হুমায়ূন আহমেদকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

প্রকাশঃ নভেম্বরে ১৩, ২০১৬

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৮তম জন্মদিন আজ। গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রে পাঠক-দর্শকদের জাদুকরি ক্ষমতায় আচ্ছন্ন করে রাখতেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন।

স্বভাবসুলভ রসিকতায় কাছের মানুষ আর ভক্তদের নিয়ে জন্মদিন পালন করতে পছন্দ করতেন হুমায়ূন আহমেদ। অসুস্থ অবস্থায়ও প্রিয় নুহাশ পল্লীতে আনন্দ-আয়োজনে জন্মদিন উদযাপন করেছেন জাদুকর এ লেখক।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরক দিয়েই বাংলা কথাসাহিত্যে পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এর পর শঙ্খনীল কারাগার, লীলাবতী, জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ্ নামদারসহ দুশোর বেশি উপন্যাস রচনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

তার উপন্যাসের চরিত্র হিমু, মিসির আলী, শুভ্র বইয়ের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সেলুলয়েডে তরুণ-তরুণীদের আপনজন হয়ে ওঠে।

১৯৪৮ সালের এই দিনে ময়মনসিংহের কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।  তিনি গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তারপর পলিমার কেমিস্ট্রির ওপর পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি বিভাগে শিক্ষকতার কাজে। দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থাকার পর তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোমাত্রায় সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার রচিত প্রতিটি বই পাঠক গ্রহণ করেছেন সাদরে। বাংলাদেশের মিডিয়া অঙ্গনে অন্যতম শক্তিশালী একটি জায়গা দখল করে আছেন বাংলা সাহিত্যের এ মহানায়ক। তার রচিত উপন্যাস ও গল্প নিয়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাত্পর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়ে উঠেছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি।

১৯৮০ সালে নাটক রচনা শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা নাটক এই সব দিনরাত্রির জনপ্রিয়তার পর তিনি তৈরি করেন বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, উড়ে যায় বকপক্ষীসহ বহু নাটক।

১৯৯০ সালে তিনি শুরু করেন চলচ্চিত্র নির্মাণ। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি। এর পর একে একে তিনি তৈরি করেন শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া এবং আমার আছে জলসহ বহু চলচ্চিত্র।

উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে হিমু, মিসির আলী, শুভ্র তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। দেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয়, যারা তার অন্তত একটি নাটক দেখেননি কিংবা তার কোনো বই পড়েননি। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি একক ও অনন্য। তিনিই তরুণ-তরুণীদের করেছেন বইমুখি। রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারবাহিক নাটক। পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রও। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার অন্ত্রে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এক পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসায় তাকে যেতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ১৯শে জুলাই কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। কিন্তু পাঠক-দর্শক-ভক্তদের কাছে হুমায়ূন আহমেদ মৃত নন। তিনি জীবিত ছিলেন, আছেন, থাকবেনও। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

 

Advertisement

কমেন্টস