নায়িকা হিসেবে কারিনাকে পেলে ফ্রি ছবি করে দিবোঃ নিরব

প্রকাশঃ নভেম্বর ২৮, ২০১৬

ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিরব। বিজ্ঞাপন, নাটকের পাশাপাশি সমানতালে অভিনয় করছেন চলচ্চিত্রে। দেশীয় অঙ্গন পেরিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও নাম লিখিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন দেশের ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করার মর্যাদাও তার দখলে। খুব অল্প সময়ে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেয়া এই অভিনেতার কর্মব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

নিরবঃ ভালো।

বলিউডে কাজের অভিজ্ঞতা…

নিরবঃ কাজের অভিজ্ঞতাটা খুবই ভালো ছিলো। অনেক গোছানো কাজ হয়েছে। রোজার মধ্যে আমাকে ফোন করেছিলো। স্ক্রিপ্টটা আমাকে শোনায়। শোনার পর সেটা আমার কাছে একটু আলাদা মনে হয়। গল্পটা শুনে বলেছিলাম হ্যাঁ করবো। হিন্দি ভাষার ব্যাপারে আমার ঝামেলা আছে। তাই আমাকে টাইম দিয়েছে।

বলিউডে এত নায়ক থাকতে কেন আপনাকে নিতে চায়?

নিরবঃ ওরা আসলে একটু আলাদা ট্র্যাকে করতে চায়। ‘বালা’র পরিচালক ফয়সাল সাইফ সে এর আগে ৪/৫ টা সিনেমা বানিয়েছে এবং সবগুলো ছবিতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে হিরো, হিরোইন নিয়ে এসেছে। একটু ম্যাচআপ করতে চায়। পরে আমি ভাবলাম হ্যাঁ এটা হতেই পারে। সবকিছু ফাইনাল হলো। আমি গেলাম, সাইনিং করে চলে আসলাম (মুখে হাসি)।

ভাষাগত কোন সমস্যা হয়েছে কিনা?

নিরবঃ হ্যাঁ সমস্যা হয়েছে। যখন একসাথে বসে অনেকজন কথা বলি তখন দেখা যায়, হিন্দি বুঝাটা অনেক সহজ। সব কথা বুঝতেছি। কি বলতে চাচ্ছে প্রত্যেকটা শব্দ বুঝতেছি। কিন্তু যখন নিজে বলতে যাই তখন বুঝা যায়, অন্য একটা ভাষা বলা কতটা কঠিন। অবশ্য এক্ষেত্রে পরিচালক আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে।

অন্য ভাষা নিয়ে নিজেকে কতটা উপস্থাপন করা যায় বলে আপনি মনে করেন?

নিরবঃ সেটা নির্ভর করে গল্পের উপরে, চরিত্রের উপরে। ভাষা দিয়ে নিজেকে তুলে ধরার কিছু নেই। আমার মনে হয় চরিত্রটাকে তুলে ধরাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ।

‘বালা’ তে আপনার চরিত্রটা কেমন?

নিরবঃ সিবিআই অফিসার।

‘বালা’র গল্পের ধরণ?

নিরবঃ শিয়া-সুন্নীর কন্ট্রোভার্সি নিয়ে গল্প। এখানে শিয়াদের ভেতরকার ব্ল্যাক ম্যাজিক ও ভৌতিক বিষয় বস্তু নিয়ে চমৎকার একট গল্প সাঁজানো হয়েছে। ভৌতিক কিছু ঘটনায় তাল-বেতাল হারানো একটা পারিবারের কাহিনি নিয়ে বালা। গল্পের নান্দনিক উপস্থাপনা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

বলিউডের কোন নায়িকার সাথে কাজ করতে আগ্রহী?

নিরবঃ (হেসে) কারিনা কাপুর খান। আমি আমার প্রডিউসারকে বলেছিলাম নায়িকা হিসেবে কারিনাকে নিতে, তাহলে আমি ফ্রি ছবি করে দিবো।

‘বালা’র আগে মালয়েশিয়ার ‘বাংলাশিয়া’ তে কাজের অভিজ্ঞতা?

নিরবঃ ‘বাংলাশিয়া’ একটি কন্ট্রোভার্সিয়াল সিনেমা। মালয়েশিয়ার পরিচালক নে মুই, প্রযোজক ফ্রেড চং, সিঙ্গাপুরের নায়িকা আতিকা সোহাইমিন। সেটা আসলে অনেক বড় কাজ। অনেক বাজেট ছিলো। সাড়ে সতেরো কোটি টাকার বাজেটের ছবি। ওইটাতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ আলাদা।

‘বাংলাশিয়া’র মুক্তি জটিলতা…

নিরবঃ সিনেমাটা কন্ট্রোভার্সিয়াল নিয়ে করা হয়েছে। একজন প্রযোজক জানে, কন্ট্রোভার্সি নিয়ে যখন সিনেমা হবে তখন সেটি নানা বাঁধার সম্মুখীন হবে। বিষয়টি নিয়ে পরিচালক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, আমার ছবি আটকে দেয়া হয়েছে। ওরা আসলে নেগেটিভটাকে পজেটিভলি প্রমোট করে। এমনকি তেরোটি পয়েন্টে ছবিটি আটকানো হয়েছে। শুধুমাত্র মালয়েশিয়া না, সারাবিশ্বে ছবিটি ব্যান করে দিয়েছে। কিন্তু একটা ছবি ব্যান করে দেয়ার পরেও এর সাথে সংশ্লিষ্টরা তাদের ক্ষমতায় এবং চেষ্টায় ‘ওসাকা ফিল্ম ফ্যাস্টিভাল’; নিউইয়র্কে ‘এশিয়ান ফিল্ম ফ্যাস্টিভাল’; ইন্দোনেশিয়ায় একটি ফিল্ম ফ্যাস্টিভালে প্রদর্শন করেছেন।

দুই দেশের পরিচালকদের মধ্যে পার্থক্য…

নিরবঃ শুটিংয়ের প্যাটান একই। বাজেট অনেক বড় একটা ফ্যাক্ট। আমাদের দেশে যেসব প্রযোজক, পরিচালক কাজ করছেন তাদের মধ্যে যারা বেশী বাজেটে সিনেমা বানাচ্ছেন সেগুলো কিন্তু অনেক ভালো কাজ হচ্ছে। একটা ছবিতে বাজেট বেশী দেয়া, কিন্তু ছবিটা বাজে হয়েছে সেটা না। দু’একটা সমস্যা থাকতেই পারে। তবে ভালো বাজেট দিলে ভালো ছবি হয়। এছাড়া গল্পটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গল্পটা ছাড়া আসলে কিছু করা যাবে না। আমাদের এখানে গল্পটাকে তেমন জোর দেই না, আওয়াজটাকে জোর দেই বেশী। গল্প সুন্দর হলে মানুষ এমনিতেই ছবিটি পছন্দ করে।

অনেক সিনেমার গল্পই কপি হচ্ছে, সেটা আসলে কতটা ভালো দিক?

নিরবঃ কপি ব্যাপারটি নিয়ে আসলে ভালো খারাপের কিছু নেই। আমরা যদি বলিউডের ‘বাজরঙ্গি ভাইজান’র কথা বলি, সেটাও কিন্তু কপি মুভি। এছাড়াও ‘লগন’,‘দাবাং’ কিন্তু কপি মুভি। কপি করে যদি ভালো কিছু করা যায় তাহলে সমস্যা কি? মৌলিক গল্পের কাজ করতে পারলে ভালো। কিন্তু অনেক প্রযোজক চিন্তা করেন ঐ ছবিটা হিট হয়েছে তাহলে আমিও ওইরকম একটা ছবি বানাই। দিনশেষে তো ছবিগুলো সফলতা পাচ্ছে।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

নিরবঃ যৌথ প্রযোজনার ছবির হার বৃদ্ধি পাওয়া মোটেও খারাপ কিছু না। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে ছবি নির্মাণ দু’দেশের জন্যই ভালো। দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতির যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে হবে। একটা ছবি বাংলাদেশের একশোটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলো আর সেটি ভারতের ত্রিশটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে, এমনটা হলে সেটা মোটেই ভালো ইঙ্গিত প্রকাশ করে না। দুই দেশেই সামঞ্জস্যতা থাকলে আমাদের সবার জন্যই ভালো।

চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা…

নিরবঃ চলচ্চিত্রের অবস্থাটা আসলে আগের মতোই আছে। আমার যেটা মনে হয়, আরো ভালো হওয়া উচিৎ, আরো ভালো হবে। এটা নিয়ে আমি বেশ আশাবাদী। আমিতো চাইলে নাটক করতে পারতাম, মডেলিং করতে পারতাম। সৎ আশাটা আছে বলেই তো নাটক না করে শুধু সিনেমাই করছি। সিনেমার ভালো দিন দেখার অপেক্ষা করছি।

মিডিয়াতে কাজের শুরু…

নিরবঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। হঠাৎ একদিন প্রিয় বন্ধু ডেভিড এর বাসায় গিয়ে দেখি সে ফটোসেশন করে অনেক ছবি তুলেছে। ছবিতে ডেভিডকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল। তখনই আমার মাথায় ভূত চেপে বসে। ডেভিডের মতো ফটোসেশন করবো। সুন্দর সুন্দর ছবি তুলবো। আমার কাছে এক হাজার ছিলো। আপু, ভাইয়াদের কাছ থেকে নিয়ে মোট সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে ফটোশুট করাই। ফটোগ্রাফার তানভির হোসেন আমাকে ৩৬ টি ছবি তুলে দেন। সে ছবি দেখে একটি ফ্যাশন হাউজের মডেল হওয়ার প্রস্তাব আসে। সেটি ছিল স্টিল ফটোশুট।

পরবর্তী যাত্রা…

নিরবঃ এরপর র‍্যাম্পে হাঁটা শুরু করি। ২০০৪ সালে অমিতাভ রেজার একটা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু হয়।  পরবর্তীতে তারই পরিচালনায় ‘বাংলালিংক দেশ’ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি পাই। নিয়মিত হই বিজ্ঞাপনে। আস্তে আস্তে নাটক, ঢালিউড, বলিউড।

নতুনদের সঙ্গে কাজ করতে কেমন লাগে?

নিরবঃ নতুনরা ভালো। এখন অনেক বেশী প্রতিযোগিতার দিন চলে এসেছে। যে কারণে অনেক ভালো অভিনেতা, অভিনেত্রী আসছে। সময়ের সাথে সাথে আসলে কে টিকে থাকবে সেটা তার নিজের যোগ্যতা এবং প্ল্যানিং দিয়েই প্রমাণ করতে হবে।

হাতে নতুন কি কি কাজ আছে?

নিরবঃ ‘ভালোবেসে তোর হবো’। আমি আর মম জুটি বাঁধবো। আগামী ডিসেম্বর থেকে শুটিং শুরু হবে।

বিবাহিত জীবন কেমন কাটছে?

নিরবঃ একদম বাজে অবস্থা। শুটিংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হচ্ছে। পরিবারকে সেভাবে সময় দেয়ার সুযোগ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে পরিবারের কোন সমস্যা না হলেও বউয়ের অভিযোগ আছে।

কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট…

নিরবঃ সাপোর্টটা পাচ্ছি। সত্যি বলতে বউই বেশী সাপোর্ট করে। ভালো কাজ দেখলে খুশি হয়।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

নিরবঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

Advertisement

কমেন্টস