সেলফি তোলা আসলেই কঠিনঃ ইরফান সাজ্জাদ

প্রকাশঃ অক্টোবর ৬, ২০১৬

সময়ের তরুণ অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম ইরফান সাজ্জাদ। ছোট, বড় দুই পর্দাতেই রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। নিজের মধ্যে অন্যের চরিত্রকে প্রবেশ করিয়ে পর্দায় তাঁর আবেশ ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের দৃষ্টি আটকে দিয়েছেন তিনি। তারকা হয়ে হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং ভালো কাজে সকলের মাঝে প্রাণবন্ত থাকাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। ব্যক্তি ইরফানকে জানতে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ- 

কেমন আছেন?

ইরফান সাজ্জাদঃ ভালো।

বর্তমান কাজের অবস্থা?

ইরফান সাজ্জাদঃ আলহামদুলিল্লাহ সব কিছুই ভালমত এগোচ্ছে। প্রায় ৩ বছরে ধরে আমি অভিনয়ের সাথে আছি। সবসময় চেষ্টা করি ভুরি ভুরি কাজ না করে অল্প কিছু ভাল কাজ করতে। অল্প কাজ করে যদি দর্শককে ভাল কিছু দিতে পারি তাহলে সেটিই আমার বড় প্রাপ্তি।

মিডিয়াতে কাজের শুরু…

ইরফান সাজ্জাদঃ ২০১৩ সালে রিয়েলিটি শো এর মাধ্যমেই আমার মিডিয়াতে পা দেয়া। তবে ছোটবেলা থেকেই এমন কাজ করার একটা ইচ্ছা ছিল। অনেক আগে থেকেই থিয়েটার করতাম। আসলে খুব আগ্রহ থেকেই স্কুলের সাংস্কৃতিক বিভাগের সব কিছুতেই অংশগ্রহণ করতাম। তখন থেকেই ধীরে ধীরে ইচ্ছার লালন হয়। বলতে পারেন আমি অনেকটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। সেই ইচ্ছে থেকেই আজ এখানে আমি। যদিও মাঝে একটা সময় বিরতি নিয়েছিলাম। সব কিছু থেকেই। এমনকি থিয়েটার থেকেও।

মিডিয়ায় কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে কতটা প্রস্তুত মনে করেন?

ইরফান সাজ্জাদঃ মিডিয়াতে কাজের ব্যাপারে আসলে আমার ইচ্ছা ছিল এবং আমার মনে হতো আমি এই কাজ করতে পারব। অনেকের ইচ্ছে থাকে না ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে তেমনটা আমারো ইচ্ছে ছিল মিডিয়াতে কাজ করব। যত দিন যাচ্ছে নিজেকে তত দক্ষ করার সুযোগ পাচ্ছি।

আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান কাজের পার্থক্য?

ইরফান সাজ্জাদঃ প্রথমে এককভাবে কাজ করতাম আর এখন কেমন কাজ করি, তা আমি অবশ্যই বুঝতে পারি। তখন আসলে চাইতাম কাজ আর কাজ। মানে কোনরকম কাজ পেলেই হলো, করব। তবে এখন সেটা করি না। এখন একটা কাজ করলে সেটা নিয়ে ভেবে ফিল্টার করতে চেষ্টা করি। একটা সুযোগ পাই কাজের অবস্থাটা বোঝার ও শুধরে ফেলার। কোন কাজ ভাল, কোনটা কেমন তার একটা মাপ করি।

কাজের ক্ষেত্রে পরিবারের সাপোর্ট…

ইরফান সাজ্জাদঃ কাজের প্রতি আসলে পরিবারের সবাই আমাকে খুব সহায়তা করেছে। অনেক সাপোর্ট করেছে এবং তারা সবাই আমার কাজে খুব খুশি।

ক্যামেরার সামনে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা…

ইরফান সাজ্জাদঃ আমার শুরুটা রিয়েলিটি শো দিয়ে। সে ক্ষেত্রে শো’তে অনেক বারই ক্যামেরার সামনাসামনি হতে হয়েছে। কিন্তু নাটকের কাজ করার সময় প্রথমবার কিছুটা নার্ভাসনেস তো অবশ্যই কাজ করেছিল। কারণ রিয়েলিটি শো’তে অভিজ্ঞতা ছিল অন্যরকম আর নাটকে কাজটা ভিন্ন। নাটকের ফ্রেম বুঝতাম না। তবে হ্যাঁ আমি নার্ভাস ছিলাম তবে উৎসাহের মাত্রাও কম ছিলো না।

সিনেমায় কাজের ইচ্ছে আছে?

ইরফান সাজ্জাদঃ আমি ৩টি সিনেমায় কাজ করেছি। একটি হল গুলজারের ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’; তানিয়া আপুর ‘ভালবাসা এমনি হয়’।

সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা…

ইরফান সাজ্জাদঃ সিনেমাতে কাজ করা আসলে অন্যরকম একটি ব্যাপার। মনে হয় যে, এটা করব ওটা করব কিন্তু কাজ শুরু করলে আর তা হয় না। বাস্তবে কাজটা বড় ব্যাপার। সেই ক্ষেত্রে আমি কিছুটা ফ্রাস্টেশনে ছিলাম।

কোন নায়িকার সাথে কাজ করতে আগ্রহী?

ইরফান সাজ্জাদঃ সিনেমায় কাজ পেলে তো অবশ্যই করব। তবে পরবর্তীতে আসলে কোন সিনেমা যদি করি সেক্ষেত্রে পছন্দের তালিকায় তেমন কোন নায়িকার নাম নেই, যার সাথে কিনা আমি কাজ করতে চাই বা আগ্রহী। নায়িকার জায়গা থেকে আসলে সত্যি বলতে আমি শুধু কাজ করতে চাই। আমার কথা হলো কাজ। আমি কাজ করব নায়িকা যেই হোক না কেন।

ব্যক্তি ইরফানের জীবনে স্পেশাল মানুষটি কে?

ইরফান সাজ্জাদঃ আমার জীবনে স্পেশাল বলতে একজনই আছে এবং সে অবশ্যই আমার স্ত্রী।

আপনাকে নিয়ে কোন মজার ঘটনা…

ইরফান সাজ্জাদঃ (হেসে) আমার সাথে প্রতিদিন প্রতি জায়গাতেই মজার মজার ঘটনা ঘটে। তাই কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবো ভেবে পাচ্ছি না। শুধু একটাই কথা বলবো, সবকিছু আমি খুব ইনজয় করি।

ইরফানের যে কথাটি সকলের অজানা?

ইরফান সাজ্জাদঃ আমি আসলে ভাইয়া বাইরে যেমন ভেতরেও ঠিক তেমন। আমার নিজের এমন কোন লুকিয়ে রাখার কিছু নেই কারো কাছে। আমার কাছের মানুষরা এবং আমার সাথে যারা কাজ করে তাঁরা জানে আমি কেমন।

ভক্তদের প্রতি একজন শিল্পীর কেমন মনোভাব থাকা উচিৎ?

ইরফান সাজ্জাদঃ অনেকেই অনেক অনেক ভক্তের সাথে তাল মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্যটা রাখতে পারে না তাই ইগ্নোর করে। আমি কিছুদিন আগে যশোরে যাই একটা শুটের কাজে, তো সেখানে প্রায় ২০০ মানুষকে আমার সামালাতে হয়েছিল। তাঁরা সবাই ছিল কো-আর্টিস্ট। সবার সাথে আমি যত সেলফি তুলেছি এতো সেলফি আমি আমার সারাজীবনেও তুলি নাই। এতগুলো মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলা, সেলফি তোলা আসলেই কঠিন। একজন আর্টিস্ট সে হয়ত নিজেও ক্লান্ত তার উপর ভক্তদের সময় দেয়া। আমার মতে ভক্তদের প্রতি একজন আর্টিস্টের ব্যবহারটা খুব সাধারণ হওয়া উচিৎ। নিজেকে আলাদা না করে তাঁদের মতো করেই কথা বলা উচিৎ।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইরফান সাজ্জাদঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

Advertisement

কমেন্টস