কাজ শেষে বাসায় আসলে আফসোস হয়ঃ মুকুল সিরাজ

প্রকাশঃ জুলাই ২৬, ২০১৬

‘তরিক আলী হায়দার’ নাটকের মাধ্যমে মিডিয়ার ঝলমলে জগতে তার পদার্পণ। ক্যারিয়ারের শুরুতেই নোয়াখালির আঞ্চলিক ভাষায় পর্দায় আটকে দেন সকলের দৃষ্টি।  বিভিন্ন চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়ে দর্শক মাতানোই যার একমাত্র লক্ষ্য। তিনি সকলের প্রিয় মুকুল সিরাজ। অভিনয়, অফিস দুটো জায়গায় সামলাচ্ছেন দক্ষ হাতে। সম্প্রতি তার কাজের ব্যস্ততা এবং ব্যক্তি মুকুলকে নিয়ে কথা হলো বিডিমর্নিং এর সাথে। সাক্ষাতে ছিলেন নিয়াজ শুভ-

কেমন আছেন?

মুকুল সিরাজঃ ভালো।

ব্যস্ততা কেমন চলছে?

মুকুল সিরাজঃ বাংলা ভিশনে সহযাত্রী, মাছারাঙ্গা টিভিতে নবরাত্রি, জিটিভিতে ডেইলি ফ্রাইড নাইট এই মিলিয়ে মোটামোটি ৫টার মত সিরিয়ালে কাজ করছি।  আরো ৫-৬ টির কাজ হচ্ছে। অফিস, অভিনয় দুটো একসাথে চালিয়ে যাচ্ছি। সকালে বাসা থেকে বের হই, ফিরতে ফিরতে গভীর রাত হয়ে যায়। আসলে কাজকে ভালোবাসলে তা মানিয়ে নেয়া কঠিন কিছু না। সবমিলিয়ে বলা যায় বেশ ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে।

চাকরি জীবনের শুরু…

মুকুল সিরাজঃ আমার চাকরি জীবনের শুরু add.com  থেকে। ১৯৯৭-৯৯ পর্যন্ত কাজ করতে পেরেছিলাম এরপর আর চাকরিটা থাকল না।

অভিনয়ে আসাটা কি চাকরি চলে যাওয়ার কারণে?

মুকুল সিরাজঃ আসলে স্কুল জীবনেই অভিনয় করার ইচ্ছাটা জাগে। মূলত বীজটা তখনি শুরু হয়। আমার স্কুলের এক বন্ধু ছিল যে কিনা এখন মিডিয়া জগতে সু-প্রতিষ্ঠিত। তখন আমি থাকতাম শাহজাহানপুর। সেখানেই আবু মকবুল শিকদার স্কুলে আমরা পড়াশুনা করতাম। তো একবার স্কুলে এক নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাটকের একটি চরিত্রে কাজ করতে আমার নাম দিয়ে দেয় সেই বন্ধু। আমি একদিনই রিহার্সালে যাই কিন্তু পরে আর কাজটা করা হয় না। কারণ পরের দিন থেকে আমার পক্স হয়।

মিডিয়ায় আসার গল্পটা…

মুকুল সিরাজঃ আমার যে বন্ধু স্কুলে আমাকে অভিনয়ে উদ্বুদ্ধ করতো সেই আবার আমাকে জানায় বিলাল আহমেদ একটা নাটক করছেন নোয়াখালি অঞ্চলের ভাষায়। নাটকের নাম ‘তরিক আলী হায়দার’। আমি নোয়াখালির ভাষা মোটামুটি ভালোই পারতাম। তাই বন্ধু চাচ্ছিলো আমি সেই নাটকে কাজ করি। যদিও নাটকটি দীর্ঘ ছিল কিন্তু আমি যেই চরিত্রে ছিলাম সেটার মাত্র তিনদিনের শুট। অল্প কয়েকটা অংশে আমি থাকব।

তারপর…

মুকুল সিরাজঃ প্রথমদিন শুটিংয়ের পর জানতে পারলাম আমার চরিত্রটা বিশেষভাবে আনা হয়েছে। প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আমি স্থান পেয়েছি। এর একমাত্র কারণ আমি নোয়াখালির ভাষা বাকিদের থেকে ভালোই পারতাম। তখনি শুরু কাজের কাহিনী।

ক্যামেরার সামনে প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা…

মুকুল সিরাজঃ প্রথম ক্যামেরার সামনে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল ভয়াবহ। আমার কো-আর্টিস্ট ছিলেন অনন্যা রুমা। যেহেতু তিনি আগেও কাজ করেছেন, সিনিয়র তার সাথে কাজ করতে একটু নার্ভাসনেস ছিল। বর্তমানে রুমা চ্যানেল আইয়ে আছেন।

নিজের কাজে আপনি কি পরিতৃপ্ত?

মুকুল সিরাজঃ আমার মধ্যে খুব আত্মবিশ্বাস কাজ করতো, যে আমি পারবো। কিন্তু যতই ভালো রিহার্সাল করি না কেন ক্যামেরার সামনে জড়তা কাজ করতই। রিহার্সালের মত ভাল কাজ দিতে পারতাম না। মনের মত হতো না। এমনকি এখনো আমার এমন হয়। কাজের পর বাসায় যখন ফিরি মনে হয় যে, ইশ…ওই শটটা ওভাবে না করে এভাবে করলে আরো ভাল হত।

নিজেকে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

মুকুল সিরাজঃ আমি এখন পর্যন্ত নিজেকে নিজে মূল্যায়ন করে ভাল খারাপ বলতে পারি না। কখনো পারবোও না। কাজ শেষে বাসায় আসলে আফসোস হয় যে কি করলাম এটা। লোকজন আমাকে দেখে দয়া করে কাজে নেয়। আমি তাদের কাজটা পারি নাই। এমনই মনে হয়।

মিডিয়া জগতকে কেন বেছে নিলেন?

মুকুল সিরাজঃ আমার কিন্তু কখনোই ইচ্ছা ছিল না যে আমি মিডিয়াতে কাজ করবো। আমরা ইচ্ছেটা অভিনয় করার। কিন্তু অভিনয় করে যে মোটামোটি ভালোই টাকা উপার্জন করা যায়, সে বিষয় জানতাম না (মুখে হাসি)।

নতুনদের সাথে কাজ করতে কেমন লাগছে?

মুকুল সিরাজঃ নতুনদের সাথে কাজ করতে আমরা বেশ ভালো লাগে। ওদের থেকে অনেক কিছুই শেখা যায়। এরা এতটাই বেশি জানে ও জ্ঞান রাখে। ওরা অনেক পারে। আমার মনে হয় আমিও নতুন। সবসময়ই শিখছি। এরা এত বেশি সিনেমা, নাটক দেখে যে অনেক কিছুই তারা নতুনভাবে তাদের মত দিয়ে উপস্থাপন করতে পারে। নতুনদের থেকে ভাল কিছু পাওয়ার আশা করি সবসময়।

নাটকের বর্তমান অবস্থা কেমন?

মুকুল সিরাজঃ আজকাল বেশির ভাগই ক্রাইম ফিকশন কাজ করছে। দর্শক যেমন চাচ্ছে। দর্শকদের আগে সিরিয়ালের প্রতি ঝোঁক থাকলেও এখন তারা চায় ১ ঘন্টার ছোট নাটক। যার মাধ্যমে তারা একবারেই পুরো কাহিনী জেনে নিতে পারে।

নাটকের সঙ্গে সিনেমার পার্থক্যকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

মুকুল সিরাজঃ সিনেমা ও নাটকের কাজের অনেক পার্থক্য থাকে। কাস্টিংয়ে মিল থাকলেও এতে অনেক বিধি নিষেধাজ্ঞা থাকে।

বিবাহিত জীবন কেমন কাটছে?

মুকুল সিরাজঃ পরিবারের সবার সম্মতিতেই আমাদের বিয়ে হয়। লাভ মেরেজ ঠিক না তবে ৫০% ৫০%। আমারো ভালো লেগেছে পরিবারকে জানানোর পর তারাও পছন্দ করেন। তাই বিয়েটা করে ফেলি। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই বাবু আসে সংসারে। আল্লাহ্‌র রহমতে এখন বেশ সুখে আছি।

এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

মুকুল সিরাজঃ আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

Advertisement

কমেন্টস