৮১ তে জহির রায়হান ! আছেন, থাকবেন…

প্রকাশঃ আগস্ট ১৯, ২০১৬

নিয়াজ শুভ।।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক প্রয়াত জহির রায়হান। এদেশের চলচ্চিত্রের তিনিই প্রথম সফল নির্মাতা। আজ তার ৮১তম জন্মদিন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুরে নিখোঁজ হন তিনি। জীবনের মায়া থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখলেও মানুষের মনে উজ্জ্বল এক স্মৃতি জহির রায়হান।

সাংবাদিক, কথাসাহিত্যিক, রাজনৈতিক কর্মী, চিত্রপরিচালক নানা পরিচয়ে নিজেকে তুলে ধরেছেন জহির রায়হান। বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারের সহযোগিতায় ছাত্রাবস্থায় বাম রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন তিনি। ১৯৫৩-১৯৫৪ সালের দিকে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এই কালজয়ী ব্যক্তিত্ব। সে সময় কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম নেতা মনি সিংহের দেয়া রাজনৈতিক নাম ’রায়হান’ গ্রহণ করেন তিনি। পারিবারিক নাম মোঃ জহির উল্লাহ’র সঙ্গে রাজনৈতিক নামটি যুক্ত হয়ে সকলের কাছে পরিচিত হলেন জহির রায়হান হিসেবে।

বাহান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণের দ্বারা এদেশে সৎ শিল্পীর ভূমিকা কী রকম হবে, জহির রায়হান তার প্রকৃত উদাহরণ হয়ে আছেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন।

জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেওয়া’তে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।

ব্যক্তিগত জীবনে দু’বার বিয়ে করেন জহির রায়হান। ১৯৬১ সালে সুমিতা দেবীকে এবং ১৯৬৬ সালে সুচন্দাকে। দুজনেই ছিলেন সে সময়কার বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

জহির রায়হানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (ঢাকা মহানগর সংসদ) আয়োজন করেছে ‘জহির রায়হান চলচ্চিত্র উৎসব’।

‘প্রতিরোধে প্রস্তুত ক্যামেরা’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে আজ (১৯ আগস্ট) দিনব্যাপী এই উৎসব চলছে। রাজধানী শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ উৎসব।

সকাল ১০টায় উৎসব উদ্বোধন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মানজারে হাসিন মুরাদ। অতিথি ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কামাল লোহানী, সহসভাপতি শংকর সাওজাল, জহির রায়হানের ভাই শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, ছেলে অনল রায়হান ও ভারতীয় নির্মাতা সৌমিত্র দস্তিদার।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলনের নানা পর্যায় ও ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করেছেন অতিথিরা। যাতে উঠে এসেছে জহির রায়হানের জীবন, কর্ম ও আদর্শের নানা দিক।

‘জহির রায়হান চলচ্চিত্র উৎসব’ এ থাকছে তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড, সৌমিত্র দস্তিদারের প্রামাণ্যচিত্র ‘এ লেটার টু মাই ডটার’, তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’, সেন্টু রায় নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘জহির রায়হান’, কামার আহমাদ সাইমনের ‘শুনতে কি পাও’ এবং উদীচী কেন্দ্রীয় চারুকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের তৈরি করা প্রামাণ্যচিত্র ‘ক্ষতচিহ্ন’।

Advertisement

কমেন্টস