ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইকন হতে চাইঃ শায়ান

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬

প্রাণ লেয়ার ক্যান্ডির বিজ্ঞাপনে সকলের নজরে আসেন তিনি। মডেলিংয়ের পাশাপাশি জয় করেছেন বিজ্ঞাপনের ভূবন। বাদ যায়নি মিউজিক ভিডিওর ধামাকা। এখন চলছে সিনেমায় অভিনয়ের জন্য কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা। তারকা হয়ে হারিয়ে যাওয়া নয়, ভালো কাজের মাধ্যমে সকলের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়াই তার লক্ষ্য। তিনি প্রতিশ্রুতিশীল মডেল ও অভিনেতা হামজা খান শায়ান। বর্তমানে তার কর্মব্যস্ততা এবং ব্যক্তি শায়ানকে জানতে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

শায়ানঃ ভালো।

ব্যস্ততা কেমন চলছে?

শায়ানঃ একস্টাসির আন্ডারে ছিলাম। তাদের ফটোশুট করলাম। এটা তাদের ক্যাম্পেইন ছিলো। আমাদের সাথে কন্ট্রাক ছিলো তাদের আন্ডারে যতদিন আছি ততদিন কিছু করা যাবে না। ক্যাম্পেইনটা এখনো চলছে। এজন্য আপাতত নতুন কিছুতে জড়াতে পারছি না।

কন্ট্রাকটা কতদিনের?

শায়ানঃ যতদিন ক্যাম্পেইনটা চলবে। এখন কন্টেস্ট পিরিয়ড চলছে। কন্টেস্ট শেষ হয়ে গেলে নতুন করে কন্ট্রাক সাইন হবে। একস্টাসির নতুন মুখ নিচ্ছে। তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে একটা ছেলে ও একটা মেয়ে নিচ্ছে।

নাটকে কাজের…

শায়ানঃ না এখন পর্যন্ত নাটকে কাজ করিনি। বেশ কিছু সিরিয়ালে কাজের অফার পেয়েছি কিন্তু সিরিয়াল আমি কখনোই করতে চাই না। অপেক্ষা করছি ভালো কিছু করার জন্য।

কোন মিডিয়ায় ভালো করার ইচ্ছা?

শায়ানঃ অবশ্যই সিনেমায় ভালো করার ইচ্ছা আছে। আমি সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছি। পড়াশোনা নিয়ে একটু ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। এর মাঝে ওয়ার্কআউট, বডি স্ট্রাকচার গড়ার কাজ চলছে। যখন নিজেকে প্রস্তুত মনে করবো তখনই কাজটা শুরু করবো।

এখন নিজেকে প্রস্তুত মনে করছেন না?

শায়ানঃ প্রস্তুত মনে করছি না, তেমনটা নয়। তবে হ্যাঁ এখনো নিজেকে গড়ে তুলছি।

এখন কাজের অফার পেলে কি করবেন?

শায়ানঃ সিনেমা সম্পর্কিত কোন কাজ হলে করবো না। হয়তো দুই/তিন বছর পর করবো। এখন আসলে পড়াশোনায় বেশী ফোকাস দিচ্ছি।

পড়াশোনা কেমন চলছে?

শায়ানঃ আমি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ নিয়ে পড়ছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌ ভালো যাচ্ছে।

মিডিয়ায় আসার কারণ?

শায়ানঃ কেন আমি মিডিয়াতে? কেন আমি বিজনেস নিয়ে পড়ছি? ছোটবেলায় যখন আমি ‘আইকন’ শব্দটা শুনি তখন থেকেই সেটির প্রতি আমার তীব্র আকর্ষণের জন্ম নেয়। নিজেকে আইকন হিসেবে দেখার স্বপ্নটা মনে গেঁথে যায়। নিজেকে নিয়ে আমার মাথায় একটা ইমেজ আছে। আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আইকন হতে চাই। এখন সে লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি।

আপনার আইকন কে?

শায়ানঃ নোবেল, তাহসান।

ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় কাজের ইচ্ছা ছিলো?

শায়ানঃ হ্যাঁ। ছোটবেলায় যখন সিনেমা বা নাটকে কারো অভিনয় দেখতাম তখন সেই জায়গায় নিজেকে কল্পনা করতাম। আয়নার সামনে দাঁড়ালে যেমন মানুষ নিজেকে দেখতে পায়, তেমনি পর্দায় কাউকে দেখলে তার জায়গায় আমি নিজেকে দেখি। বন্ধুরা বলতো তুই খুব ভালো অভিনয় পারিস, তোকে দিয়ে হবে। কল্পনার পর্দায় নয়, একদিন সত্যিকারের পর্দায় তোকে দেখা যাবে। এগুলো শুনতে শুনতে নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জন্মে গেছে।

মিডিয়ায় কাজের ব্যপারে পরিবারের সাপোর্ট…

শায়ানঃ হ্যাঁ। আলহামদুলিল্লাহ্‌, এদিক থেকে আমি অনেক বেশী ভাগ্যবান। আমার পরিবার আমাকে খুবই সাপোর্ট করে। তাদের একটাই চাওয়া, আমি এমন কোন কাজ না করি যাতে বাবা-মার মানসম্মান নষ্ট হয়। এ বিষয়টা আমি মাথায় রাখি।

কাজ বলতে আপনি কি মনে করেন?

শায়ানঃ কাজ বলতে আমি বিশ্বাস করি, যা একজন মানুষকে তার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মাঝে পরিচিতি এনে দেয়। কাজ মানুষকে বিকশিত করার সোপান। আমি একসাথে অনেক কাজ করতে চাই না। আমি এমন একটা কাজ করতে চাই, যেটা দিয়ে হাজার, লাখ ছাড়িয়ে কোটি মানুষ আমাকে চিনবে। অনেকদিন মনে রাখবে। কাজ তো অনেক প্রকারই করা যায়। বিভিন্ন কাজের অফার আসে। আমি যদি টাকার পেছনে ছুটে চোখ বন্ধ করে কাজ করি তাহলে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যাবে। কোয়ালিটিসম্পন্ন কাজ মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার সহজ মাধ্যম বলে আমি মনে করি।

আপনার চোখে ঢালিউড…

শায়ানঃ ঢালিউড আমার কাছে একটি ছোট বাচ্চা। দিনে দিনে এটি বড় হচ্ছে। নিজেকে সামলে নিতে শিখছে। যখন সে ম্যাচিউর/পূর্ণ বিকশিত হবে গোটা বিশ্ব তাকে চিনবে।

তাহলে কি ঢালিউড এখন ম্যাচিউর না?

শায়ানঃ ম্যাচিউর হচ্ছে। আগে যেসব গাফিলতি ছিলো এখন সেটি দূর হচ্ছে। এখন বেশ ভালো ভালো কাজ আমরা দেখতে পারছি। আগামীতে আরো ভালো কাজ হবে।

ঢালিউডের এই সফলতায় কি যৌথ প্রযোজনার অবদান রয়েছে?

শায়ানঃ এটা একটা কারণ হতে পারে। ভালো উদ্দেশ্যে পরিবর্তন জিনিসটা সবসময় ভালো কিছুই নিয়ে আসে। যেহেতু যৌথ প্রযোজনায় কাজ হচ্ছে, এতে আমাদের ঢালিউডের মার্কেটটা বড় হচ্ছে। আমাদের দর্শক বাড়ছে। আমরা যারা বাঙালি, তারা বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল থেকে বিদেশী চ্যানেলগুলো বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেল বেশী দেখি। যৌথ প্রযোজনায় কাজ হওয়ার ফলে বিদেশী চ্যানেলেও নিজেদের দেখার সুযোগ হচ্ছে।

বিদেশী চ্যানেল দেখার প্রবণতা কতটা সুলভ?

শায়ানঃ এটাকে আমি একটা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছি। ওদের কোয়ালিটি বেশ ভালো। হয়তো তাদের কাজে দর্শকরা আকর্ষণীয় কিছু পাচ্ছে। এতে করে ভারতের সাথে আমাদের একটা প্রতিযোগী মনোভাব চলে আসছে। দেখা যাবে, আমাদের যারা বাঙালি পরিচালক আছেন তাদের টনক নড়বে। তারা ভারতের চেয়েও ভালো মানের কাজ করতে আগ্রহী হবে।

মিডিয়ায় কাস্টিং কাউচের ব্যাপারে আপনার মতামত…

শায়ানঃ এ সম্পর্কে আমি অনেক শুনেছি। মিডিয়ায় কাস্টিং কাউচের ঘটনা অহরহ। আমি বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি। তবে এই সাইডে আমি এখন পর্যন্ত এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়নি। অবশ্য আমার সাথে এমনটা না হওয়ার একটি বিশেষ কারণ হলো, যে আমার সাথে যোগাযোগ করতে চায়, তাকে আমি একটি ড্র-লাইন এঁকে দিই। আমি কখনোই ঐ লাইন ক্রস করে আমার সাথে কথা বলতে দেই না। যখন আমি দেখি এমন কোন ব্যক্তি আমার সাথে এই টাইপ কথা বলতে পারে তখন খুব স্বাভাবিকভাবে এড়িয়ে যাই।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শায়ানঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

কমেন্টস