’ তে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন হুমায়ুনপত্নী।

শাওন জানান, ‘আমার আশঙ্কা আরও প্রবল হয়, যখন ডুব ছবির অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে বলেন যে, ‘ডুব’ হুমায়ুন আহমেদেরই জীবন কাহিনী। তার সাক্ষাৎকার থেকে ছবির কাহিনীর যে সার সংক্ষেপ জানা যায়, তা হুমায়ুন আহমেদের জীবনের কিছু বিতর্কিত অংশ আর সত্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের তথা বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি লেখক। তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার মানে কি এই যে তাকে নিয়ে একটি মনগড়া কাহিনীচিত্র বানিয়ে ফেলা যায়। হুমায়ুন আহমেদ নাম বদলে চরিত্রের অন্য যে নামেই দেওয়া হোক সেই চরিত্র হয় বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় লেখকের যিনি চলচ্চিত্র নির্মাণও করেন, সংসার জীবনে যার দুটি অধ্যায় আছে এবং ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে যার জীবনাবসান হয়েছে, সেটি কার জীবন সেটি বুঝতে কোনো দর্শকের প্রয়োজন পড়ে না।

তার জীবনের অনেক কথাই পাঠক দর্শকের জানা। সেই সত্য গল্পের সঙ্গে কিছু বিভ্রান্তিমূলক তথ্য এবং তাকে নিয়ে ট্যাবলয়েড পত্রিকায় কিছু চটকদার গুজব জুড়ে দিয়ে যদি কোনও ছবি বানানো হয় সেটা কি নৈতিক?

চলচ্চিত্র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। দর্শকের মধ্যে অনেক হুমায়ুন ভক্ত আছেন। নতুন প্রজন্মের এমন অনেক দর্শক আছেন, যারা হুমায়ুন আহমেদ পড়া শুরু করেছে মাত্র। তারা ছবিটি দেখে ভুল তথ্য পাবেন হুমায়ুন আহমেদকে নিয়ে এবং এই বিভ্রান্তিকর তথ্যে ভরা কাহিনীচিত্রটি পরিবর্তিতে হুমায়ুন আহমেদের জীবনী হিসেবে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে উপস্থাপিত হবে। হুমায়ুন এবং আমার দুটি ছোট সন্তান আছে। তাদেরও ভবিষ্যত আছে। বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের মধ্যে তারা কেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে! এসব বিবেচনায় হুমায়ুন আহমেদের জীবন নিয়ে নির্মিত সিনেমা নিয়ে আমার আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে।

সেই আশঙ্কা থেকেই চলতি মাসের ১৩ তারিখে আমি একটি চিঠি সেন্সরবোর্ডে দেই। চিঠিতে অনুরোধ করা হয়, আমি যেই আশঙ্কাগুলো করছি, ছবিটি দেখার সময় সেই বিষয়গুলো যাচাই বাছাই করে যেন তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হন। এ ছবিতে যদি কোনো আপত্তিকর বিষয় থাকে, সেগুলো যেন যথাযথভাবে পরিবর্তন এবং পরিশোধন করে মুক্তি দেওয়া হয়।

আমি নিজেও একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। কোনো নির্মাতা বা তার নির্মাণের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমি কোনো চলচ্চিত্র নিষিদ্ধের কথাও বলিনি। কিন্তু হুমায়ুনের স্ত্রী হিসেবে এবং তার একজন ভক্ত পাঠক হিসেবে হুমায়ুন আহমেদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা কোনো চলচ্চিত্রের পক্ষে আমার অবস্থান থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।’

কমেন্টস